সাইদুর রহমান নোমান, নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৫ ৩:১২ পিএম , আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২৫ ৩:১৩ পিএম

সাইদুর রহমান নোমান

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সংস্কারের ঘোষণা দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্য খাতগুলোর মত রাষ্ট্রের গুরত্বপূর্ণ খাত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল সরকার। সরকারের এ অধ্যাদেশটি বাতিলের দাবিতে প্রায় দুই মাস আন্দোলন করে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিকে নানা সংকটের সম্মুখীন হলেও এনবিআর স্বচ্ছতা, সহজকরণ ও রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কিছু খাতে ডিজিটালাইজেশন করেছে। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অটোমেটেড পদ্ধতিতে আয়কর রিটার্ন অডিটে নির্বাচন পদ্ধতি চালু করেছে। শুল্ক-কর জমা দিতে অনলাইনে ‘এ-চালান’ সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

লক্ষমাত্রার সাথে আহরণের বড় ফারাক

২০২৪-২৫ অর্থবছরের এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বাস্তবে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা বা প্রায় ২০ শতাংশ।

আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা, অথচ আদায় হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি টাকা— ঘাটতি প্রায় ৪২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।

স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল একই পরিমাণ, কিন্তু আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৯ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা কম।
কাস্টমস বা শুল্ক খাতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৫১০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ১ লাখ ১৯৮ কোটি টাকা—ঘাটতি ২০ হাজার ৩১২ কোটি টাকা।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সামান্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। শুল্কে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ, ভ্যাটে ৩ দশমিক ০১ শতাংশ এবং আয়করে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

২৫ বছরে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি

২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরের পরে গত অর্থবছরে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ১৯৯৯-০০ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ গত ২৫ বছরে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছে গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ করেছে ৩ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকার চেয়ে কিছু বেশি ,যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

এনবিবআর সংস্কার উদ্যোগ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে পৃথক দুটি বিভাগ গঠনের মধ্য দিয়ে রাজস্ব প্রশাসনে এক যুগান্তকারী সংস্কার এলো। এনবিআরের ৫০ বছরের ইতিহাসে এটি প্রথম বড় প্রশাসনিক বিভাজন। সরকারের রাজস্ব সংক্রান্ত কার্যক্রমকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠন এবং পরিচালনার জন্য একটি নতুন কাঠামো প্রবর্তন করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

এরমধ্যে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’কর ব্যবস্থা প্রণয়ন, কর নীতি প্রণয়ন, আইন ও বিধি সংশোধন, গবেষণা ও বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক চুক্তি বিষয়ে মতামত প্রদান করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকবে এই বিভাগ। এর আওতায় থাকবে কর আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং কাস্টমস আপিল ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি স্ট্যাম্প ডিউটি, আয়কর, ভ্যাট, কাস্টমস ইত্যাদি নীতিগত বিষয় দেখবে বিভাগটি। একজন সচিব নিয়োগ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত হবে।

রাজস্ব নীতি বিভাগকে সহায়তার জন্য একটি পরামর্শক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে; যাতে অর্থনীতিবিদ, ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রতিনিধিরা থাকবেন।
আর ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আহরণ, বাস্তবায়ন, প্রশাসন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগ কাজ করবে। এটি সরাসরি রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে থাকবে। সিভিল সার্ভিসের কর, শুল্ক ও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা এই বিভাগে পদায়ন পাবেন।

অধ্যাদেশে কর্মকর্তাদের অসন্তোষ, আন্দোলনে স্থবির

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল সরকার। অধ্যাদেশ সংশোধনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই আন্দোলন প্রায় দুই মাস চলে। সারাদেশে কম্পলিট শার্টডাউনসহ নানা আন্দোলনে রাজস্ব খাত অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়। রাজস্ব ঘাটতিতে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। আন্দোলন দমাতে সরকার এনবিআর সংশ্লিষ্ট কাজকে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা করে। আন্দোলনকারীদের দুদকের অভিযানের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো হয়।

অধ্যাদেশ স্থগিত, অধ্যাদেশ সংশোধনে কমিটি গঠন

এনবিআর দু’ভাগ নিয়ে অধ্যাদেশটি সংশোধন করা হবে। এই দুই বিভাগে প্রশাসন ক্যাডারের যেমন আধিপত্য থাকবে না, তেমনি শুল্ক ও কর ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আধিপত্য থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক

সকল ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এতে করদাতারা ঘরে বসে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবে। করদাতাদের ভোগান্তি কমবে। সহজে কর দিতে পারবে আয়করদাতারা। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা অথবা মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি ইচ্ছা করলে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭ লাখ ১২ হাজার ৪৭৭ জন করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেন বিদায়ী।এর আগের ২০২২-২৩ করবর্ষে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪২৭ জন করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেন।

বিদেশিদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়

২০২৫-২৬ করবর্ষে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে— এই শ্রেণির করদাতারা চাইলে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।

অটোমেটেড পদ্ধতিতে আয়কর রিটার্ন অডিটে নির্বাচন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি ২০২৩-২৪ করবর্ষে সারা দেশের মোট ১৫ হাজার ৪৯৪টি আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে র‍্যান্ডম সিলেকশন বা দৈবচয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই রিটার্নগুলো বাছাই করা হয়েছে। অডিট নির্বাচনের পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনবিআর ইতোমধ্যে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা নির্বাচনের মানদণ্ড নামে একটি অটোমেটেড ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অফলাইনে জমা পড়া পেপার রিটার্নগুলোর তথ্য এখনও পুরোপুরি ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে অডিট কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বিকল্প পদ্ধতিতে রিটার্ন নির্বাচন করা হয়েছে।

শুল্ক-কর জমা দিতে অনলাইনে ‘এ-চালান’

২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে শুল্ক ও কর অনলাইনে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে ‘এ-চালান’ সিস্টেম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ পদ্ধতিতে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড; এমএফএস যেমন রকেট, বিকাশ, নগদ, উপায়, এমক্যাশ, ট্রাস্টপে ইত্যাদি দিয়ে শুল্ক-কর পরিশোধ করা যাবে। এ উদ্যোগটি এনবিআর ও অর্থ বিভাগের একটি যৌথ কার্যক্রম। এ ব্যবস্থায় আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্টরা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে যে কোনো সময় শুল্ক-কর পরিশোধ করতে পারবেন। তাড়াতাড়ি পণ্য খালাস করতে পারবেন।

সিঙ্গেল উইন্ডোর লাইসেন্স সেবা চালু, ৪.৩০ লাখ ছাড়িয়ে

দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-সম্পর্কিত সব সেবায় চালু হওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অনলাইনে ইস্যু করা সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট সিস্টেম চালু করে। এই রকম নিবন্ধনধারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার অতিক্রম করেছে।

করফাঁকি রোধে জোরদার বেশি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর,ভ্যাট ও কাস্টমস আইন বাস্তবায়নে বেশি জোর দিচ্ছেন। এনবিআরের গোয়েন্দা ও কর্মকর্তারা অনেকগুলো অভিযান চালিয়েছে। নবগঠিত আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে ১৮৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকির প্রাথমিক তদন্ত করেছে। এসব তদন্তে এক হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয় উদঘাটন করেছে তারা। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৬৩ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রাজস্ব। ২৩১টি এ-চালানের মাধ্যমে ১১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে। ১২৫ সরকারি প্রকৌশলীর করফাঁকির অভিযান করছেন। এছাড়াও আরো অনেক করফাঁকির অভিযান চালাচ্ছে আয়কর গোয়েন্দারা এবং রাজস্ব উদ্ধার করছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, গত অর্থবছর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরাতা দিয়ে। সংস্কার যেমন করতে চেয়েছে ,তেমন সংস্কার হয়নি। এটাকে বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে। এমন সময় বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে ,যখন রাজস্ব আদায়ের মেইন সময়। প্রবৃদ্ধি যেটা হয়েছে এটা নগন্য । সংস্কারের সাথে সংস্কারের কোন সম্পর্ক নেই। ব্যক্তি স্বার্থকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে।কি কারণে এমন হয়েছে এটা এনবিআর থেকে জানা দরকার।

অর্থনীতিবিদ মো. মাজেদুল হক বলেন, স্বাধীনতা পর এবারই প্রথম এনবিআর সংস্কারের এত বড় উদ্যেগ নিয়েছে। এনবিআরকে দুইভাগ করার সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এভাবে এনবিআর সংস্কার করতে পারলে ভাল আউটফুট পাওয়া যাবে।এই অর্থবছরের অনেকগুলো প্রযুক্তিগত দিক যুক্ত করা হয়েছে। এটার মাধ্যমে কর টু জিডিপি রেশিও বাড়বে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, গত অর্থবছর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরাতা দিয়ে। সংস্কার যেমন করতে চেয়েছে ,তেমন সংস্কার হয়নি। এটাকে বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে। এমন সময় বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে ,যখন রাজস্ব আদায়ের মেইন সময়। প্রবৃদ্ধি যেটা হয়েছে এটা নগন্য । সংস্কারের সাথে রাজস্ব আহরণেরর কোন সম্পর্ক নেই। ব্যক্তি স্বার্থকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে।কি কারণে এমন হয়েছে এটা এনবিআর থেকে জানা দরকার।

এম জি

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এআইর ব্যবহার সম্ভাবনাময়

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ব্লকচেইনের ব্যবহার সম্ভাবনাময় বলে জানিয়েছেন আলোচকরা। শনিবার (১৯ জুলাই) ...

এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ ও ক্রয়ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে টিসিবি

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং সরকারি ...

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানিতে বেপজার অবদান সাড়ে ১৭ শতাংশ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও দেশের সামগ্রিক রপ্তানি হ্রাসের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন ...

ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় যাবে আর্থিক সেবা : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে মানুষের সেবা ...

বাজার মনিটরিং আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার তাগিদ বাণিজ্য সচিবের

বাজার মনিটরিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়, আন্তরিক সহযোগিতা ...