প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২১ ২:২৫ পিএম

ঈদের পরে দুদিনে ভারতের পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশি পেঁয়াজের বাজারেও। এতে খুচরা বাজারে ভারতের পেঁয়াজের দাম দেশি পেঁয়াজের সমান। বাজারে এখন উভয় পেঁয়াজ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। যা ঈদের আগেও ৫ টাকা কম ছিল।

পেঁয়াজের আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধে ভারত থেকে পেঁয়াজ আনা যাচ্ছে না। এ কারণে বাজারে ভারতের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমদানি প্রায় বন্ধ।’

তিনি বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়েনি মোকামে। কিন্তু ভারতের পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।’

রাজধানীর খিলগাঁও বাজারের খুচরা বিক্রেতা আবু হানিফ বলেন, ‘ভারতের প্রতিকেজি পেঁয়াজ ঈদের পরে মোকামে ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ৩২ থেকে ৩৩ টাকা ছিল।’

অপরদিকে কাঁচাবাজারে ঈদের পর থেকে বেড়ে যাওয়া সবজি, মাছ, মাংসের দাম কমেনি। যদিও ঈদের পরদিন কাঁচাবাজারে অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল, ছিল না ক্রেতার খুব একটা আনাগোনাও। তারপরও দাম চড়া।

রোববার (১৬ মে) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে পাইকারিতে কাঁচা মরিচ, পেঁপে, গাজর, করলা, কাকরোলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে।

আড়তদাররা বলছেন, ঈদের দিন অনেকেই মোকাম করেননি। গ্রাম থেকে সবজি আসছে না। এ কারণে দাম বেড়ে গেছে।

এদিকে খুচরা বাজারে এক কেজি পেঁপের দাম উঠেছে ৮০ টাকায়। ঈদের আগে যে কাঁচা মরিচ ৮০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ১২০ টাকা কেজি। একইভাবে গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। কাঁচা কলার হালি ৪০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা।

শুধু পটল আর ভেন্ডি (ঢেঁড়শ) ছাড়া অন্যান্য প্রায় সব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শুধু পটল আর ভেন্ডির দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।

তালতলা বাজারের ব্যবসায়ী বাছেদ হোসেন বলেন, ‘আরতে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে ঈদের পর থেকে। এর মধ্যে পেঁপে, কাঁচা মরিচ ও কলার দাম বেড়েছে বেশি। মরিচের দাম এক রাতে দ্বিগুণ হয়েছে।’

এদিকে রোববারও বিভিন্ন বাজারে অনেক দোকান বন্ধ দেখা গেছে। দু-একদিন পর থেকে রাজধানীতে মানুষ পুরোদমে ফিরতে শুরু করলে বাজার আবার জমে উঠবে।

এদিকে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা থেকে নামেনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানি মুরগি ২৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তালতলা বাজারে মুরগির দোকানি সবুজ বলেন, ‘রাস্তা-ঘাটে যানজট না থাকলে মুরগির সরবরাহ অনেক বাড়বে আজ-কালের মধ্যে। তখন দাম কমে আবার আগের মতো ১৪০ টাকায় আসবে।’

এদিকে বাজারে এখনও গরুর মাংস ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খাসির মাংসের দাম ৯০০ টাকা কেজি।

মালিবাগ বাজারের মাংস ব্যবসায়ী বুলু মিয়া বলেন, ‘গরুর দাম ও পরিবহনের ভাড়ার কারণে প্রতিকেজি মাংসে ৬১৫ টাকা খরচ হচ্ছে। গরুর দাম না কমলে মাংসের দাম আগের অবস্থায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

শেয়ার

পাঠকের মতামত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লু ইকোনমি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ...