
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় কয়েকজন শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক বিমান গাজা সিটি, খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহে এই হামলা চালায়।
টানা দ্বিতীয় রাতের মতো গাজায় ইসরায়েল হামলা চালাল। হামাস কয়েক দিন আগে একটি নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার পর এই হামলা হলো। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি তাদের অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের কাছে হস্তান্তর করবে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, গাজায় সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।
এতে হামাসের দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন রবিবার বলেছেন, গাজা উপত্যকায় হামলা বন্ধ করার জন্য এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। বর্তমানে এই এলাকার ৭০ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোহেন আরো বলেন, হামাস যদি নিরস্ত্র না হয়, তাহলে পুরো গাজা উপত্যকা ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
যদিও বোর্ড অব পিসের পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। রবিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, তারা হামাসের দুই কমান্ডারকে হত্যা করেছে। এর একজন ছিল বিশেষ নুখবা বাহিনীর সদস্য। অন্যজন ছিল মাগাজি ব্যাটালিয়নের সদস্য। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আরো জানায়, গত সপ্তাহে আলাদা এক হামলায় উত্তর গাজার জাবালিয়া ব্যাটালিয়নের আরেক হামাস সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।
তাদের দাবি, এই তিনজনই ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করছিল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর গাজার জাবালিয়ার কাছে আরেক হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
খান ইউনিসে একটি বাড়িতে হামলায় বাবা, মা ও তাদের নয় বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছে। দেইর আল-বালাহে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এক হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বোর্ড অব পিস গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। শুক্রবার ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েল ‘খুবই সন্তুষ্ট’। তিনি এটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেন। তবে হামাস সত্যিই তাদের অস্ত্র ছেড়ে দেবে কি না বা গাজায় তাদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে কি না, তা নিয়ে ইসরায়েলের গভীর সন্দেহ রয়েছে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই খসড়া পরিকল্পনাকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের অংশ। এর লক্ষ্য গাজার যুদ্ধের অবসান ঘটানো। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশ করা ২০ দফা পরিকল্পনায় চুক্তি বাস্তবায়নের তদারকির জন্য বোর্ড অব পিস গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এতে হামাসকে নিরস্ত্র করা, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। শুক্রবার আরো একটি ১৫ দফার রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়। এতে চুক্তি বাস্তবায়নের শেষ ধাপগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এখনো এই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ‘ভারী অস্ত্র, সামরিক উৎপাদন কেন্দ্র, অস্ত্রের গুদাম এবং সুড়ঙ্গের তালিকা তৈরি করে সেগুলো সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ এতে আরো বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ইসরায়েল তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে তবেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। কীভাবে অস্ত্রগুলো বোর্ড অব পিসের কাছে হস্তান্তর করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সব ভারী অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগারে রাখা হবে। এসবের ব্যবস্থাপনা করবে ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল কমিটি। এটি বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি। এই কমিটির কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তরে হামাস সম্মত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কমিটিটি কায়রো থেকে কাজ করছে। তারা এখনো গাজায় প্রবেশ করেনি।
গত বছরের নভেম্বরে বিবিসি ভেরিফাই দেখা উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার এলাকাগুলোতে ইসরায়েল এক হাজার ৫০০টির বেশি ভবন ধ্বংস করেছে। তবে কিছু এলাকার উপগ্রহচিত্র না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ২০০৭ সাল থেকে হামাস গাজা উপত্যকা শাসন করে আসছে।
এনজে
- ১ইউসিবি ব্যাংকের মঙ্গলবার লেনদেন বন্ধ
- ২ঈশ্বরদীতে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ১
- ৩বে লিজিং স্পট মার্কেটে যাচ্ছে মঙ্গলবার
- ৪নিরস্ত্রকরণ চুক্তির পর গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১৩
- ৫৩৬ জুলাই: ক্যালেন্ডারের পাতা ছিঁড়ে এক নতুন সকাল
- ৬রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪১৯ জন গ্রেফতার
- ৭আজ থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি সরকারের
- ৮বিশ্ববাজারে ৪ শতাংশের বেশি কমলো তেলের দাম
- ৯সূচকের মিশ্রাবস্থায় চলছে লেনদেন
- ১০ইসলামিক ফাইন্যান্সে এমডি নিয়োগ
- ১পদ-পদবী সংকটে মানবেতর জীবন এমপিওভুক্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের
- ২নবীনগরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় আলোচিত ব্যক্তি গ্রেপ্তার
- ৩দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর
- ৪১২ কেজির এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা
- ৫সরকারের প্রধান লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি: আমিনুল হক
- ৬এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক ফজলুল হক
- ৭প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাবনায় মানববন্ধন
- ৮শিগগিরই ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বের দৌড়ে কারা এগিয়ে?
- ৯বাংলাদেশ-নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল
- ১০ঢাকায় আসছেন মার্কিন নৌ কমান্ডার





পাঠকের মতামত