
- নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে সরকার
- দ্রুত এবং সহজেই মিলবে স্বাস্থ্যসেবা
- শুরুতে ৫ জেলায় চালু হবে এ সেবা
- দেশের বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনুযায়ী একে যুগান্তকারী উদ্যোগ বলছেন বিশেষজ্ঞরা
স্বাস্থ্যসেবা একটি রাষ্ট্রের সভ্যতা ও মানবিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো অনেক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। এখানে চিকিৎসা ব্যয়ের একটি বড় অংশ এখনো জনগণকেই নিজস্ব আয়ে বহন করতে হয়।
গবেষণা ও নীতিনির্ধারকদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি সরাসরি জনগণের পকেট থেকে ব্যয় হয়। এর ফলে অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের নতুন চক্রেও আটকে যায়।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর এবং নাগরিকবান্ধব করে তোলার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই ধারাবাহিকতায় ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি সম্ভাবনাময় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সমন্বিত কাঠামোর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
নির্বাচনি ইশতেহারে ই–হেলথ কার্ড
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিককে একটি ইলেকট্রনিক হেলথ (ই–হেলথ) কার্ড দেওয়া হবে। কোনো নাগরিক এই কার্ড নিয়ে দেশের যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গেলে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধের তথ্য দেখতে পারবেন। ফলে চিকিৎসক সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এর ফলে ভুল চিকিৎসা, ওষুধের পুনরাবৃত্তি ও অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
দেশের বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সাধারণত তিনটি স্তরে পরিচালিত হয়—প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং তৃতীয় স্তরের চিকিৎসা ব্যবস্থা। গ্রামীণ পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ভিত্তি তৈরি করে। অন্যদিকে জেলা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। কিন্তু বাস্তবে স্বাস্থ্যসেবার মান ও প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে অঞ্চলভেদে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য দেখা যায়।
শহরাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধা তুলনামূলক বেশি থাকলেও গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসক সংকট, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আরেকটি বড় সমস্যা হলো তথ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। একজন রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, পরীক্ষার রিপোর্ট বা ওষুধের তথ্য বিভিন্ন হাসপাতালে বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকে। ফলে রোগী নতুন কোনো হাসপাতালে গেলে চিকিৎসককে অনেক সময় নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। এতে রোগীর সময়, অর্থ এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া—সবই প্রভাবিত হয়।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। আর সেই প্রক্রিয়ায় ই-হেলথ কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
ই–হেলথ কার্ডে যেভাবে মিলবে স্বাস্থ্য সেবা
ই-হেলথ কার্ড মূলত একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র, যেখানে একজন নাগরিকের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে রোগীর নাম, বয়স, রক্তের গ্রুপ, পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস, ওষুধের তথ্য, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং টিকাদান সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো হাসপাতালে রোগীর স্বাস্থ্য তথ্য দ্রুত দেখা সম্ভব হবে। ফলে চিকিৎসক সহজেই রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাবেন এবং দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ডিজিটাল এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে উপজেলা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে একটি কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ফলে একজন রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে প্রয়োজনে দ্রুত উচ্চতর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রেফার হতে পারবেন। এতে চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও কার্যকর, দ্রুত এবং সমন্বিত হবে।
বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। উন্নত দেশগুলোতে ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন এবং স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।
বাংলাদেশও “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ধারণার মাধ্যমে প্রশাসন, শিক্ষা, আর্থিক খাত এবং সরকারি সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। এখন সেই ডিজিটাল রূপান্তর স্বাস্থ্য খাতেও বিস্তৃত করার সময় এসেছে।
ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ইউনিক হেলথ আইডি তৈরি করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধ, গবেষণা এবং স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার তৈরি হবে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশের একটি বড় অংশ এখনো গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে। সেখানে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষ সহজেই স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসতে পারবেন। ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো রোগীর তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে পারবে।
ভবিষ্যতে টেলিমেডিসিন ও মোবাইল স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে এই কার্ড যুক্ত করা গেলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শও সহজে পেতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে ই-হেলথ কার্ড
বিশ্বব্যাপী ই-হেলথ কার্ড বা ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড এখন একটি বড় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ইউরোপ, এশিয়া ও উন্নত দেশগুলোতে এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করছে।
ইউরোপের বহু দেশে ই-হেলথ কার্ড বা ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। জার্মানিতে “ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড (ইজিকে)” এবং ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেকর্ড চালু রয়েছে, যা নাগরিকদের স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসা সুবিধা পেতে সাহায্য করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের “মাই হেলথ অ্যাট ইইউ” প্রকল্পের মাধ্যমে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালিসহ প্রায় সব সদস্য দেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডাটা শেয়ারিং চালু হয়েছে।
বিশেষভাবে এস্তোনিয়া ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিশ্বে অগ্রগামী—এখানে প্রায় ৯৫% স্বাস্থ্য তথ্য ডিজিটাল এবং প্রেসক্রিপশনের ৯৭% ইলেকট্রনিক।
ভারতও “ডিজিটাল হেলথ আইডি” কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য একটি স্বাস্থ্য আইডি চালু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরিগুলো একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।
শুরুতে ৫ জেলায় ই-হেলথ কার্ড চালু হবে
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের সূচনায় শুরুতে সরকার দেশের পাঁচ জেলায় ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ই-হেলথ কার্ড কর্মসূচি চালু করা হবে।
এ বিষয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান সিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ই-হেলথ কার্ডধারী রোগীরা ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেফারেল সিস্টেম ও ইলেকট্রনিক পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন।
সম্প্রতি এক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ই-হেলথ কার্ড চালু হলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা উপকৃত হবে। একজন রোগী গ্রাম থেকে শহর—যেখানেই চিকিৎসা নিন না কেন, চিকিৎসক এই কার্ডের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদানে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ই-হেলথ আইডি স্বাস্থ্যখাতে একটি মৌলিক পরিচয় কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তিকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য নিরাপদভাবে বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে ই-হেলথ কার্ড উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দেশের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা একটি বড় প্রযুক্তিগত কাজ। পাশাপাশি স্বাস্থ্য তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নও জরুরি।
একটি আধুনিক রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রকৃত পরিমাপ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে হয় না; বরং নাগরিকরা কতটা সহজে, দ্রুত এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন—তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।যদি এই উদ্যোগকে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা হবে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং সমতাভিত্তিক। অর্থাৎ দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের একজন সাধারণ মানুষও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা ঠিক ততটাই সহজে পাবেন, যতটা একটি বড় শহরের নাগরিক পান। সুতরাং একথা বলতেই হবে যে, ই-হেলথ কার্ড সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ ।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ই–হেলথ কার্ড উদ্যোগটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে—তবে এর সাফল্য পুরোপুরি নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গুণগত মানের ওপর।
একজন স্বাস্থ্যনীতি ও ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞের মতে, ই–হেলথ কার্ড শুধু একটি প্রযুক্তিগত প্রকল্প নয়, এটি মূলত একটি সিস্টেম রিফর্ম। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবার বড় সমস্যা ছিল বিচ্ছিন্ন তথ্যব্যবস্থা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় এবং রোগীর ধারাবাহিক চিকিৎসার অভাব। এই কার্ড চালু হলে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস এক প্ল্যাটফর্মে আসবে, যা চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও প্রমাণভিত্তিক ও কার্যকর করবে। এর ফলে ‘ডুপ্লিকেট টেস্ট’ কমবে, ওষুধের অপব্যবহার কমবে এবং রোগীকে অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন,তবে এটি সফল করতে হলে তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ ডেটা অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে রোগীর তথ্য ফাঁস বা অপব্যবহার না হয়। দ্বিতীয়ত, দেশের সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে—কারণ প্রযুক্তি থাকলেও ব্যবহার না জানলে এর কোনো সুফল আসবে না। তৃতীয়ত, সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একই প্ল্যাটফর্মে আনতে হবে, নইলে এটি আংশিক উদ্যোগ হিসেবেই থেকে যাবে।
তার মতে,যদি পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ই–হেলথ কার্ড ভবিষ্যতে একটি ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (UHC) ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। এতে শুধু চিকিৎসা সহজ হবে না, বরং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতিনির্ধারণের মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন,এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—এই তিনটি সমন্বয় না হলে উদ্যোগটি কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারবে না।
এএ
- ১গায়ানা উপকূলে ১৩৩ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি
- ২প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ৩কমলগঞ্জে মনিপুরি গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- ৪প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৩ জুলাই
- ৫ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর বোর্ড সভা ২৩ জুলাই
- ৬গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৩ জুলাই
- ৭অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২২ জুলাই
- ৮শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা ২২ জুলাই
- ৯ফুটবল খেলার বিরোধে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
- ১০প্রিমিয়ার ব্যাংকের বোর্ড সভা ২২ জুলাই
- ১সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
- ২কক্সবাজারে পরিবার পরিকল্পনা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- ৩রবি আজিয়াটার বোর্ড সভা ২৮ জুলাই
- ৪নির্মাণাধীন চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ বাঁধের কাজ দৃশ্যমান
- ৫প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র-সমাজের যৌথ দায়িত্ব: ডিএসসিসি প্রশাসক
- ৬ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
- ৭১৫ বছরের ধ্বংসযজ্ঞ অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, তবে কাজ শুরু হয়েছে
- ৮নিউইয়র্কে বাংলাদেশির নামে সড়কের নামকরণ
- ৯বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে ৫ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা
- ১০হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর





পাঠকের মতামত