ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ ৮:৫৯ এএম , আপডেট: জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ ৯:০৩ এএম

স্পেন সরকার পদেমোস দলের সঙ্গে এক যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলো যখন সীমান্ত কঠোর করা ও দেয়াল তোলার দিকে যাচ্ছে, তখন স্পেন হাঁটছে ভিন্ন পথে।

এই প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার ‘রাজকীয় ডিক্রি’বা বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরপরই কোনও দীর্ঘ সংসদীয় বিতর্ক ছাড়াই এটি কার্যকর হবে। এটি শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং ইউরোপের কোনও একক দেশে নেওয়া সবচেয়ে বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর একটি। এর মাধ্যমে স্পেন নিজেকে অভিবাসীবান্ধব দেশ হিসেবে আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করলো।

একবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপের আর কোনও দেশ এত বড় পরিসরে অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেয়নি। আগে ইতালি বা গ্রিস সীমিত আকারে কিছু খাতে নিয়মিতকরণ করলেও, স্পেনের এই ডিক্রি গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে হাই-টেক স্টার্টআপ—সব খাতের জন্য উন্মুক্ত। এমনকি ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘সাপাতেরো নিয়মিতকরণ’ কর্মসূচিকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে।

যখন আশপাশের দেশগুলো অভিবাসী বহিষ্কার নিয়ে আলোচনা করছে, তখন স্পেন অন্তর্ভুক্তির পথ বেছে নিয়েছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, যাদের এতদিন ‘অদৃশ্য’ বলা হতো, তারাই স্পেনের উন্নয়নের বড় চালিকাশক্তি।

বার্সেলোনা, মাদ্রিদ ও ভালেন্সিয়ার মতো শহরে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি পরিবারের জন্য এই ডিক্রি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বর্তমানে স্পেনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কঠিন জীবন কাটাচ্ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনের ফলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। পর্যটন, কৃষি ও খুচরা ব্যবসা খাতে কাজ করা এসব প্রবাসী এখন বৈধ শ্রম চুক্তি করতে পারবেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং নির্বিঘ্নে দেশে পরিবারের কাছে যাতায়াত করতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ‘ছায়া শ্রমিক’ সুরক্ষিত নাগরিক জীবনে প্রবেশ করবেন।

স্পেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দেশটির কল্যাণ রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক প্রয়োজন। ৫ লাখ মানুষকে বৈধ করলে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো কর ও সামাজিক নিরাপত্তা অনুদান সরকারি কোষাগারে যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ডিক্রি বিশেষভাবে নির্মাণ শিল্প, বয়স্কদের যত্ন ও সেবা খাতের শ্রম সংকট কমাতে সহায়ক হবে—যেখানে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও পদেমোস দলের এই ‘রাজকীয় ডিক্রি’কে অনেকেই রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখছেন। সংসদীয় ভোট এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধীদের বাধা দেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। ফলে অনিশ্চয়তায় থাকা ৫ লাখ মানুষের জন্য বৈধতার পথ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যাচ্ছে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

আইনি বাধা কাটলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় মারিন ল্য পেনের ২০২৭ নির্বাচন

মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ফ্রান্স থেকে: ফ্রান্সের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেন ২০২৭ ...

প্যারিসের অদূরে লা কুরনভ পার্কে এমসি ইনস্টিটিউট ফ্রান্সের বর্ণাঢ্য শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত

ফ্রান্স থেকে মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম: প্যারিসের অদূরে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত লা কুরনভ পার্কে গতকাল ...

বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বৃদ্ধির ডিক্রি জারি, ফ্রান্সজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ

ফ্রান্স সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দেশগুলো থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ...