
টানা চার দিনের বৃষ্টিতে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তারও বেশি পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রিকশা ও ইজিবাইকচালকসহ নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত খুলনা আবহাওয়া অফিস ১৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এর ফলে নগরীর টুটপাড়া, রয়েল মোড়, মিস্ত্রিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, খানজাহান আলী সড়ক, বাস্তুহারা, বাইতিপাড়া, চানমারী, লবণচরা, রূপসা নতুন বাজারসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই মাত্র ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।
মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকে। ফলে ড্রেনের নোংরা পানি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।”
৬ নম্বর ওয়ার্ডের কবীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শেখ বলেন, “এবার যতবার বৃষ্টি হচ্ছে, ততবারই বাড়ির নিচতলায় পানি উঠছে। আগে একদিনে পানি নেমে যেত, এখন সাত-আট দিন পর্যন্ত জমে থাকে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে এলাকার রাস্তা ও ড্রেন প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও বাড়ির পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির উঠান ও নিচতলা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
আলমগীর শেখ বলেন, “রাস্তা ও ড্রেন উঁচু হওয়ায় বাড়িগুলো এখন নিচু হয়ে গেছে। পানি বের হওয়ার পথ পাচ্ছে না। এতে ঘরের মেঝে, দেয়াল ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে।”
নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাস্তুহারা কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি আব্দুর রব বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই বাজার ডুবে যায়। ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশের বড় ড্রেনটির সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগও কমছে না।”
৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর চৌরাস্তা এলাকার ইজিবাইকচালক ছোটন গাজী বলেন, “আজ সকালে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে বিপদে পড়েছি। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যারেজে রেখে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।”
খুলনা সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৮২৩ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আওতায় খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়।
তবে নাগরিকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নকশাগত ত্রুটি, ধীরগতির উন্নয়ন কাজ এবং বিভিন্ন স্থানে রাস্তা উঁচু করায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং অনেক এলাকায় বাড়িঘর রাস্তার তুলনায় নিচু হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের নোংরা পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে।
খুলনার নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলু বলেন, “খাল সংকুচিত হওয়া, নদী-খাল ভরাট, জলাধার দখল এবং জোয়ারের সময় রূপসা নদীর পানি শহরে ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত রাতের বৃষ্টিতে আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে।”
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “বৃষ্টি হলেই খুলনা ডুবে যায়। উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও জলাবদ্ধতার পুরোনো সমস্যা থেকে নগরবাসী মুক্তি পায়নি।”
টিআর
- ১চলতি অর্থবছরে ৫০ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ
- ২সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর
- ৩সরকারের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার কারণে সবকিছু হতাশায় পরিণত হয়েছে
- ৪নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি ও ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার
- ৫নামজারিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি: আব্দুল মান্নান
- ৬জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া : তথ্যমন্ত্রী
- ৭মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
- ৮কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- ৯বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ১০যানজট নিরসনে নবীনগর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- ১‘লুটপাটে সহায়তাকারী’ আইএফআইসির এমডি মনসুর মোস্তফা বহাল তবিয়তে
- ২ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
- ৩চাঁদপুরে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে বাড়ির মালিকের মৃত্যু
- ৪শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরল কমিটির হাতে
- ৫নবীনগরে সরকারি পুকুরপাড়ের লিজ নিয়ে বিতর্ক
- ৬পাথরঘাটায় তরুণী নিখোঁজ
- ৭ময়মনসিংহে ট্রাক চাপায় নারীসহ অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
- ৮প্রবাসী কার্ডে মিলবে প্রায়োরিটি চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা
- ৯শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী
- ১০সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবুরের পরিবারকে সরকারি সহায়তা





পাঠকের মতামত