জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬ ৯:২৩ পিএম

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বাজারে ভুট্টার দামের ধস—এই তিন সংকটের মুখে পড়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ভুট্টাচাষিরা। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, প্রত্যাশিত ফলন না পাওয়া এবং বাজারে কম দামে ভুট্টা বিক্রির কারণে অনেক কৃষক এখন লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের বজরাদিয়ার খাতা চর এলাকার কৃষক মাহফুজার রহমান চলতি মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেন। কিন্তু বাজারে ভুট্টার দাম আশানুরূপ না হওয়ায় তিনি উৎপাদিত ভুট্টা বিক্রি না করে সংরক্ষণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

কৃষক মো. হাবিবুর রহমান ডাবলু জানান, মৌসুমজুড়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে অনেক ভুট্টাগাছ হেলে পড়ে এবং সময়মতো সার প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “এখন বাজারে দাম এতটাই কম যে বিক্রি করেও তেমন লাভ থাকছে না।”

কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা উৎপাদনে বীজ, জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক, মাড়াই ও পরিবহনসহ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা। বিপরীতে প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে প্রায় ৬০ মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। এতে উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে কৃষকদের হাতে মণপ্রতি লাভ থাকছে মাত্র ১৩৫ টাকার মতো, যা তাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিলমারীতে ২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত ভুট্টা ভালোভাবে শুকিয়ে আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের নিচে নামিয়ে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক ক্ষেতেই ভুট্টা পরিপক্ব হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ফলন কম হয়েছে। আবার বাজারমূল্যও আশানুরূপ নয়। কৃষকরা চাইলে ভুট্টা সংরক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি আগাম আমন ধান, পাট, রবি শস্য ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ করে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারেন।”

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সাধারণত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত ভুট্টা বাজারজাত করা হয়। তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব উৎপাদন ও বিপণন—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ১ হাজার ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক শামছুদ্দোহা বলেন, এপ্রিল ও মে মাসে কুড়িগ্রামে কয়েক দফা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের ঘন ঘন সৃষ্টি এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র পূর্বালী বায়ুর প্রভাবে শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ায় স্বল্প সময়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে কুড়িগ্রাম, এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপ্রবণ হয়ে ওঠে।

অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বাজারে মূল্যপতনের দ্বৈত আঘাতে এখন চিলমারীর ভুট্টাচাষিদের চোখে-মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারমূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেলে অন্তত উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য লাভের মুখ দেখতে পারবেন তারা।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

মোড়লগঞ্জ-শরণখোলা-খুলনা রুটে বিআরটিসির নৈরাজ্য অনিয়মে অতিষ্ঠ যাত্রীরা

বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ-শরণখোলা-খুলনা রুটে চলাচলকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বাস সেবাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে ...

চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের আলুকদিয়া বাজার এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুল্লাহ (১৫) নামে এক কিশোর মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক ...