
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক জটিল ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হারজনিত চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাড়তি দায় এবং বিনিয়োগে মন্থর গতির কারণে দেশের অর্থনীতি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। একই সময়ে সরকারকে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা যাবে না। এটি একদিকে বর্তমান সংকট মোকাবিলার একটি নীতিগত কৌশল, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা। বাজেট নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, বাজেট ঘাটতির অর্থায়ন, ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ একটি বাজেটের সফলতা শুধু তার দুর্বলতায় নয়, বরং তার উন্নয়ন দর্শন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার মধ্যেও নিহিত থাকে।
এবারের বাজেটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের অগ্রাধিকার। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী। খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের ব্যয় বৃদ্ধি তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এই বাস্তবতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিস্তৃতি নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সহায়তা করবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি শুধু কল্যাণমূলক উদ্যোগ নয়; এটি অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিরও একটি কার্যকর মাধ্যম। কারণ দরিদ্র মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ গেলে তা সরাসরি বাজারে ব্যয় হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের ব্যয় সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
কৃষি খাতকে গুরুত্ব দেওয়াও বাজেটের অন্যতম শক্তিশালী দিক। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে কৃষি সরাসরি সম্পর্কিত। যদিও কৃষির জিডিপিতে অবদান ক্রমান্বয়ে কমছে, তবুও দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের জীবিকা এখনো এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, কৃষিজমি হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন।
এ অবস্থায় কৃষি ভর্তুকি অব্যাহত রাখা, কৃষিঋণের সহজ প্রাপ্যতা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত বীজ সরবরাহ, কৃষি গবেষণা এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বারবার সতর্ক করে বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সেই বাস্তবতায় দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য আমদানির চাপ কমাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বাজেটের দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ জনগোষ্ঠী। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ কর্মক্ষম বয়সের। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে একে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বলা হয়। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
বাজেটে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, রোবটিক্স এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দশকে লক্ষ লক্ষ প্রচলিত চাকরি বিলুপ্ত হবে এবং নতুন ধরনের দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এখন সময়ের দাবি। দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে বিদেশে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশীয় শিল্পেও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
স্বাস্থ্য খাতেও সরকারের অগ্রাধিকার লক্ষণীয়। করোনা মহামারি বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে, একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেবল জনকল্যাণ নয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তারও পূর্বশর্ত। বাজেটে হাসপাতাল অবকাঠামো উন্নয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয়ের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী হলে এই চাপ অনেকাংশে কমবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নও এবারের বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগ সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফলে শিক্ষিত বেকারত্ব একটি বড় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), স্টার্টআপ, যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ এসএমই খাত থেকে সৃষ্টি হয়। তাই এই খাতে সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তোলার সংস্কৃতিও শক্তিশালী হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও বাজেটের একটি বড় শক্তি। গত এক দশকে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এবারের বাজেটেও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বন্দর এবং লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অবকাঠামো উন্নয়ন উৎপাদন ব্যয় কমায়, ব্যবসার গতি বাড়ায় এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করে। বিশেষ করে রেলপথ, সমুদ্রবন্দর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংযোগকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের প্রতি সরকারের মনোযোগও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাত বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সফটওয়্যার রপ্তানি, ফ্রিল্যান্সিং, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), ই-কমার্স এবং ডিজিটাল সেবা খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও ক্রমশ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফ্রিল্যান্সার জনশক্তির দেশ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। বাজেটে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হবে।
রাজস্ব সংস্কার এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন বাজেটের আরেকটি ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। ফলে উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। ডিজিটাল করব্যবস্থা, অনলাইন রিটার্ন, ই-চালান এবং স্বয়ংক্রিয় কর ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ কর ফাঁকি কমাতে এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে করদাতাদের হয়রানি কমবে এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টাও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ অপরিহার্য। বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল, কৃষিভিত্তিক শিল্প, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হতে পারে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই অতিনির্ভরতা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ওষুধ, চামড়া, পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নে বাজেটের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ সফল হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসও বহুমাত্রিক হবে।
একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমানে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য উন্নত অর্থনীতিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে রেমিট্যান্স আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতিও বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা কমে যাবে। সেই বাস্তবতায় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদন দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটি সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী পদক্ষেপ।
সবশেষে বলা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিখুঁত নয়। এর বাস্তবায়ন, রাজস্ব আহরণ, বাজেট ঘাটতির অর্থায়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো—বাজেটটি শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করেনি; বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ভিত্তি নির্মাণেরও একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির মতো খাতগুলোতে যে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, উৎপাদনমুখী ও টেকসই অর্থনীতির স্বপ্নকেই প্রতিফলিত করে।
এখন প্রয়োজন দক্ষ বাস্তবায়ন, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। কারণ বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে ঘোষণার ওপর নয়, বাস্তবায়নের ওপর। ঘোষিত কর্মসূচিগুলো যদি স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, তবে সংকটের এই সময়েও বাজেট ২০২৬-২৭ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে। তখন এই বাজেট শুধু একটি আর্থিক দলিল হিসেবেই নয়, বরং একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণের দলিল হিসেবেও বিবেচিত হবে।
লেখক : মো. সহিদুল ইসলাম সুমন,অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
E-mail: msislam.sumon@gmail.com
- ১মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও ছাড় নয়: ডিআইজি
- ২ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৩লোকসানী শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর এক মাসে বেড়েছে ৬৮ শতাংশ
- ৪স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম
- ৫পোশাকশিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- ৬পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- ৭বন্যাকবলিত ৩ হাজার ৫০ পরিবারকে ত্রাণ দিল শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন
- ৮সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা
- ৯‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে বৈদেশিক সম্পর্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ১০মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু
- ১এক মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি
- ২একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
- ৩ভরা মৌসুমে চাঁদপুরে মাছঘাটে প্রচুর পাঙ্গাস আমদানি
- ৪এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
- ৫মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান
- ৬শ্রীপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে স্থানীয়দের ড্রেন নির্মাণ
- ৭সবার জন্য চালু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’: আইসিটিমন্ত্রী
- ৮স্থানীয় সরকার কার্যকর হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হবে
- ৯অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ
- ১০আস্থাহীন পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পারবে কি নতুন কমিশন?





পাঠকের মতামত