বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৯:৫৮ এএম , আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৯:৫৯ এএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কুয়েট ইইই পরিবার। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলা চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে ইইই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা একজন অধ্যাপকের ওপর সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে সরকার, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরা ইসলাম বলেন, আজকে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি আমাদের ইইই বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম স্যারের ওপর সংঘটিত ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানাতে।

ইইই বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আশরাফুল গনী ভূঁইয়া বলেন, এই ধরনের ঘটনা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে। একজন শিক্ষকের কাজ শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা। এই হামলা আমাদের আতঙ্কিত করেছে। আমরা শঙ্কায় আছি, এই ধরনের ঘটনা যে কারও সঙ্গে ঘটতে পারে। আমরা দেশের সরকার ও প্রশাসনের কাছে নিরাপদে থাকার দাবি জানাচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা সরকার, প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, আমরা যেন নির্বিঘ্নে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখে এই প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে পারি।

অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে যে ঘটনা ঘটে গেল, সেটা খুবই নিন্দনীয়। এটা পরিকল্পিত কি না, প্রশাসনকে তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং হামলাকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. মাহবুব হাসান বলেন, পরিচয় গোপন রেখে এই ধরনের হামলার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হয়। কিন্তু এই ঘটনার পর আমি দেখছি শিক্ষকদের মাঝে অস্বস্তি বিরাজ করছে। একটি দেশের অন্যতম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র অধ্যাপকের ওপর এ ধরনের হামলা কাম্য নয়। তাই সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে দ্রুত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার অনুরোধ করছি।

ইইই বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহমিদুল হক তামিম বলেন, এ ধরনের হামলা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আজকে আমাদের শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। কালকে আমাদের আরেকজনের ওপর হামলা করা হবে। এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।

আরেক শিক্ষার্থী আরাফাত নাদিব বলেন, শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের হামলা ক্যাম্পাসের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। লেখাপড়ার জন্য একটি সুস্থ পরিবেশের প্রয়োজন। শিক্ষকদেরই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরাও আতঙ্কগ্রস্ত। সেজন্য দ্রুত এ ধরনের হামলার বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য বাসের অপেক্ষায় থাকার সময় খুলনার মুজগুন্নি আবাসিক এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন কুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে রেল কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনের চিঠি

প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের রেলযাত্রার দুর্ভোগ লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটস্থ মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে দূরপাল্লার আন্তঃনগরসহ ...

ইউজিসির নিয়ম অমান্য করেই চলছে বেরোবিতে নিয়োগ-পদোন্নতি

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা ও অনুমোদন উপেক্ষা করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষক ...

কুয়েটের অধ্যাপকের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট ...

মোল্লা কলেজ সংঘর্ষের দেড় বছরেও মেরামত হয়নি কবি নজরুল কলেজের জানালার ভাঙা কাচ

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের সড়কসংলগ্ন সি ভবনের একাধিক বিভাগের জানালার কাঁচ ...

কুবিতে সাড়ে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার আয়োজনে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ...

বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের নামে ফেসবুক পেজ খুলে ‘গুপ্ত’ রাজনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী আবাসিক হল ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’ এর নাম ...