প্রকাশিত: জানুয়ারী ১, ২০২৪ ৫:৫৫ পিএম

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জরিী বিভাগে বিভিন্ন আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা সেবায় সংকট দেখা দিয়েছে। জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর অপ্রতুল

পাশাপাশি শয়্যা সংকটও রয়েছে। মানুষের অসচেনতার কারণে প্রতিদি আগুনে পোড়া দগ্ধ রোগীদের সংখ্যা বাড়লেও অসহায় ও গরীব রোগীরা অর্থের অভাবে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা ঠিকমতো করাতে পারছে না।

 

হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জরিী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকেরা জানান, মানুষ যতদিন সচেতন হবেনা ততদিন আগুনে পোড়া রোগীর সংখ্যা কমবে না। বিশেষ করে শীতের সময় এই রোগীর সংখ্যা প্রতিনি বাড়তে থাকে। রংপুর বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে শুধুমাত্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জরিী বিভাগে রয়েছে। প্রতিবছর শীত মৌসুমে এই বিভাগের ৮ জেলার প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে থাকেন বলে তারা জানান।

 

হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জরিী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ শয্যার বিপরীতে এই বিভাগে সোমবার দুপুর পর্যন্ত রোগী হয়েছেন ৪২ জন। তারা অসচেনতা বশত বিভিন্ন ভাবে আগুনে দগ্ধ হচ্ছে। এর মধ্যে আগুনে পোড়া, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, ছাইয়ের স্তুপে পোড়া, শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নছিমন করিমন দূর্ঘটনায় গরম পানিতে ঝলসে যাওয়া।

 

এসব দূর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে নভেম্বর মাসে ২ জন ও ডিসেম্বর মাসে ৪ জন রয়েছে। এরা হলেন গাইবান্ধা জেলার গবিন্দগঞ্জ উপজেলার সরওয়ার হোসেনের স্ত্রী লাকী বেগম (৩০), নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা এলাকার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী পারভিন আক্তার (৪৫), রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকার সোহেল মিয়ার শিশু কন্যা সাদিকা (৩), রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার এরশাদুলের স্ত্রী রাহেলা খাতুন (৩৬), দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার মৃত রাজু মিয়ার ছেলে সামছুল হক (৭০) ও একই জেলার খেদমতপুর এলাকার মৃত আছির উদ্দিনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন (৮০)।

 

হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের অবস্থাও আশংকা জনক। এদের অনেকে ৪৫ থেকে ৬০ ভাগ দগ্ধ হয়েছেন।

 

হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জরিী বিভাগের ইনচার্জ, ডাঃ মোঃ শাহীন শাহ জানালেন, দগ্ধ হয়ে যেসকল রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখানে রয়েছেন তাদেও অধিকাংশ অসচেনতার কারণে দদ্ধ হয়েছেন। কিন্ত জনবল সংকট ও চিকিৎসা সামগ্রীর অপ্রতুলতার কারণে এসব রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আমাদের হিমসীম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৪ শয্যার এই বিভাগে তিনগুণ রোগীর খাদ্য সরবরাহে নানা সংকট দেখা দিয়েছে।

 

এব্যাপাারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ ইফনুস আলী জানান, চিকিৎসা সামগ্রীর কিছুটা সংকট রয়েছে। আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে তা থাকবে না। এয়াড়া ওই বিভাগে আর কোন সংকট আমি দেখছি না বলে জানান তিনি।

 

শেয়ার

পাঠকের মতামত

প্রতিমন্ত্রী টুকু শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে  

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আজকের কৃতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ...

পদ্মা সেতু-রেল সংযোগের সুফলও কাজে লাগছে না নাব্যতা সংকট ও কাস্টমস জটিলতায় ধুঁকছে মোংলা বন্দর

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সংলগ্ন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর ...

সরকার গঠন করেই তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছেন: খোকন তালুকদার

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ...

রাজনগরে যাবজ্জীবন সাজা ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের রাজনগর থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি টোকন ওরফে ...

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, ফেরত পাঠালো বিজিবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে। তবে বর্ডার ...