প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ ১:৪৮ পিএম

ব্যাংকে যখন অলস টাকা উপচে পড়ছে, তখন ঋণ দেয়ার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং বা আইসিআরআর নীতিমালা শিথিল করার কথা জানানো হয়েছে। কোনো গ্রাহক ঋণ নিতে চাইলে তাকে ঋণ দেয়া হবে কি না তা যাচাই-বাছাই করা হয় এই আইসিআরআর নীতিমালার আলোকে।

ঋণ পেতে আগে যেখানে ৬০ নম্বর পেতে হতো, এখন সেখানে পরিমাণ ও গুণগত মান বিবেচনায় ৫৫ নম্বর পেলেই গ্রাহকরা ঋণ পাবেন। কারও ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আছে কি না, ব্যাংকের সঙ্গে অতীতের লেনদেনসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে এই আইসিআরআর-এর নম্বর দেয়া হয়।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আইসিআরআর বিবেচনায় ৭৫-এর বেশি পেলে ‘চমৎকার’, ৬৫-এর বেশি এবং ৭৫-এর কম নম্বর পেলে ‘ভালো’, ৫৫-এর বেশি এবং ৬৫-এর কম পেলে ‘প্রান্তিক’ এবং ৫৫-এর নিচে নম্বর পেলে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিং দেয়া হবে।

তবে কোনো গ্রাহক গুণগত রেটিংয়ে যত নম্বরই পান না কেন, পরিমাণগত রেটিংয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিং দেয়া হবে। তাকে কোনোভাবেই ঋণ দেয়া যাবে না। দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছার প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ঋণের ঝুঁকি পরিমাপের নতুন নীতিমালা উদ্বোধন করেন গভর্নর ফজলে কবির।

ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) নামের এই নীতিমালায় ঋণের পরিমাণ ও গুণগত উভয় ধরনের সক্ষমতার মূল্যায়ন শর্ত রাখা হয়। মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রাহককে চার শ্রেণিতে বিভাজন করবে ব্যাংকগুলো। কোনো গ্রাহক ‘চমৎকার’ (এক্সিলেন্ট) বা ‘ভালো’ (গুড) রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে অর্থায়ন করতে পারবে।

‘প্রান্তিক’ (মার্জিনাল) রেটিংধারী গ্রাহককে পুরোনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।  তবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো, যদি না আগের ঋণ শতভাগ নগদ পরিশোধ হয় অথবা জামানত দিয়ে ঋণটি আচ্ছাদন করা হয়।

‘অগ্রহণযোগ্য’ (আনএকসেপ্টেবল) রেটিংভুক্ত গ্রাহকের আগের ঋণ সর্বোচ্চ দুইবার নবায়ন বা বর্ধিত করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য ২ লাখ সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ সময়ে ব্যাংক খাতে অলস টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...

এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসককে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের শুভেচ্ছা

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর নবনিযুক্ত প্রশাসক ...