প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২২ ৭:৩৩ পিএম , আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২২ ১১:২৬ এএম

যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্যে দিয়ে মেহেরপুরে ঐতিহাসিক ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। রবিবার সকালে মেহেরপুরের মুজিবনগর আম্রকান শেখ হাসিনা মঞ্চে বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা আজকের স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করেন তারাই ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছিল। কারাগারের অন্ধকার জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল। যেটি মানবতার ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা।

সমাবেশে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, পলাশীর আম্রকাননের যে সূর্য অস্তমিত গিয়েছিল ঠিক তারপর ১৯৭১ সালে এই মুজিবনগর আম্রকাননে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ১৯৪৭ সালে যে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল, সেদিন যখন ৫৬ ভাগ লোকের মায়ের ভাষা বাংলাকে ওরা অস্বীকার করেছিল। সেই দিনই তরুন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন ইংরেজি শাসক শাসনের পরিবর্তে পাকিস্তানের শাসক শাসন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ কখনো মুক্তি হবে না।

মোজাম্মেল হক বলেন, বাংলাদেশ মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সংগ্রাম শুরু করেন। তারপর ধাপে ধাপে ভাষা আন্দোলন,যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান।তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫১ বছরের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতা ছিলেন সাড়ে তিন বছর।

জননেত্রী শেখ হাসিনা সাড়ে ১৮ বছর ক্ষমতায় রয়েছেন। বেশী সময়ে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনা করেছেন বেশিরভাগ সময়। তারা দেশ পরিচালনা করলেও তারা দেশের জন্য কি করেছে, কী উন্নয়ন করেছে। আর বর্তমান সরকার দেশের জন্য কী উন্নয়ন করেছে তা আপনারাই বিচার করবেন।

সমাবেশে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের এই পবিত্র মাটিতে শপথ গ্রহণের পরপরই সমগ্র বাঙালি জাতি জেগে উঠেছিল। তার পরের ইতিহাস ৯ মাসের রক্ত ক্ষয় যুদ্ধ, ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আরো বলেন, ৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এর পর থেকেই প্রতিবছর এই মুজিবনগরে যথাযথভাবে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন আজকে আমাদের বড় লজ্জা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া জামাত -বিএনপি এই মহান দিবসটি পালন করে না। তারা নিজেদেরকে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি হিসেবে দাবি করলেও এই দিবসটি তারা কখনোই পালন করে না। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির দপ্তর সম্পাদক আমজাদ হোসেন, সাঈদ খান, সদস্য পারভিন জামান কল্পনা।

 

 

শেয়ার

পাঠকের মতামত

জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান শেষ, মালামাল জব্দ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের ‌‘জয়িতা’ নামের আটতলা বাড়িতে অভিযান ...

টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সবজির বাজারে অস্থিরতা

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জসহ বিভিন্ন ...

৯৯৯-এ ফোনে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১০ শিক্ষার্থী উদ্ধার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতর হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ১০ জন পর্যটককে কমলগঞ্জ ...

সরিষাবাড়ীতে কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ কাজের উদ্বোধন

​জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় রাস্তা ইটের সলিং করণ এবং পানি নিষ্কাশনের ...