ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬ ৩:৪৭ পিএম

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩৫টি দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এঘটনায় ব্যবসায়ীদের কয়েক বছরের কষ্টার্জিত পুঁজি, দোকানে থাকা মালামাল ও দোকানের অবকাঠামো পুরাটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এ ঘটনায় প্রায় ৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে রবিন নামের এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। তাৎক্ষনিক আগুন আশেপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের অধিকাংশ দোকান টিন ও দাহ্য সামগ্রী দিয়ে নির্মিত হওয়ায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আশেপাশের দোকানে ছড়িয়ে পরে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই বাজারের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি দোকান ও ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে থাকা নগদ অর্থ, মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক কাগজপত্রও সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস আরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে হয়তো আগুনের বিস্তার কমানো সম্ভব হতো এবং আরও কয়েকটি দোকান রক্ষা করা যেত।

অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, পাথরঘাটা উপজেলা সদর থেকে রায়হানপুর ও কাকচিড়া ইউনিয়নের দূরত্ব অনেক হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতে সময় লাগে। তাই ভবিষ্যতে জানমাল রক্ষায় রায়হানপুর বা কাকচিড়া ইউনিয়নে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এ অঞ্চলে একটি ফায়ার স্টেশন থাকলে এমন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এবং মাননীয় চিফ হুইপ আলহাজ নুরুল ইসলাম মণি এমপির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।”

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিস তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হলে কোনোভাবেই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় বলে ...

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ...

ফটিকছড়িতে চলছে দ্বিতীয় দিনের হরতাল,মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও টানা ...