
রাজশাহীর রেশম সিল্ক এর নামটা নিয়ে বরাবরই কিছুটা বিভ্রান্তি কাজ করে। অনেকেই ভুল করেন, এই সিল্ক কে রাজশাহী সিল্ক ভেবে। রেশম সিল্ক আর রাজশাহী সিল্ক এক নয়। রাজশাহীর রেশম শিল্প নিয়ে নিম্নে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো:-
রাজশাহীর রেশম সিল্ক উৎপাদন প্রক্রিয়া: রাজশাহী বিখ্যাত , এর রেশম সিল্ক এর জন্যই। শুধু দেশের গন্ডির মধ্যেই না , দেশের বাইরেও এই রেশম সিল্ক সমাদৃত। আর এই সিল্ক এর উৎপত্তি হয় প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে , চীনে। সেখান থেকেই মূলত শুরু।
১৩ দশকের দিকে শুরু হয়, রাজশাহীতে সিল্ক উৎপাদন। এরপরে ১৯৫২ সালের দিকে তৎকালীন পাকিস্তান সিল্ক উৎপাদন শুরু করে রাজশাহীতে। আর পরবর্তীতে ,১৯৬১ সালের দিকে যাত্রা শুরু হয় সিল্ক ফ্যাক্টরির।
১৯৭৭ সালে, ৬২ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৮ সালে তার কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরে , ১৯৭৮ এ হস্তান্তর করা হয় বাংলাদেশ সেরিকালচার ডেভেলোপমেট বোর্ড এর কাছে। আবার কিছু সমস্যায় পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় ২০০২ সালের শেষের দিকে এসে।
কাজ পুনরায় শুরু হলেও, অপর্যাপ্ত তুত চাষ, লোকবল, প্রশিক্ষণ, চাহিদার জোগানে অপর্যাপ্ততার জন্য; সূতা আমদানি করে কাজ করতে হয়।
আর তা অনেক সমস্যা হয়ে যায়, কেননা সারাদেশে সিল্ক এর যোগান দিয়ে যদি বিদেশেও রপ্তানি করতে হয়; তবে আমাদের নিজেদের উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। খুব সম্ভাবনাময় এই খাঁতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, গবেষণা জোরদার করতে হবে আর দক্ষ লোকবল তৈরী করতে হবে।
এই রেশম সিল্কের মূল কারিগর এই গুটিপোকা! কিন্তু গুটিপোকা কি এবং কিভাবে এই গুটিপোকা, রেশম সিল্কের কারিগর! গুটিপোকা বা ,
রেশমপোকা: গুটিপোকা বা , রেশমপোকা যা আঞ্চলিকভাবে , পলুপোকা নামে পরিচিত। তবে এর বৈজ্ঞানিক নাম” বোম্বাইক্স মরি ” যা , এনিমালিয়া শ্রেণীর ইন সেক্টা বর্গের অন্তর্ভুক্ত। মূলত এই গুটিপোকা হচ্ছে , সিল্ক মথ এর লার্ভা। এই গুটিপোকার একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, সেরিকালচার এ। যা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। সিল্ক বলতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা মালবেরি সিল্ক কেই বুঝি। কেননা, পৃথিবীব্যাপী, উৎপাদিত সিল্কের সিংহভাগ ই মালবেরি সিল্ক। এই রেশমপোকা বা , গুটিপোকা কিছু ধাপ পেরিয়ে ; এই সিল্ক উৎপাদনে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে, শুধুমাত্র বোম্বাইক্স মরি ই চাষ করা হয়। যদিও ,পরীক্ষামূলকভাবে কিছু সামিয়া সিনথিয়া রেসিনি এবং বছরে দুইবার বংশবৃদ্ধি করে এমন কিছু প্রজাতির চাষ হয়। যা কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এবং ইনস্টিটিউশন অফ ফুড এন্ড রেডিয়েশন বায়োলজি, সাভারে ই চাষ হয়; তবুও বাণিজ্যিকভাবে না।
এই সিল্ক তৈরির প্রক্রিয়াকে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে ;
* কৃষিভিত্তিক অংশ
*কারখানাভিত্তিক অংশ।
* কৃষিভিত্তিক অংশ : কৃষিভিত্তিক অংশের মধ্যে মূলত গুটিপোকা বা , রেশমপোকার জীবনচক্র অন্তর্ভুক্ত। প্রথমে ছোট রেশমপোকাগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এবং খুব রাজকীয়ভাবে এদের বড় করে তোলা হয়। যেখানে তাপমাত্রা খুব সাবধানতার সাথে নিয়ন্ত্রিত হয়। আবার খাবারের বিষয়গুলো খুব বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয়। এরপরে রেশমপোকারা পরিণত হয়ে রেশম তৈরী করতে থাকে। এদের লালা থেকে নির্গত হয় সেরিসিন নামক এক ধরণের প্রোটিন ; যা বাইরের পরিবেশে বাতাসের সংস্পর্শে এসে , রেশম সূতার সৃষ্টি করে। এবং ধীরে ধীরে , এই রেশম গুটি আকৃতি ধারণ করে। এর পরে , গুটিগুলোকে চাটাই আর বাঁশের তৈরী চন্দ্রাকির ভেতরে সাজিয়ে রাখা হয়। একসময় এই রেশমপোকাগুলো ,গুটি থেকে এক সাইড কেটে বের হয়ে আসে ;এরপরে এদের থেকে লিঙ্গ নির্ধারণ করে বেছে নেয়া হয়। আর এদের মাধ্যমে যে ডিম ফোটানো হয় ,সেখান থেকে আবারো রেশম বা , গুটিপোকার উৎপন্ন হয়। এদের মূল খাদ্য তুঁত পাতা। কিছু সময় এরা এতো বেশি পরিমানে খাবার খায় , যে এর পরবর্তী বেশ কিছুদিন এরা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।
* কারখানাভিত্তিক অংশ: কারখানাভিত্তিক অংশের মধ্যে সেই চন্দ্রাকির ভেতরের কোকুন থেকে পরবর্তী ধাপগুলো অন্তর্ভুক্ত। চন্দ্রাকির মধ্যে কোকুনগুলোর মধ্যে থেকে বাছাই করা হয় ,কোনগুলো রিল্যাবল আর কোনগুলো আন – রিল্যাবল। যেইগুলো রিল্যাবল , সেগুলোকে গরম পানির মধ্যে ফেলা হয়। এরপরে রেশম রিলিং করা হয়। তারপর জড়ানো হয় , কাপড় বুননের জন্য অপেক্ষাকৃত বড় রিলে।এরপরে এইগুলো চলে যায় , বুননে। বুনন হতে পারে পাতলা কিংবা , মোটা। তবে , প্রধানত র-সিল্ক খুব মিহি বুননের নরম বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে। এরপরের ধাপে যায় প্রিন্টিং এ। এছাড়াও কিছু কাপড় , যেগুলো র -সিল্ক অথবা সলিড রঙের কাপড় হিসেবে তৈরী হয়। অপরদিকে , যেইগুলো আন -রিল্যাবল কোকুন; সেগুলোকেও সিল্ক স্পিনিং এ দেয়া হয়। এরপরে সেগুলো ও একইভাবে জড়ানো এবং বুননের পরে প্রিন্টিং এ যায়। আর তৈরী হয় সিল্ক কাপড়।
- ১বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসায় আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার
- ২রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে স্বল্পমেয়াদি অধিবেশন ডাকা হবে: চিফ হুইপ
- ৩বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন
- ৪২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন
- ৫ভারত সফরের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ৬এসএসসির ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট
- ৭আলোচিত রাফিজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার
- ৮তনু হত্যা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
- ৯সাংবাদিক জোবাইয়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
- ১০জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬০.৯৭ শতাংশ
- ১দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী আনিসুর রহমান
- ২কয়রায় পুলিশ সুপারের সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময়
- ৩মনু সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা সমাধানের দাবিতে কৃষকদের স্মারকলিপি
- ৪প্রশাসনে বদলি-পদায়নে এআই ব্যবহারের নির্দেশ
- ৫বিতর্কিত সনদে রূপালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী গোলাম কিবরিয়া
- ৬অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালু জব্দ, জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
- ৭আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নৌপথে ট্র্যাকিং সিস্টেম থাকা দরকার: নোয়াখালী জেলা প্রশাসক
- ৮সাবেক নারী সেনাসদস্যকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
- ৯চাঁদপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনের মৃত্যু
- ১০ভরিতে ৯৮৫৬ টাকা বাড়লো সোনার দাম





পাঠকের মতামত