প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ৮:৩৪ পিএম

করোনা মহামারীতে আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দুর্গাপূজার পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচির ঠিক আগ মূহুর্ত থেকেই নিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তুষ্টি বিরাজ করছে।

চলতি বছরের ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এদিকে ১২ অক্টোবর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। ৫ দিনের পূজার বিপরীতে ছুটি মাত্র ২ দিন। পরিসংখ্যান বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ ষষ্ঠী পূজাতেও পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।

তাদের ভাষ্যমতে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আর সকল সনাতনী শিক্ষার্থীরা এই পূজাকে কেন্দ্র করে অনেক পরিকল্পনা করে থাকে। পরিবারের সাথে পূজায় সময় কাটাবে। করোনার জন্য দীর্ঘ দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় যদি বন্ধ থাকতে পারে তাহলে পূজার ১ সপ্তাহ পরে পরীক্ষা নিলেই হতো। এতে গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ঢাকায় মেস খুজে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সময় পেত। আর সনাতনী শিক্ষার্থীরা পরিবারের সাথে পূজার আনন্দও ভাগাভাগি করতে পারতো।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রায় সানি বলেন, “আমার মতে পরীক্ষার রুটিন গুলো শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়া উচিৎ। এটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত চিন্তার জায়গা। ক্লাস প্রতিনিধিত্ব যারা করে তাদেরকে একবার জিজ্ঞেস করা উচিৎ যে তারা কমফোর্টেবল কিনা ঐ ডেটে এক্সাম দিতে। যদিও এমনটা করা হয়না। তবে শুধুমাত্র পূজার জন্য না, যেকোন ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাঝখানে এক্সাম ডেইট ফিক্স করা সেই সেই ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সমতুল্য বলে আমি মনে করি। অনতিবিলম্বে যে কোন ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আগ মুহূর্তে পরীক্ষার ডেইট দেওয়া বন্ধ করার জোর দাবী জানাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পিয়াল দাস অনুপ বলেন, “সনাতন ধর্মের প্রধান উৎসব হচ্ছে দূর্গা পূজা। দেবী দূর্গার আগমন বাঙালির হৃদয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের জন্ম দেয়। চারদিকে পূজার আমেজ আর ঢাকের শব্দ মনে এক অদ্ভুত আনন্দ দেয়। কিন্তু এত দিন করোনার কারণে বন্ধ থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক পূজার আগ মূহুর্তে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। যা একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে মেনে নিতে খুব খারাপ লাগে। কারণ একদিকে পরীক্ষার একটা চাপ আর অন্য দিকে পূজার আনন্দ একসাথে সম্ভব নয়। তবে যেহেতু এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিলো তাই পূজার পরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা ভালো হতো। পূজা আর পরীক্ষা সময়সূচি একসাথে হয়ে একটু বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তা আদৌ কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা নিয়ে আজো অনেকে দ্বিধান্বিত।

গণিত বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভাশীষ মন্ডল শুভ বলেন, গত বছর তো করোনার কারণে বাড়ি গেলাম না আর এবার পরীক্ষার জন্য যাওয়া হবেনা। ৭ তারিখ একটা পরীক্ষা মাঝে পূজা তারপর আবার দশমীর পরদিন পরীক্ষা। কিভাবে বাড়ি যাই তবে। আর পরীক্ষার জন্য পড়া তো লাগবেই। প্রশাসন চাইলে পরীক্ষাটা একবারে পূজার এক সপ্তাহ পরে শুরু করতে পারতো। তাতে মনে হয়না খুব বেশি ক্ষতি হবে।

এদিকে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের দুইটি পরীক্ষা পূজার নির্ধারিত ছুটির দিনে দেওয়া হয়েছে। ১২ অক্টোবর ফিজিক্যাল জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ এবং ১৪ অক্টোবর পপুলেশন জিওগ্রাফি নামক কোর্স দুটির পরীক্ষার কথা রুটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “পূজার মধ্যে পরীক্ষা দিলে হবেনাতো। মানে পূজার মধ্যে কোনো পরীক্ষা হবেনা। আমি ডিন, আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয় নাই। রুটিন আমাকে দেওয়ার কথা। কিন্তু এখনো ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে রুটিন দেয় নাই। এজন্য আমি এটা বলতে পারছি না। আমি এটা খোঁজ নিবো। আর পূজার মধ্যে কোনো পরীক্ষার ডেট থাকলে তা সংশোধন করা হবে।”

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস বলেন, পূজার মধ্যে তো কোনোভাবে পরীক্ষা দেওয়া উচিত না। পূজার কমপক্ষে তিন থেকে চারদিন আগে এবং পূজার তিন থেকে চারদিন পরে পরীক্ষা দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে আমার মতে ৮ অক্টোবরের পরে পরীক্ষা দেওয়া যাবেনা। আবার ১৮ অক্টোবরের আগেও পরীক্ষা দেওয়া যাবেনা।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. অরুন কুমার গোস্বামী বলেন, “পরীক্ষা হবে পূজাও হবে। যে পরীক্ষার্থী, তার মাথায় পরীক্ষা এবং পূজা দুইটাই থাকবে। আমি যেটা বলি, পরীক্ষার ডেটটা পূজার তিনদিন পর হলে পরীক্ষার্থী ধর্মীয় নিয়মনীতি পালন করার সুযোগ পাবে। আর যেহেতু শিক্ষার্থীদের ইতিমধ্যে দেড় বছর সময় নষ্ট হয়েছে, এটাও চিন্তা করতে হবে।”

শেয়ার

পাঠকের মতামত

 যুক্তরাষ্ট্রের সিএইএস এর সাথে যবিপ্রবির এনএএমই ল্যাবের সমঝোতা

ন্যানোপ্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি উদ্ভাবন ও গবেষণায় যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য কানেকটিকাট এগ্রিকালচারাল এক্সপেরিমেন্ট ...

বাকৃবির গবেষণা বাংলাদেশে প্রথম দেশীয় ট্রাইকোডার্মা ভিত্তিক জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন

দীর্ঘ ২৫ বছরের নিরলস গবেষণার পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দেশীয় প্রযুক্তিতে জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন করেছেন ...

পাটশিল্পের স্বর্ণযুগ ফেরাতে যবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থীর এআই অ্যাপ ‘ম্যাটেরিও’

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাটকে আধুনিক শিল্পে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক “এআই” একটি উদ্ভাবনী ...

পাবিপ্রবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি ১ জন

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে র‍্যাগিংয়ের ...

ক্লিন ক্যাম্পাসের অংশ হিসেবে প্রশাসনের উদ্যোগে ইবিতে ডাস্টবিন স্থাপন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ার লক্ষ্যে ক্লিন ক্যাম্পাসের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ...

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে আরএইচস্টেপের কর্মশালা

তরুণদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ...