
সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। সোমবার সকল পয়েন্টে ধীরগতিতে কমছে নদ-নদীর পানি। তবে পানি কমলেও দুর্ভোগ কমছেনা বন্যার্তদের। বন্যায় সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোতে চলছে হাহাকার। রাস্থাঘাটের বিপুল ক্ষয়ক্ষতিতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। বিভিন্ন রোডে এখন বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। সিলেটসহ কয়েকটি স্থানে ভারী বর্ষণের আভাসে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা।
এদিকে রোববার সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি সিলেট নগরীতেও পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীর বন্যাকবলিত প্রধান সড়কগুলো থেকে সরেছে বন্যার পানি। তবে এখনো কিছু পাড়া মহল্লায় পানি রয়ে গেছে। বিবর্ণ রং ধারণকারী পানি থেকে বিকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেটের দেয়া তথ্যমতে এই বন্যার এই চিত্র ফুটে উঠেছে। পাউবো সিলেট জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে সুরমা নদীর পানি সিলেটপয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। সকাল ৯টায় সেখানে ১০ দশমিক ৭৪ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কানাইঘাট পয়েন্টে পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টের পানি শনিবারের তুলনায় দশমিক শূন্য ৪ সেন্টিমিটার কমে ১৩ দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে শনিবার সন্ধ্যায় ১০ দশমিক ৫৪ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সেখানে রোববার সকাল ৯টায় প্রবাহিত হচ্ছিল ১০ দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার। নদীর শেরপুর পয়েন্টে শনিবার থেকে পানি বিপৎসীমার নিচ
দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রোববার সকালে সেটি আরও কমে ৮ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৮ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার।
লোভা নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে পানি শনিবারের তুলনায় দশমিক শূন্য ৪ সেন্টিমিটার কমে ১৩ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারি নদের সারিঘাট পয়েন্টে পানি দশমিক শূন্য ৮ সেন্টিমিটার কমেছে। রোববার সকালে ওই পয়েন্টে পানি ১০ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধলাই নদের ইসলামপুর পয়েন্টে পানি শনিবারের তুলনায় দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার কমে রোববার সকালে ৯ দশমিক ৭৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেট বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস. এম শহিদুল ইসলাম বলেন, সিলেটের সবকটি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি কমছে ধীরগতিতে। এর মধ্যে কিছু নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করছি, অন্য নদীগুলোতেও বিপদসীমার নিচে পানি নেমে আসবে।
জানা গেছে, নগরীর উপশহর, তেররতন, সোবহানীঘাট, যতরপুর, মিরাবাজার, জামতলা, তালতলা, শেখঘাট, বেতের বাজার, ঘাসিটুলা, কুয়ারপাড়, লালাদিঘীর পাড়, মির্জাজাঙ্গাল এলাকার পানি মূল সড়ক থেকে নেমে গেছে। তবে কিছু পাড়া- মহল্লার অভ্যন্তরের সড়ক ও বাসাবাড়ির সামনে পানি এখনো জমে রয়েছে। এসব
পানিতে ময়লা–আবর্জনা ভাসতে দেখা গেছে। পানিগুলোও পচে কালো রং ধারণ করে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
নগরীর বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রুহুল আলম বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে লোকজন বাসাবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। রোববার সকাল পর্যন্ত মহানগর এলাকায় সহস্রাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করেছিল। রোববার কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে গেছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাসে ঘরে ফেরা মানুষের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেটরি টিম (বিডবিøউআইটি) জানিয়েছে, জুনের শেষে বা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং মৌসুমী বায়ু সারাদেশে মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
অধিদপ্তরের পূর্বাভাস তথ্যমতে, সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
- ১সরকারের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার কারণে সবকিছু হতাশায় পরিণত হয়েছে
- ২নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি ও ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার
- ৩নামজারিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি: আব্দুল মান্নান
- ৪জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া : তথ্যমন্ত্রী
- ৫মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
- ৬কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- ৭বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৮যানজট নিরসনে নবীনগর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- ৯সংসদে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষমতার একচ্ছত্র অপব্যবহার’ হচ্ছে: টিআইবি
- ১০মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ
- ১‘লুটপাটে সহায়তাকারী’ আইএফআইসির এমডি মনসুর মোস্তফা বহাল তবিয়তে
- ২চাঁদপুরে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে বাড়ির মালিকের মৃত্যু
- ৩ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
- ৪শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরল কমিটির হাতে
- ৫নবীনগরে সরকারি পুকুরপাড়ের লিজ নিয়ে বিতর্ক
- ৬পাথরঘাটায় তরুণী নিখোঁজ
- ৭ময়মনসিংহে ট্রাক চাপায় নারীসহ অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
- ৮রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে
- ৯শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী
- ১০চাঁদপুরে ইলিশের আকাল, কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ দল





পাঠকের মতামত