ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপি

বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে প্রতারণা করল দেশবন্ধু গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৫ ৬:০৮ পিএম

# প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ৯৬৮ কোটি টাকা
# সম্প্রতি নীতি সহায়তা পাওয়া আড়াইশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে দেশবন্ধু গ্রুপও

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব ব্যবসায়ী গ্রুপ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেয়নি তাদের মধ্যে অন্যতম হল দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী গ্রুপ দেশবন্ধু। এই ব্যাংকটি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। সব ঋণই এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দেশবন্ধু গ্রুপ হল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপি।

জানা গেছে, দেশবন্ধু গ্রুপ হল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখার বিনিয়োগ গ্রহীতা। এটার খেলাপি ঋণের বর্তমান স্থিতি ১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু সুগার মিলস লি., দেশবন্ধু ফুড এন্ড বেভারেজ লি., দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলস, সাউথইস্ট সোয়েটার্স লি. এবং এম. আর. ট্রেডিং-এর নামে বিনিয়োগগুলো বিতরণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত না দেয়ায় বর্তমানে তা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের অনেক খেলাপি ঋণ আড়াল করে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সব কিছু পাল্টে যায়। ধসেপড়া ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রম শুরুর পর বেরিয়ে আসতে থাকে প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র।

সম্প্রতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এটার খেলাপি গ্রাহকদের একটি তালিকা করেছে। দেখা গেছে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দেশবন্ধু গ্রুপের প্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু সুগার মিলস লি.। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ হল ৯৬৮ কোটি ৫ লাখ টাকা। দেশবন্ধু গ্রুপটির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু সুগার মিলস ২০১৭ সাল থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে লেনদেন করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি যে আড়াইশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পুন:তফসিলের সুযোগ দিয়েছে এর মধ্যে দেশবন্ধু গ্রুপও রয়েছে। এই গ্রুপটি একাধিক ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছে না। এখন তাদেরকে নীতি সহায়তা দেয়ার একটা খারাপ প্রভাব পড়বে ব্যাংক খাতে। যারা ভাল ব্যবসায়ী তারাও এখন তাদের মতো করবে।

এ বিষয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, দেশবন্ধু থেকে টাকা আদায়ে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নাই। কিন্তু তারা টাকা ফেরত দিতে গরিমসি করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, সরকারের কাছ থেকে দেশবন্ধু গ্রুপ কখনো অবৈধ সুবিধা নেয়নি। দেশবন্ধু গ্রুপ সব সময় নিয়ম-কানুন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। দেশবন্ধু গ্রুপ যে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে নিয়মিত ব্যবসা করে আসছিলো। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সে সব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে খেলাপিও করে। কিন্তু দেশবন্ধু গ্রুপের পক্ষ থেকে ঋণ রিসিডিউল করাসহ ব্যবসা পুন:রায় চালুর আবেদন করলেও তাদের পক্ষ থেকে পজেটিভ সাড়া পাওয়া যায়নি। যে কারনে বর্তমানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৮০ টি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পুন:তফসিল সুযোগ দিয়েছে। তবে এ তথ্য আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক আমরা এখনো পর্যন্ত কোনো চিঠি হাতে পায়নি।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক যদি দেশবন্ধু গ্রুপকে ঋণ-পুন:তফসিল করে স্বাভাবিক ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে সহায়তা করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো যদি প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সুবিধা দেয়, তাহলে দেশবন্ধু গ্রুপের ২৭ টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং পরোক্ষভাবে আরো ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঠিক থাকবে। পাশাপাশি দেশের আর্থিক খাতকে আরো শক্তিশালী করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে দেশ ও জনগণের বন্ধ দেশবন্ধু গ্রুপ।

গোলাম রহমান আরো বলেন, দেশবন্ধু সুগার মিলে বিএমআরই করে কারখানার নতুন-পুরাতন যন্ত্রপাতির সংমিশ্রণে আশানুরুপ আউটপুট হয়নি। একারণেও বড় ধরনের লসে পড়ে গ্রুপটি। এছাড়া ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠে। একই সাথে ডলারেরও উচ্চ মূল্য ৮৪ টাকার ডলার ১২৩ টাকা পর্যন্ত মূল্যে পরিশোধ করতে হয়েছে। যার কারণে দেশবন্ধু গ্রুপের লোকসান হয় ৮২৫ কোটি টাকা। যার পরিমান বর্তমানে সুদসহ অনেক বেড়েছে।

গোলাম রহমান বলেন, দেশবন্ধু গ্রুপ ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে ব্যবসা শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়। এর থেকে আবার পরিশোধ করে ১২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। বর্তমানে লোন রয়েছে মাত্র সুদ বাদে ১২৭৮ কোটি টাকা। অথচ বর্তমানে দেশবন্ধু গ্রুপের সম্পদ রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার। যা আর্ন্তজাতিক অডিট ফার্ম আরনেস্ট অ্যান্ড ইয়ান কর্তৃক অডিট করা।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এআইর ব্যবহার সম্ভাবনাময়

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ব্লকচেইনের ব্যবহার সম্ভাবনাময় বলে জানিয়েছেন আলোচকরা। শনিবার (১৯ জুলাই) ...

এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ ও ক্রয়ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে টিসিবি

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং সরকারি ...

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানিতে বেপজার অবদান সাড়ে ১৭ শতাংশ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও দেশের সামগ্রিক রপ্তানি হ্রাসের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন ...

ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় যাবে আর্থিক সেবা : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে মানুষের সেবা ...

বাজার মনিটরিং আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার তাগিদ বাণিজ্য সচিবের

বাজার মনিটরিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়, আন্তরিক সহযোগিতা ...