দিদারুল আলম
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬ ১:৪৮ পিএম

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং বন্যায় চট্টগ্রামের ৬৭টি নদী, উপ-নদী, লেক, খাল এবং ছড়ার ৩৭১টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বন্যার কারণে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ২শ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম এবং খাগড়াছড়ির একাংশে ২৬৯টি স্থানে নদী ও খালের বাঁধ ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২ কিলোমিটার বাঁধ এবং ২৫টি স্লুইসগেট। এতে দেড় শ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে রাঙামাটি জেলার একাংশে ১০২টি স্থানে ভাঙনের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে পাউবো। এতে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেটি মেরামতের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চট্টগ্রাম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়াসহ চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হন। সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি ত্রাণ তৎপরতা উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী নামে। এতে প্রাণহানি, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া এবং সাড়ে পাঁচ শতাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পানিবন্দি এলাকায় ত্রাণসংকট ও পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। মূলত হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী, খাল ও ছড়ার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ তিন থেকে চার দশক আগে নির্মিত স্লুইসগেটগুলো ভালভাবে কাজ করেনি। অনেক স্লুইসগেট মৎস্য ও লবণচাষিরা বন্ধ করে রাখায় পানি নামতে দেরি হয়। যার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

পাউবো সূত্র জানায়, ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা নদী, ধুরুং উপ-নদী, বারোমাসিয়া খাল, মন্দাকিনি খাল, লেলাং খালের বিভিন্ন পয়েন্টে পাড় এবং বাঁধ ভেঙে গেছে। পটিয়া উপজেলার চান্দখালী খাল, হারগাজী খাল, চামুদরিয়া খাল, হরনা খাল, গরুলুডা শাখা খালের বিভিন্ন পয়েন্টে পাড় ভেঙে গেছে।

লোহাগাড়া উপজেলার হাঙ্গর খাল, সাতকানিয়া ডলু নদী, সাঙ্গু নদী, কাটাখালী খাল, বাংলাবাজার ছড়া খাল, টংকাবতী খাল এবং সুখছড়ি খালের বিভিন্ন পয়েন্ট ভেঙেছে। চন্দনাইশ উপজেলার গুইল্লাছড়ি খালের পাড় এবং আনোয়ারার সাপমারা খালের পাড়সহ পাঁচটি স্থানে সাগরের বাঁধ ভেঙেছে। বাঁশখালী উপজেলার ২৪টি স্লুইসগেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার জলকদর খাল, জালিয়াখালী খাল, সোনাইছড়ি খাল, চাম্বল ছড়া খাল, রাজাখালী খালের পাড়ও ভেঙেছে।

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার ধনিয়া খাল, দীঘিনালা উপজেলায় মাইনী নদী, চেঙ্গী নদী এবং খাগড়াছড়ি খালের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে গেছে। সন্দ্বীপের তিনটি স্লুইসগেট এবং সীতাকুণ্ডের একটি স্লুইসগেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কুরমাইছড়া খাল, হৃদ খাল, শিলক নদী, হুইটেকার খাল, রাইখালী খাল, কোদালা খাল, মাহাফুজ খাল, পোমরা খাল, বেতাগী খাল, কর্ণফুলী নদী, ইছামতী নদী, বাঙ্গালহালিয়া খাল, সুন্দরী খাল, ইছাখালী খাল, কুরমাই খাল এবং রগতিয়া ছড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে গেছে।

এ ছাড়া রাউজান উপজেলার বড়ুয়াখালী খাল, কাগতিয়া খাল, উবালং খাল, তেপাইর খাল, সর্তা খাল, মোবারকখীল খাল, ডাবুয়া খাল, হদ খালের বিভিন্ন স্থানে পাড় ভেঙেছে।

হাটহাজারী উপজেলার বোয়ালিয়া খাল, চ্যাংখালী খাল, প্যারাখালী খাল, মান্দারী খাল, বোয়ালখালী নাজিরখালী খাল, পেতন আউলিয়া খাল, ছন্দরিয়া খাল, কধুরখীল খাল, নাপিতখালী খালের পাড় ভেঙেছে।

এদিকে পাউবো রাঙামাটি জেলার অধীনে কর্ণফুলী, ইছামতী, শিলক, কাপ্তাই হৃদ, সর্তাখালসহ বিভিন্ন খালের ১০২টি স্থানে ভাঙনের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে সংস্থাটি। এতে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেটি মেরামতের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহিদ বলেন, ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলোর সংস্কারের পাশাপাশি যোগাযোগের ব্যবস্থাও করতে হবে। গুরুত্ব বিবেচনা করে বেশি ভাঙন এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর যেসব এলাকায় বেশি ভেঙে গেছে সেখানে নতুন করে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণে নদী-খাল ও ছড়ায় পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। যার কারণে অনেক ঝুঁকিমুক্ত এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে আলোচিত শিশু তায়েবা হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর ...

সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা

দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ...