মোস্তাক আহমেদ মনির
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ১২:৫৫ পিএম , আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ১২:৫৭ পিএম

বৃষ্টি হলে বা নদীতে পানি এলেই খাল-বিল, নদী-নালায় শুরু হয় মাছ ধরার উৎসব। আধুনিকতার ছোঁয়া ও অবৈধ কারেন্ট জালের দৌরাত্ম বাড়ার কারনে তেমন চলছে না গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেতের তৈরি ডারকি, চাঁই, পলো ও আনতার মতো দেশীয় মাছ ধরার ফাঁদ। মানবেতর জীবনযাপন করছে এই শিল্পের সাথে জরিত মানুষরা। গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করা হয় বাঁশ ও বেতের তৈরি এসব পণ্য। গ্রামগুলোতে বর্ষা ও বন্যার পানির সঙ্গে আজও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে এই মাছ ধরার সরঞ্জাম গুলো। তবে অবৈধ চায়না জাল ব্যবহার বন্ধের জন্য সরকারের সহযোগীতা চান বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগররা।

উপজেলার পৌর এলাকার কোনাবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়ীতেই ছোট-বড় ভাবে প্রতিবছরই বর্ষাকালে ও বন্যার শুরুতে এ পল্লীতে শুরু হয় বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই, পলো ও আনতা তৈরির কাজ। আগে এই সময়টুকুতে খাওয়ার সময় পেতেন না বাঁশ-বেতের কারিগররা। স্থানীয় হাটবাজারে প্রতি হাটের দিন গুলোতে নানা ডিজাইন, নানা রঙের ও বিভিন্ন আকারের চাঁই, পলো ও আনতা বিক্রি করা হতো। তবে একসময় গ্রামে গ্রামে এসব ফাঁদের ব্যবহার বেশি থাকলেও এখন বাঁশ ও বেতের দাম বৃদ্ধির কারনে ও অবৈধ বিভিন্ন চায়না জাল বাজারে নামার কারনে একবারেই বিক্রি নেই বললেই চলে এসব চাঁই, পলো ও আনতার। আবার গভীর রাতে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাটারী দিয়ে নদীর পানিতে কারেন্টের শক দিয়েও অবৈধ উপায়ে ধরা হচ্ছে মাছ। এসব জেনে দেখেও না দেখার ভান করে থাকে উপজেলা মৎস্য অফিস।

চাই ও পলো কারিগর বৃদ্ধ আফসার আলী, মোবারক হোসেন রোকসানা বেগম বলেন, এসব চাই পলো, ডারকি সাধারণত খাল-বিল কিংবা ডুবে যাওয়া ক্ষেতে ফেলা হয়। এটাতে শোল, শিং, কৈ, খইলসা, পুঁটি চিংড়িসহ দেশীয় সকল মাছ সহজেই ধরা পড়ে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের বড় আকারের চাঁই তৈরি হচ্ছে, এ গুলোতে রুই-কাতলও ধরা সম্ভব। দেশীয় এসব ফাঁদ শুধু মাছ শিকারিদের জীবিকা নয়, বরং আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। তবে বিভিন্ন অবৈধ কারেন্ট জাল বাজারে আসায় ও এসব ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই শিল্পটি ঐতিহ্য হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না জাল নিষিদ্ধ ও বিক্রি বন্ধ করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

স্থানীয় গ্রামীণ সরঞ্জাম তৈরির কারিগর ছানোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা আমাদের বাপ-দাদাদের ব্যবসা ছিলো। তাদের মৃত্যুর পর আমি প্রায় ৪৫ বছর ধরে আমি বাঁশ ও বেত দিয়ে মাছ ধরার চাঁই, পলো ও আনতা তৈরি করছি। আগে প্রতি মৌসুমে ৫ হাজার থেকে ৭/৮ হাজার ডারকি, পলো, আনতা ও চাই বিক্রি হতো। ২০/২৫ জন শ্রমিক কাজ কারতো। এখন প্রতি মৌসুমে ২ থেকে ৩শ বিক্রি হয় না। বাজারে অবৈধ কারেন্ট জাল ও মাছ ধরার শর্কসহ নানা ধরনের আধুনিক পদ্ধতি আসার কারনে এগুলো আর চলে না। সরকার যদি এসব অবৈধ কারেন্ট জাল, চায়না জাল ও শর্কপদ্ধতির বিষয়ে অভিযান চালায় তাহলে হয়তো আমরা ডাল ভাত খেয়ে বেচে থাকতে পারবো।

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবযানী ভৌমিক বলেন, চায়না জাল গুলো খুবই মারাত্মক একটি জাল। এটাতে ছোট বড় মাছ ও রেনু পর্যন্ত ধরা পড়ে। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি এই চায়না জাল বন্ধ করতে। ইতিমধ্যে আমরা একাধিক স্থানে ও জালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান ও মোবাইল কোর্ডও পরিচালনা করেছি। অনেক জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের সময় স্থানীয় মানুষদের সচেতন করারও চেষ্টা করছি।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বন্যার্তদের পাশে আইএসডিই, পূর্ব বড় ভেওলায় ৫১০ পরিবারের মুখে স্বস্তি

কক্সবাজারে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে অনেক পরিবার যখন ...

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ নাগরিকের মৃত্যু

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে দোরোখিন সের্গেই নামে এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ...

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে নালিতাবাড়ীতে বর্ণাঢ্য যুব র‍্যালি

আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব বিভাগ উপজেলা শাখার উদ্যোগে ...

জনদূর্ভোগ লাঘবে নিজ অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার করলেন লিটন তালুকদার

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া ব্রীজ থেকে মিমকো জুটমিল ও মডেল স্কুল গামী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ...

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ভারতের অ্যাম্বুলেন্স

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভারত সরকারের উপহার দেওয়া একটি আধুনিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স প্রায় ...