প্রকাশিত: জানুয়ারী ২, ২০২২ ৬:৩৬ পিএম , আপডেট: জানুয়ারী ২, ২০২২ ৬:৪১ পিএম

ডিসেম্বর মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬২ কোটি ৯০ লাখ (১.৬২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এটি নভেম্বর মাসের তুলনায় ৭ কোটি ডলার বেশি। এর ফলে টানা ৬ মাস পর ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরলো রেমিট্যান্স।

তবে একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরে গত বছরের (২০২০ সালের ডিসেম্বর) একই মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ৪৩ কোটি ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৫ কোটি বা ২ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬২.৯ কোটি ডলার। যা টাকার হিসেবে (এক ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে) প্রায় ১৩ হাজার ৮৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এর আগের মাস নভেম্বরে দেশে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে। টাকার হিসেবে যার পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ২০৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে ডিসেম্বর ৬৪০ কোটি টাকা বেশি এসেছে।

এর আগের মাস অক্টোবরে সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রবাসী আয় কমে। অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা। টাকায় যার পরিমাণ ১৩ হাজার ৯৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার (৮৫ টাকা ধরে) বেশি। সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার বা ১৪ হাজার ৬৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় কমে আগস্টের তুলনায় ৯ কোটি ডলার। গত আগস্ট মাসে প্রবাসী আয় ছিল ১৮১ কোটি ডলার, যা জুলাই মাসের চেয়ে ৬ কোটি ডলার কম। জুলাই মাসে ১৮৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা জুনের তুলনায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার কম। জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৪ কোটি ডলার, যা মে মাসের তুলনায় ২৩ কোটি ডলার কম।

এদিকে ব্যাংকগুলো শাখা ছাড়াও এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় রেমিট্যান্সের অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্সের ওপর সরকার আড়াই শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ারে ঘোষণা দিয়েছে। যেটি এর আগে ২ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।

চলতি বছরের (২০২২ সাল) ১ জানুয়ারি থেকে বর্ধিত নগদ সহায়তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ২৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৭ হাজার ২১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ২৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় অবৈধ চ্যানেলে বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বেড়েছে। তাছাড়া করোনার প্রভাবে প্রবাসীরা যেভাবে চাকরি হারিয়েছেন সেভাবে দেশের বাইরে নতুন শ্রমশক্তি নিয়োগ হয়নি।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...