তিমির বনিক
প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১০:৪৬ এএম

বর্ষা এলেই টিলা-পাহাড়ঘেরা মৌলভীবাজারে দেখা দেয় টিলাধসের আতঙ্ক। জেলার সাত উপজেলার টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। গত চার বছরে টিলাধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া এলাকায় টিলার একটি অংশ ধসে পড়েছে। এরই মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ওই এলাকায় বসবাস করছে একটি পরিবার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টি হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের টিলাধস হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় বিস্তীর্ণ টিলা ও পাহাড়ি এলাকা রয়েছে। এসব এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে। তবে সারা বছরই বিভিন্ন স্থানে টিলা কাটা হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে টিলাধসের ঝুঁকি।

শ্রীমঙ্গলের রাধানগর, মহাজিরাবাদ ও কমলগঞ্জের কালেঙ্গা এলাকায়ও টিলাধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা না থাকায় টিলা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে টিলার ওপর ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া এলাকার বাসিন্দা সবিতা তাঁতী, শশী তাঁতী, ফ্রান্সিস কন্দ ও জয়ন্তী তাঁতী বলেন, প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। তবু যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। এবারও বসতির পাশের পাহাড়ে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় ধসে সবকিছু ভেসে যেতে পারে।

তারা জানান, তিন বছর আগে পাশের টিলা ধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। তাদের বসতির টিলার মাটিও এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা-বাগানে টিলা ধসে চার নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। একই বছর কুলাউড়ার ভাটেরায় পাহাড়ধসে একই গ্রামের তিন শিশু এবং চাতলাপুর চা-বাগানে আরও এক নারী মারা যান। ২০২৪ সালে কমলগঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালেঞ্জি খাসিয়াপুঞ্জিতে কাজ করার সময় টিলাধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গৃহস্থালির কাজে টিলার মাটি আনতে গিয়ে মাটিচাপায় এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, যারা টিলা কাটে, তারা পরিবেশ ও প্রতিবেশ—দুটিরই ক্ষতি করছে। টিলা কাটার কারণে নিয়মিত ধস নামছে এবং এসব ঘটনায় প্রতিবছর মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। টিলা রক্ষায় সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাঈদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। টিলা কাটার অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বর্ষার শুরু থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, টিলাধসে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি জনপদে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযানও চালানো হচ্ছে।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

কুড়িগ্রামে বাসে হামলার প্রতিবাদে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

শুক্রবার রাতে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে হামলা, ভাঙচুর এবং চালক-সুপারভাইজার-হেলপারকে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ...

কয়রায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সদস্য মনোনয়নে বিতর্ক

খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্যাটাগরির সদস্য ...