
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জোয়ালভাঙ্গা হাওরে ৬০০ কেদার ইরি জমি চাষাবাদ করেছিলেন এলাকার কৃষক। পুরো জমির স্কীম হাতে নিয়েছিলেন বাণীপুর গ্রামের মনির হোসেনসহ কয়েকজন যুবক। বিনিময়ে তিনি ৬০০ মন ধান পাওয়ার আশায় স্কীমে তারা অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। ধান পাকতে না পাকতেই পুরো ৬০০ কেদার জমি পাহাড়ী ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। এতে এলাকার কৃষকদের প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে তারা জানান। তার পাশেই মুড়ারবন্দ গ্রাম, নৌকাখালি, রহমতপুর, উজান রামনগর কৃষকেরা একই হাওরে উঁচু জমিতে প্রায় ১২শ কেদার ইরি জমি চাষাবাদ করেছিলেন। বানের পানিতে পুরো জমি তলিয়ে যায়।
জামালগঞ্জ উপজেলার নাইন্দা, কুড়িনাইল্লা, নাউরিয়া হাওরে শত শত একর বোরো জমি তলিয়ে যাচ্ছে। শুধু এখানেই নয় সারা জেলার বিভিন্ন হাওরে জমি তলিয়ে গেছে। বাড়ছে দুশ্চিন্তা। টানা ১৫ দিন বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানি আসার সাথে সাথে পাকা ধান মাড়াই শেষে গ্যারা দেখা দিয়েছে। দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। দেখার হাওরের বড় কৃষক আব্দুর জানান, তিনশত মন ধান কেটে খলায় রেখেছিলাম। রোদ না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে প্রায় ২০০ মন ধানে গ্যারা দেখা দিয়েছে। এখন আমি বড় দুশ্চিন্তাই আছি। এদিকে নদীর পানি কমে হাওরের দিকে চাপ বাড়ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার পরিবার। চুলায় আগুন ধরাতে পারছেন গৃহিণীরা। শুকনো খাবার খেয়েই শংকায় কাটছেন দিনরাত। ভেঙ্গে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার প্রায় ৩শতাধিক মৎস্য খামারে পানি প্রবেশ করেছে। খামারিরা লোকসানের শংকায় দুশ্চিন্তায় আছেন। এভাবেই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। জেলার ২টি উপজেলায় ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দুই শ’র বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার পানিতে জেলার প্রায় তিন’শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে না। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার্ত ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ছাতক উপজেলার সদরে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫৩ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাকবলিত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় এক হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দোয়ারাবাজার ও ছাতকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা বেশি আক্রান্ত। যেভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, পাহাড়ি ঢল নামছে তাতে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা আছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি আছে।
- ১মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও ছাড় নয়: ডিআইজি
- ২ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৩স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম
- ৪পোশাকশিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- ৫পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- ৬বন্যাকবলিত ৩ হাজার ৫০ পরিবারকে ত্রাণ দিল শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন
- ৭সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা
- ৮‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে বৈদেশিক সম্পর্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৯মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু
- ১০UCB Price Sensitive Information
- ১এক মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি
- ২ভরা মৌসুমে চাঁদপুরে মাছঘাটে প্রচুর পাঙ্গাস আমদানি
- ৩একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
- ৪এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
- ৫শ্রীপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে স্থানীয়দের ড্রেন নির্মাণ
- ৬সবার জন্য চালু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’: আইসিটিমন্ত্রী
- ৭মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান
- ৮অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ
- ৯আস্থাহীন পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পারবে কি নতুন কমিশন?
- ১০স্থানীয় সরকার কার্যকর হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হবে





পাঠকের মতামত