ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ ৪:৩৬ পিএম

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বাংলাদেশের সকল আলিয়া মাদ্রাসায় বই প্রেরণ করা হয়। এই বইসমূহের লেখাগুলো হওয়ার কথা ছিল কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এবং ইতিহাসগুলো হওয়ার কথা ছিল কুরআনুল কারীম ও হাদিস গ্রন্থ সমূহ থেকে। এখানে ইসলাম তথা আল্লাহর কর্তৃক নিষিদ্ধ কোন কথা ওঠার প্রশ্নই আসে না। কারণ মাদ্রাসা মানেই হচ্ছে দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। আল্লাহ তা’আলা বলেন:

إن الدين عند الله الاسلام.

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দিন হচ্ছে ইসলাম।

অর্থাৎ, মাদ্রাসা মানে ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ইসলাম তথা আল্লাহর দীনকে জানার জন্য অভিভাবকরা বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে তাদের সন্তানদেরকে ভর্তি করায়। কিন্তু আফসোস: এখানে আকাঈদ ও ফিকহ বইয়ে কদমবুচির কথা বলা হয়েছে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত কারো সামনে মাথানত করাও জায়েজ নেই।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে সমাজের ছয়টি স্তর দেওয়া আছে। যেখানে বলা হয়েছে, কৃষিকাজ আবিষ্কার করেছে মেয়েরা। কিন্তু, শায়খ আহমদ মামুর আল আসিরি কর্তৃক লিখিত “মুসলিম জাতির ইতিহাস” বইটিতে স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে: হযরত জিব্রাইল (আ.) এসে হযরত আদম (আ.)-কে দুনিয়াতে জীবন যাপনের জন্য কৃষিকাজ শিখিয়ে দিয়ে যান।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে আরও আছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু, বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই জানে যে, সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কেউ নয়।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষিশিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা সহ অনেক বই রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে।এর মধ্যে বেশিরভাগ বই মেয়েদের ছবি দেওয়া আছে। কিন্তু পর্দারত অবস্থায় নেই। এমনকি এনিমেশন এর মাধ্যমে তৈরি ছবিগুলোতেও নেই। অন্যদিকে হাদিস শরীফে এসেছে:

عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال المرأة عورة فإذا خرجت استشرفها الشيطان.

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (র.) নবি কারীম (স.) থেকে বর্ণনা করেন: মহিলারা পর্দায় থাকার বস্তু। যখন সে (পর্দা অপেক্ষা করে) বাহিরে আসে তখন শয়তান তাকে সুসজ্জিত করে দেখায়।

অর্থাৎ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বইগুলোর ডিজাইন এবং লেখা কখনো অন্যান্য বোর্ডের সাথে মিলতে পারে না।

তাই বাংলাদেশ সরকারের নিকট অনুরোধ থাকবে , পরবর্তীতে বইগুলো “শায়খ সাইয়েদ কামালুদ্দিন আব্দুল্লাহ্ জাফরি (হাফি.)” এর মাপের আলেমদের দ্বারা লিখাবেন এবং ডিজাইনগুলোর মধ্যে মেয়েদের ছবি পর্দা সহকারে দিবেন। অন্তত, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বইগুলো হলেও এমন করবেন। আল্লাহ আপনাদের এই কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: আয়ান হাসান ওয়াফি
জামেয়া কাসেমিয়া নরসিংদীর ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি: সুযোগের বাজারে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ, কী হতে পারে উত্তরণের পথ?

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে, যখন দুই ...

বাণিজ্য ঘাটতির বাড়ন্ত চাপ: কাঠামোগত সংস্কারই টেকসই অর্থনীতির একমাত্র পথ

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দেড় দশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোচিত প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। মাথাপিছু আয় ...