প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১১, ২০২২ ৫:০১ পিএম

চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং নির্মাণে কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি খাতের। কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত এলইই জাং-কিয়ুন। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের চুক্তি সই অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় ৬০ লাখ ডলার অনুদান হিসেবে দিচ্ছে কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কেওআইসিএ)। এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, ইআরডির এশিয়া অনুবিভাগ ও কেওআইসিএ মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এ চুক্তি হয়। রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনে এশিয়া অনুবিভাগের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে চুক্তিতে সই করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিনুল্লাহ নুরী, এশিয়া অনুবিভাগের প্রধান শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ও বাংলাদেশে কেওআইসিএর কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়ং আহ দো। ইআরডি সচিব শরিফা খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, পাইপলাইনে থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে চায় ত্‌ার দেশ। সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে অবকাঠামো খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ এবং অনুদান সহায়তা দিতে প্রস্তুত কোরিয়া। বাংলাদেশকে আগামী পাঁচ বছরে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে ৭০ কোটি ডলার ঋণ এবং অনুদান দেওয়া হয়েছে। কোরিয়ার ঋণের সুদের হার মাত্র শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। ১৫ বছরের রেয়াতকালসহ ৪০ বছরে পরিশোধযোগ্য।

ইআরডি সচিব বলেন, বাংলাদেশ আশা করে, কোরিয়া অর্থনৈতিক বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোরিয়ায় বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে রাষ্ট্রদূতের সহায়তা চান তিনি।

প্রসঙ্গত, কেওআইসিএর অর্থায়নে চট্টগ্রাম নগরকেন্দ্রিক মেট্রোরেল নির্মাণ এবং চট্টগ্রামের পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য পরিবহন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, যানজটমুক্ত সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্দেশ্যও রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মেট্রোরেল এবং পরিবহন অবকাঠামো খাতে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হবে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলায় বাংলাদেশের উদ্বেগ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ...

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। ...

প্রতিমন্ত্রী মৎস্য খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার রপ্তানি বাড়াতে হবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ...

কারা মহাপরিদর্শক অতিরিক্ত বন্দির চাপে দুর্ধর্ষ আসামিদের আলাদা রাখা যাচ্ছে না

দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছে। বর্তমানে ৪৫ হাজার বন্দির ধারণক্ষমতার বিপরীতে কারাগারগুলোতে প্রায় ...