বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ৭:২৩ পিএম

বিয়ের খরচ সামাল দিতে দেশে দিন দিন বাড়ছে বিবাহ ঋণের প্রতি মানুষের আগ্রহ। এই খাতে ঋণ বিতরণ যেমন দ্রুত বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গ্রাহকের সংখ্যাও। বিশেষ করে সাম্প্রতিক প্রান্তিকগুলোতে ঋণের পরিমাণ ও হিসাবধারীর সংখ্যা—দুটিতেই উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিয়ের ব্যয় মেটাতে এখন অনেকেই সঞ্চয়ের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণকেই নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় পরের প্রান্তিক অক্টোবর-ডিসেম্বরে বিয়ে ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলো কীভাবে দিচ্ছে বিবাহ ঋণ

ব্যাংকাররা বলছেন, বিবাহ ঋণ মূলত রিটেইল লোনের আওতায় পড়ে এবং বিভিন্ন ব্যাংক এটি ভিন্ন ভিন্নভাবে গ্রাহকদের কাছে তুলে ধরছে। কিছু ব্যাংক সরাসরি ‘ম্যারেজ লোন’ বা বিবাহ ঋণ দিলেও, অন্য অনেক ব্যাংক বাড়ি সাজানো, ফার্নিচার কেনা, গহনা কেনাসহ নানা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ দিয়ে থাকে, যা গ্রাহকরা বিয়ের খরচ মেটাতেও ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: রাশেদুল ইসলামের গল্প

রাশেদুল ইসলাম সীমান্ত বাহিনীর একজন সৈনিক। চাকরিতে তিন বছর পার হলেও বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ না থাকায় বারবার তার বিয়ের তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে পাত্রী দেখার কথাও বলা হচ্ছিল, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত এক সহকর্মীর মাধ্যমে বিবাহ ঋণের বিষয়ে জানতে পেরে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি।

রাশেদুল জানান, তাদের ব্যাংকের (সীমান্ত ব্যাংক) এই সুবিধা সম্পর্কে আগে জানা ছিল না। ঋণ নিয়ে ছয় মাস আগে বিয়ে করেছেন তিনি। তার বিয়েতে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো। বাকি টাকা দিয়ে গ্রামে বাবার জন্য দুটি গরু কিনেছেন এবং একটি মোটরসাইকেলও নিয়েছেন। মাসে মাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হলেও নিজের সংসার, মোটরসাইকেল এবং গরু—সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি তাকে স্বস্তি দিচ্ছে।

সীমান্ত ব্যাংকের বিবাহ ঋণ সুবিধা

সীমান্ত ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তাদের ব্যাংকে বিশেষভাবে বিজিবি সদস্যদের জন্য বিয়ে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। কর্মরত সদস্যরা ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। এমনকি সন্তানের বিয়ের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আবেদন তুলনামূলক কম হলেও যারা আবেদন করেন, তাদের জন্য দ্রুত ঋণের ব্যবস্থা করা হয়।

আরেক অভিজ্ঞতা: সানিবুল ইসলাম রায়হান

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সানিবুল ইসলাম রায়হানও। তিনি বলেন, পাঁচ লাখ টাকার কিছু বেশি ঋণ নিয়েছিলেন, তবে বিয়েতে পাওয়া উপহারই খরচের বড় অংশ মিটিয়ে দিয়েছে। ঢাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করা ছাড়া প্রায় সব খরচই বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের উপহারে উঠে এসেছে। বর্তমানে সংসার ও সন্তান নিয়ে ভালো আছেন তিনি। এমনকি হাতে কিছু সঞ্চয়ও রয়েছে, তাই এখন তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করার কথা ভাবছেন।

পার্সোনাল লোনের মাধ্যমে বিয়ের খরচ

অন্যদিকে ইউসিবি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অনেক গ্রাহক সরাসরি বিবাহ ঋণের পরিবর্তে পার্সোনাল লোন নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সেই ঋণ দিয়েই তারা বিয়ের খরচ—যেমন কাবিন বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়—মেটান। তবে এই খাতে আগ্রহ একেবারেই কম নয়। এখনও অনেক গ্রাহকের কাছে বিষয়টি নতুন হলেও ধীরে ধীরে সচেতনতা বাড়ছে; পাশাপাশি বাড়ছে ঋণের পরিমাণ ও হিসাবধারীর সংখ্যাও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বিবাহ ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা আগের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের ৭৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকার তুলনায় ৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা বেশি।

আর এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি আরও বেশি। ২০২৪ সালের একই প্রান্তিকে যেখানে ছিল ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সেখানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বেশি—অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি।

হিসাবধারীর সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র

একই সময়ে বেড়েছে হিসাবধারীর সংখ্যাও। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে হিসাবধারী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৩৪ জনে, যা আগের প্রান্তিকের ৪ হাজার ৫১৯ জনের তুলনায় ৪১৫ জন বেশি। আর ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৬২ জন। সে হিসাবে এক বছরে হিসাবধারী বেড়েছে ১ হাজার ৭২ জন।

বিবাহ ঋণের সূচনা ও অগ্রগতি

মূলত ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার ভিত্তিতে বিবাহ ঋণ চালু হয়। ওই বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৯০, যা তার আগের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ছিল ৩ হাজার ৬৭৮। একই বছরে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে বিবাহ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ কোটি ৯৮ লাখ টাকায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বিবাহ ঋণের পরিধি ও হিসাবধারীর সংখ্যা বাড়লেও এখনো অনেক ব্যাংকে সরাসরি এ ধরনের ঋণের ব্যবস্থা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক বর্তমানে ‘বিবাহ লোন’ বা ব্যক্তিগত ঋণের একটি বিশেষ অংশ হিসেবে বিবাহের জন্য ঋণের সুবিধা প্রদান করছে। এটি মূলত ভোক্তা ঋণের অন্তর্ভুক্ত। নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সব ব্যাংক এখনও এই খাতে সক্রিয় হয়নি।

তিনি জানান, বিবাহ ঋণ সাধারণত স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি তুলনামূলক নিরাপদ এবং খেলাপির ঝুঁকিও কম। পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রথা। এই সামাজিক প্রয়োজনকে সহজ করতে ইতোমধ্যে কিছু ব্যাংক এগিয়ে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও ব্যাংক এই উদ্যোগে যুক্ত হবে। তার মতে, বিবাহ শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ ধরনের ঋণসুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদের বিশ্লেষণ ও সতর্কতা

এ বিষয়ে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, বিবাহ ঋণকে অন্যান্য ব্যাংকিং স্কিমের মতোই একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ঋণ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আস্থাহীনতা ছিল, তা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সুশাসনের একটি ধারণা তৈরি হয়। বিবাহ ঋণের মতো নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা আরও বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) এই ঋণ চালু করে ভালো সাড়া পাচ্ছে এবং ঋণ আদায়ও সন্তোষজনক। যদি খেলাপি ঋণের ঝুঁকি কম থাকে, তাহলে অন্য ব্যাংকগুলোরও এ খাতে এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ঋণ যেন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নজরদারি বাড়াতে হবে। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে এক খাতে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যয় করার প্রবণতা থাকায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তাই বিবাহ ঋণও যেন সঠিক কাজে ব্যবহৃত হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, স্বল্পমেয়াদে এ ধরনের নতুন উদ্যোগ ব্যক্তি ও ব্যাংক উভয়ের জন্যই লাভজনক হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ভাবনী স্কিমের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কোন ব্যাংক কত ঋণ দেয়

বিয়ের জন্য তুলনামূলক বেশি ঋণ পাওয়া যায় এনসিসি ব্যাংক থেকে। তারা ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় ১ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন দেয়। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং জমির মালিকরা এই সুবিধা নিতে পারেন। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১ থেকে ৫ বছর। চাকরিজীবীদের মাসিক আয় কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ হাজার টাকা হতে হবে।

উত্তরা ব্যাংক বিয়ের জন্য তুলনামূলক ছোট পরিসরের ঋণ দেয়। এখানে ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন নেওয়া যায়। এই ঋণ ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় ২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিয়ের ঋণ দিয়ে থাকে। ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা পেতে পারেন।
ইউসিবি ব্যাংকও বিয়ের জন্য ঋণ প্রদান করে, যেখানে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৫ বছর। চাকরিজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও জমির মালিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।

অন্যদিকে সীমান্ত ব্যাংক বিশেষভাবে বিজিবি সদস্যদের জন্য বিয়ে ঋণের ব্যবস্থা রেখেছে। শুধুমাত্র কর্মরত বিজিবি সদস্যরা এই সুবিধা নিতে পারবেন। এটি মূলত নিজের বিয়ের জন্য হলেও সন্তানের বিয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়। ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং পরিশোধের সময়সীমা ১ থেকে ৫ বছর। আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং কমপক্ষে ৬ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সন্তানের বিয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৬ বছর পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে।

বিবাহ ঋণের প্রধান শর্ত

সাধারণত ব্যাংকভেদে ২৫ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ব্যাংক ও ঋণের ধরন অনুযায়ী সুদের হার পরিবর্তনশীল। সাধারণত এটি একটি পার্সোনাল লোন বা ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। এ লোনের পরিশোধের মেয়াদ ১ থেকে ৫ বছর বা ৬০ মাস পর্যন্ত হতে পারে। কোন কোন ব্যাংক রিটেইল লোনের আন্ডারে (ঘর সাজানো, ফার্নিচার ইত্যাদির জন্য) লোন দিয়ে থাকে যেখানে সরাসরি বিহাহ লোন না থাকলেও নতুন বাড়ি সাজাতে এ লোন দিয়ে থাকে। যার মেয়াদ ৬ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আবেদনকারীকে বাংলাদেশি নাগরিক হএবং বয়স সাধারণত ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে নিশ্চিত চাকরিজীবী (ন্যূনতম ২-৩ বছরের অভিজ্ঞতা) হতে হবে। ব্যবসায়ী (ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতা) এবং সর্বনি¤œ মাসিক আয় ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে।

যেভাবে আবেদন

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি লাগবে। সদ্য তোলা দুই কপি ছবি ও বেতন স্লিপ বা বেতনের সার্টিফিকেট (চাকরিজীবীদের জন্য)। আর চাকরিজীবী না হলে ঘর সাজানো লোনের জন্য ট্রেড লাইসেন্স (ব্যবসায়ীদের জন্য)। ব্যাংক স্টেটমেন্ট (গত ৬-১২ মাসের) প্রয়োজন হতে পারে। এখন পর্যন্ত সারসরি বিবাহ লোনের জন্য এনসিসি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এবং ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া যায়। তাছাড়া ঘর সাজানো ও ফার্নিচারবাবদ লোন নিতে প্রায় সিংহভাগ ব্যাংকই লোন দিয়ে থাকে যেগুলোতেও আবেদন করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) প্রয়োজন হয়।

পারসোনাল লোনেও বিয়ের খরচ চালানো যায়

পারসোনাল লোন নিয়েও বিয়ের খরচ মেটানো সম্ভব। বর্তমানে দেশে কয়েকটি ব্যাংক বিশেষভাবে ‘বিবাহ ঋণ’ বা ম্যারেজ লোন সুবিধা দিচ্ছে যার তথ্য তাদের ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়। তবে যেকোনো ঋণই মূলত ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্ক ও শর্তের ওপর নির্ভর করে। ব্যক্তিগত ঋণ সাধারণত কোনো জামানত ছাড়াই দেওয়া হয়। তবে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আয়, চাকরির স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিয়ের খরচের জন্য সাধারণত ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও এ ধরনের ঋণ পাওয়া যায়। এই ঋণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়, যেখানে পরিশোধের সর্বোচ্চ সময়সীমা সাধারণত ৫ বছর। তবে কিস্তির সংখ্যা যত বেশি হবে, মোট সুদের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাবে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সহজে নতুন নির্দেশনা

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন নির্দেশনা ...