
‘অটিজম’ শব্দটির সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। এই পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদেরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেই না। একজন সাধারণ শিশুর মতো অটিজমও একজন শিশু। শুধুমাত্র অটিজম তার ব্যক্তিত্বের অংশমাত্র, তার পুরো সত্ত্বাটাই অটিস্টিক নয়। একটি সাধারণ শিশুর যেমন চিন্তা-ভাবনা, কল্পনা, পছন্দ-অপছন্দ, স্বপ্ন, ভয়-ভীতি রয়েছে তাদেরও থাকতে পারে। সাধারণ শিশুরা নিজেদের আবেগ ও অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অটিস্টিক শিশুরা অতোটা পেরে ওঠে না। তাই বলে তাদেরকে অবজ্ঞা করো না। এভাবে একসময় তাদের প্রত্যাশা এতোটাই কমে যাবে যে, তারা আর কিছু করার আত্মবিশ্বাস পাবে না।
অটিজম সাধারণত বংশগত বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মনোবিকাশজনিত সমস্যা। আমাদের সমাজে অনেক ব্যাক্তি বা পরিবার আছে যাদের অটিজমে আক্রান্ত শিশু রয়েছে। এই শিশুরা আমাদের সমাজেরই একজন। কিন্তু অনেকেই অটিস্টিক শিশু দেখলে তাদের ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকেন, তাদের মা-বাবাকে নিয়ে নানা কুসংস্কারে বলি করা হয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এটা বেশি হয়ে থাকে। অটিজম এমন একটি বিকাশজনিত সমস্যা, যা হলে আক্রান্ত ব্যাক্তির মানুষ বা বিষয়ের প্রতি কোনো আগ্রহ থাকে না। এছাড়া সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, ভাষা, আবেগীয় বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয় না। এর মানে এই নয় যে, অটিস্টিক শিশু বোকা বা অমেধাবী। অটিস্টিক শিশু মাঝে মাঝে এমন কাজ করে, যেন একজন সাধারণ শিশু ও করতে পারে না। তারা ছবি আঁকায়, গানে, গণিতে কিংবা কম্পউটারে খুবই দক্ষতা থাকে। বিখ্যাত সংগীত শিল্পী লেডি হাক এবং ডারিল হান্না, কার্টুন ছবির আবিষ্কারক সাতসি তাহেরসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিও অটিজমে আক্রান্ত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কোনো শিশুর অটিজম নির্ণয় হলে অতি দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের সবার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শিশুটির সঙ্গে কথা বলার মাঝে, পড়ানোর সময়, সামাজিক বন্ধনে, খেলাধূলার মাঝে বিভিন্ন বিষয় শেখাতে হবে, হাসি-খুশিতে রাখতে হবে সবসময়। তারা অনেক কিছুই পারে আবার অনেক কিছুই পারে না। যা পারে তার জন্য উৎসাহ যোগাতে হবে। আর যা না পারে তার জন্য ধমক-ধামক দেয়া যাবে না। বেশি চাপের মধ্যে পড়লে মাঝে মাঝে তারা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যদি তাদেরকে ভালোভাবে বুঝতে পারি তাহলে এটা এড়ানো সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তাদেরকে শর্তহীনভাবে ভালোবাসা। তারা এটা কেনো পারে না, ওটা কেনো অন্যদের মতো হয় না এসব বলে তাদেরকে আরো গহীন জটিলতায় ঠেলে দেই। তারা আমাদের সমস্ত স্বপ্ন আর প্রত্যাশা মেটানোর ক্ষমতা রাখে না। অটিজমকে অক্ষমতা না ভেবে বিশেষ রকম সক্ষমতা ভাবতে হবে। তারা গুছিয়ে কথা বলতে পারে না কিন্তু কখনো মিথ্যা কথা বলে না। তারা হয়তো অন্যদের সাথে খেলতে পারে না, কিন্তু খেলার ছলে কখনো চুরি করে না। অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয় না। এগুলো তাদের জন্য অনেক ভালো গুণ। তাদেরকে বিশ্বাস করে, একটু প্রশংসা করো এবং শর্তহীনভাবে ভালোবাসো। তারাও একদিন অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে। শুধুমাত্র প্রয়োজন একটুখানি ভালোবাসা।
লেখক-সাবিনা আক্তার মুন্নী, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
- ১বিএনপি নব্য স্বৈরাচার হওয়ার পথে হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম
- ২ডিজিটাল ট্রেড ও ফ্রিল্যান্সারদের সহায়তায় একাধিক নতুন বিধান
- ৩স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় খুবই কম ব্যয় করা হচ্ছে: জিয়াউদ্দিন হায়দার
- ৪আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন কারাগারে
- ৫পাবনায় যমুনা ব্যাংকের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী, সনদ ও ক্রেস্ট বিতরণ
- ৬মৌলিক প্রশিক্ষণ নেওয়া ৫৬ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি
- ৭ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করল ব্র্যাক ব্যাংক
- ৮আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত
- ৯সিরাজগঞ্জে নদীভাঙন কবলিতদের পাশে জেলা প্রশাসক
- ১০২০২৬ সালের মধ্যে বন্ধ কারখানা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ১জবির নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্প নিয়ে ভয়ংকর নীলনকশা!
- ২নেশা চক্রের খপ্পরে অচেতন গরু ব্যবসায়ী, উদ্ধারের দুই দিন পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিল ‘আজকের তারুণ্য’
- ৩বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ
- ৪চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
- ৫সরকারি বীজ খোলা বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড
- ৬শুধু নিরাময় নয়, রোগ প্রতিরোধে মনোযোগ দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৭নবীনগর উপজেলা পরিষদে মাতৃদুগ্ধ কর্নার ও নারীদের নামাজের স্থান চালু
- ৮টেকসই অর্থায়নে উল্লম্ফন, কমেছে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ
- ৯বাকৃবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
- ১০একটি সাক্ষরের ভুলে ভেঙে গেল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন





পাঠকের মতামত