
সরকার প্রতিবছর ঘাটতি বাজেট মেটাতে সঞ্চয়পত্র ও ট্রেজারি বন্ড ও বিল বিক্রি করে টাকা ধার করে থাকে। ভালো মুনাফা ও শতভাগ নিরাপদ হওয়ায় গ্রাহকরা ব্যাংকগুলোতে এফডিআর কমিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনায় আগ্রহী। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এই অংক গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়েও প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। যদিও এ অর্থবছরের সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। যা বছরের প্রথম নয় মাসেই লক্ষ্যমাত্রা পরিপূর্ণ।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা মহামারিতে মানুষের আয় কমে গেছে। তাছাড়া মুনাফার ওপর করের হার বৃদ্ধি এবং নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের পরও সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কেন এত চাহিদা অর্থনীতিবিদেরা তার সুনির্দিষ্ট কারণ পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবং অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলো মাত্র ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে আমানত রাখছে। এছাড়া গড়ে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ছয় শতাংশের কাছাকাছি। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে ১১থেকে ১২ শতাংশ সুদ ও নিরাপদ বিবেচনায় মানুষ সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছে। এক্ষেত্রে সরকারের একটা সিলিং থাকা উচিত এমন পরিমাণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করবে যারা বাহিরে যাওয়া যাবেনা।
সঞ্চয়পত্র লক্ষ্যমাত্রার অধিক বিক্রি অর্থনীতির জন্য হুমকি স্বরূপ বলে মনে করছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, সরকারও ঘাটতি মেটাতে অধিক পরিমাণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করছেন। সঞ্চয়পত্র বিক্রির নিদিষ্ট পরিমানে সীমা থাকা উচিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সরকারের আমলারা অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ায় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন।
তিনি আরও ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে গত কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এতে সরকারের ঋণের বোঝাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল।
বিক্রির চাপ কমাতে গত বছরের ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একইসঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়।
একজন ব্যক্তি এককভাবে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন। যৌথভাবে হলে ৬০ লাখ টাকা করা যায়। তবে পরিবারের সদস্যরা মিল করলে একক, যৌথ ও পরিবার ধরে সব মিলে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ আছে। তবে এর চিয়ে বেশি করতে হলে প্রবাসীরা ইউএস ডলারে বিনিয়োগ করতে পারবে।
২০২০-২১ অর্থবছরের দশ মাস (জুলাই-এপ্রিল) পার হয়ে গেলেও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জুলাই-মার্চ সময়ের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, এই নয় মাসে সব মিলিয়ে ৮৬ হাজার ৯৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ৬৭ হাজার ১২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। তার আগের অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার ৩৪২ কোটি ৩৯ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি বিক্রি। চলতি বছরের মে মাসে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছে ১০ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ মাসে সঞ্চয় অধিদপ্তর নিট বিক্রি দেখিয়েছে ৩২ হাজার ৮৯১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
এদিকে তফসিলি ব্যাংকের শাখা বা ডাকঘর থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কেনা যাবেনা। শুধু জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন সঞ্চয় ব্যুরো থেকে এই সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে। এ বিষয়ে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারী বাকি তিনটি সঞ্চয়পত্র তথা পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র নিয়ম অনুযাই আগের মতো ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে কেনা যাবে।
- ১জিডিপির ৫ শতাংশ চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে: মির্জা ফখরুল
- ২সিন্ডিকেট-মজুদদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করবে সরকার
- ৩আমরা বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই: শিক্ষামন্ত্রী
- ৪চা শিল্পে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি
- ৫রায়পুরে বিয়েবাড়িতে মাংস ঝাল হওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৩
- ৬মার্কিন সিনেটে ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিল পাস
- ৭অসময়ে তরমুজ চাষে কৃষকের দৃষ্টান্ত স্থাপন
- ৮ড্যাবের চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৯দেশে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ
- ১০বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকা
- ১মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারবে এমন বিচার বিভাগ চাই: আইনমন্ত্রী
- ২চাঁদপুরে একযোগে বদলি ৩১ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা
- ৩চাঁদপুরে ফুটবল মাঠ উদ্বোধন করলেন শেখ ফরিদ আহম্মেদ
- ৪আগামী রবিবার মহেশখালী আসছেন প্রধানমন্ত্রী
- ৫সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে
- ৬গাজীপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সমাবেশ
- ৭বাকৃবিতে শুরু হচ্ছে বিএসভিইআরের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন
- ৮১৫ আগস্ট ৭৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর হাতে অবসর সুবিধার টাকা
- ৯জবির লোক প্রশাসন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন
- ১০ব্লু ইকোনমি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে





পাঠকের মতামত