
পণ্য আমদানি বাড়ায় ডলারের দাম আরও একধাপ বেড়েছে। আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারে আরও ১০ পয়সা বেড়ে ৮৫ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে। তবে খোলাবাজার ও নগদ মূল্যে ডলার আরও বেশি দামে ৮৮ থেকে ৮৯ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দেশে আমদানি চাপ বেড়েছে। এছাড়া করোনার ভ্যাকসিনের আমদানির অর্থও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে এসব দায় পরিশোধ করতে গিয়ে বাড়তি ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো আয় বা রেমিট্যান্স গত তিন মাস ধারাবাহিকভাবে কমছে। আবার প্রত্যাশা অনুযায়ী রপ্তানি আয় কম। সব মিলিয়ে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এতে টাকার বিপরীতে বাড়ছে ডলারের দাম। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর চলতি বছরের আগস্টের শুরু থেকে হঠাৎ বাড়তে থাকে ডলারের দাম। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর ব্যাংকগুলোর নিজেদের মধ্যে লেনদেনর জন্য প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ মূল্য। তিন কর্মদিবস আগেও এ দর ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ছিল ৮৫ টাকা ২০ পয়সা। আগস্টের শুরুতে ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। আগস্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুই মাস ১০ দিনের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারিয়েছে টাকা। এর আগে ২০২০ সালের জুলাই থেকেই ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা স্থিতিশীল ছিল ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যখন বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেশি ছিল তখন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করছে। চলতি অর্থবছরে অর্থাৎ জুলাই থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারে ৭৮৬ মিলিয়ন ডলার (৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার) বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও পণ্য আমদানি বেড়েছে। এসব পণ্যের দায় পরিশোধ করতে বাড়তি ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে। তাই দাম বেড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর চাহিদার বিপরীতে ডলার সরবরাহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা কিনছে সরকার। সম্প্রতি কোভিড-১৯-এর টিকা কেনার জন্য ২ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা ছাড় করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডলার কিনে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে। আগস্টে মোট ৭১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের এলসি খুলেছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। টাকার অংকে যার পরিমাণ ৬১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা)।
এদিকে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) হিসাবে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই দুই মাসে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানির জন্য ১ হাজার ২১৩ কোটি (১২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে খোলা হয়েছিল ৮১৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এলসি।
এর আগে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডলার কেনায় রেকর্ড গড়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সবমিলিয়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনে। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত অর্থবছরের আগে সেটিই ছিল সর্বোচ্চ ডলার কেনার রেকর্ড। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনে আর্থিক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আমদানি দায় মেটাতে ব্যবসায়ীদের থেকে দেশি ও বিদেশি খাতের বেশিরভাগ ব্যাংক প্রতি ডলারে ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত নিচ্ছে। তবে নগদ ডলারের মূল্য বেশিরভাগ ব্যাংকে ৮৭ টাকার উপরে রয়েছে। কয়েকটি ব্যাংকে নগদ ডলারের মূল্য ৮৮ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, করোনা মহামারির শুরুর দিকে প্রবাসী আয়ের চাঙাভাব চলতি বছরের জুন থেকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সবশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১৭২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসী আয়ের এ অংক গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২০ সালের মে মাসের দেশে ১৫০ কোটি ডলার সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আসে।
তবে তৈরি পোশাকের উপর ভর করে দেশের পণ্য রপ্তানিতে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে ৪১৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের বা ৩৫ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৮ শতাংশ বেশি। গত বছর সেপ্টেম্বরে ৩০২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো চাইলেও বাড়তি ডলার নিজেদের কাছে রাখতে পারে না। বৈদেশিক মুদ্রা রাখার বিষয়ে প্রতিটি ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা আছে; যাকে এনওপি বা নেট ওপেন পজিশন বলে। যদি কোনো ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ডলার মজুত থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলার বিক্রি করতে হয়। আর না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে হবে। কেউ নির্ধারিত সীমার বাইরে ডলার নিজেদের কাছে ধরে রাখলে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা গুণতে হয়। জরিমানার হাত থেকে বাঁচার জন্য ব্যাংকগুলো বাজারে ডলার বিক্রি করতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার মূলধনের ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিজেদের কাছে ধরে রাখতে পারে। এর অতিরিক্ত হলেই তাকে বাজারে ডলার বিক্রি করতে হবে।
- ১প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত : জয়সওয়াল
- ২ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন চার মানবাধিকার সংস্থার মামলা
- ৩পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১০ কর্মকর্তাকে বদলি
- ৪কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক
- ৫বিমানে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন জুলাই যোদ্ধারা : বিমানমন্ত্রী
- ৬চাঁদপুরে জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তিন শিক্ষার্থী
- ৭এসএসসিতে পিপিআইএমএসসির বাজিমাত, পাসের হার ৯৮.৮০ শতাংশ; জিপিএ-৫ পেল ৪১ জন
- ৮মোড়লগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১০
- ৯জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : প্রধানমন্ত্রী
- ১০বাগেরহাটে হাসপাতালের গেটে অ্যাম্বুলেন্সে ভয়াবহ আগুন
- ১এসএসসির ফলে খুলনা সবার শীর্ষে, দ্বিতীয় যশোর, তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা
- ২ওয়েলিংটনে এমএফএটির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ৩ দফা কৌশলগত প্রস্তাব
- ৩চাঁদপুরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত
- ৪বাইউস্টের ১৭তম ফাইন্যান্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
- ৫পাবনা ক্যাডেট কলেজে ৫২ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সবাই
- ৬২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, প্রার্থীর নাম ঘোষণা ১৮ আগস্ট
- ৭শেরপরে এসএসসি পরীক্ষায় চার বিষয়ে ফেল;শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
- ৮সাকিব আল হাসান নষ্ট, পচে যাওয়া মানুষ : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- ৯সরিষাবাড়ীর ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল : একটিতে পাশ একজন
- ১০বাড়লো সূচক ও লেনদেন





পাঠকের মতামত