
প্রতিবছর ২৬ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। দিবসটি ঘিরে চোখে পড়ে সেমিনার, প্রতিবাদী যাত্রা, পোস্টার-ব্যানার সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম। দেশে রয়েছে মাদকবিরোধী প্রচলিত লিখিত আইনও। বিশেষজ্ঞদের মতে বেশিরভাগ মাদকের সূত্রপাত হয় সিগারেট বা ধূমপানের মাধ্যমে। প্রচলিত আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের আশেপাশে তামাকজাত দ্রব্য ও সিগারেট বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও হরহামেশাই ধূমপান অভ্যাসে পরিণত করে ফেলছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দিনমজুর শ্রমিকরা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রতিদিনই লাখ টাকার সিগারেট বিক্রি হচ্ছে এই ক্যাম্পাসে। ১৭৫ একর ক্যাম্পাসে অন্তত ২৫টি চা-মুদির দোকানে নিয়মিত সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। এতে ধূমপায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক হলেও অধিকাংশই শিক্ষার্থী। অজান্তে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়ে ‘সুবাহান টি স্টোর, সততা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, রাজু ভ্যারেটাইজ স্টোর, একদিল টি স্টার, হাবিব টি স্টার, সালাম স্টোর, রিয়াজ স্টোর, আপার দোকান-১, আপার দোকান-২, লালন শাহ হল সংলগ্ন পণ্য কুঠির ও সাহেব আলী, আনাস হল সংলগ্ন ইদ্রিস ইন্টারন্যাশনাল টি স্টল, রিপন টি স্টোর, শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন আকমল টি স্টল, জুলাই ৩৬ হল বিপরীত পাশে চায়ের কাপে ভালোবাসা, জাকির হোসেন স্টল, মেডিকেলের পাশে মেম্বার স্টোর, নজরুল টি স্টোর, রাহাত টি স্টোর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে মামার দোকান, মমতাজ ভবনের সামনে ফারুক কফি স্টোর, ঝাল চত্বরে বিসমিল্লাহ কফি হাউস, আনিচ কফি হাউস ও অভি ক্যাফ এন্ড ফাস্ট পেমেন্ট’ সহ অন্তত ২৫ টি জায়গায় সিগারেট বিক্রি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দোকানের কাস্টমার ভেদে দৈনিক ১৫০-৩০০ শলাকা বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক দোকানি। এর মধ্যে ‘ক্যামেল ও লাকি’ নামক সিগারেট বেশি বিক্রি হয়। এছাড়া প্রতিটি দোকানে অরবিট, ডার্বি, বেনচন, গোল্ডলিফ, নেভি, স্টার ও রয়েলস সহ ৮-১০ প্রকার সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। একটি দোকানে গড়ে ২০০ শলাকা সিগারেট বিক্রি হলে ২৫টি দোকানে মোট ৫০০০ শলাকা। যা দৈনিক ৫০-৭০ হাজার টাকা এবং মাসে অন্তত ১৫ লাখ টাকার সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ক্যাম্পাসে।
ক্যাম্পাস সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আবাসিক এলাকার দোকানগুলো থেকে এসব সিগারেট সংগ্রহ করেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের দোকানগুলোতে দু’টি কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসে সিগারেট সরবরাহ করে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি ছয় ব্র্যান্ডের সিগারেট এবং জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল তিন ব্র্যান্ডের কয়েক ধরনের সিগারেট বিক্রি করে থাকে।
এসব কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই কোম্পানি সহ আরও খুচরা কয়েকটি কোম্পানি ক্যাম্পাসের অন্তত ২৫টি দোকানে প্রতিমাসে গড়ে ১৫ লাখ টাকার সিগারেট সরবরাহ করে। তবে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের আগে বিক্রি বেশি হতো। সেই সময় তূলনামূলক ধূমপায়ী বেশি থাকায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সিগারেট সরবরাহ হতো। বিশেষ দিনে দৈনিক লাখ টাকার সিগারেট বিক্রি হয়।
জিয়া মোড়ে এক দোকানি বলেন, “আগে ছাত্রলীগের আমলে সিগারেট বেশি বিক্রি হতো, এখন অর্ধেক কমে গেছে। শ্রমিক সহ অনেকেই খায়। তবে ধূমপায়ীর মধ্যে অধিকাংশই ছাত্র। প্রায় ১০ প্রকার সিগারেটের মধ্যে ক্যামেল ও লাকি বেশি চলে।”
প্রকাশ্যে বিক্রির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক দোকানি বলেন, “কে বন্ধ করবে? যারা বিশ্ববিদ্যালয় চালায় তারাও তো সিগারেট খায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা শ্রমিক মিলে সবাই খায়।”
বিভিন্ন আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা অধিকাংশই ধূমপানে জড়িয়েছে সিনিয়রদের সঙ্গে আড্ডার মাধ্যমে। নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ সখেরবশত শুরু করে অভ্যাসে পরিণত করেছে। কেউ কেউ বয়স বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুগের সাথে তাল মিলাতে ধূমপানকে ‘আধুনিকতা’র ছোঁয়া হিসেবে নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব না। একাডেমিক ও আবাসিক এলাকায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখতে হবে। তবে উন্মুক্ত জায়গায় আলাদা ‘ধূমপান জোন’ করে দিলে কিছুটা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের দোকানিদের ধূমপান বিক্রি নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।
ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম ইবি শাখার সভাপতি শহীদ উল্লাহ জানান, ধূমপান একটি মরণব্যাধি প্রক্রিয়া। তথ্য মতে ধূমপানের ফলে ক্যানসার, হৃদরোগ ও স্ট্রোকসহ নানান রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ ৬১ হাজার মৃত্যু হয়। ধূমপান জীবন ধ্বংস করছে সেটা জানার পরেও মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। যে ব্যক্তি ধুমপান করছে— সে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশেপাশে মানুষজনের ক্ষতি করছে। ধূমপানের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি জনসম্মুখে ধূমপানের বিষয়েও সরকারি কঠোর আইন কার্যকর করা প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, নির্দিষ্ট স্মোকিং জোন রয়েছে। যার ফলে দোকানে বা পাবলিক প্লেসে ধূমপানের করতে পারছে না। আমি চাই, আমাদের ক্যাম্পাসেও যেখানে সেখানে ধূমপান বন্ধ হোক, এবং নির্দিষ্ট স্মোকিং জোন তৈরি হোক।
ধূমপানের ক্ষতিকর বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপ্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোছা. জাকিয়া আক্তার বলেন, “ফুসফুস ক্যানসারের সিংহভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে ধূমপান। সিগারেটে টোবাকো বা ক্ষতিকর রসায়নিক পদার্থ ক্যান্সার সৃষ্টি করে। রক্তনালি সংকোচিত করায় হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রবণতা বাড়ে এবং ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস নামক দীর্ঘস্থায়ী রোগ সৃষ্টি হতে পারে। ব্লাড সার্কুলেশন কমে যাওয়ার ফলে শিক্ষাজীবনে পড়াশোনার মনোযোগও বিনষ্ট হয়। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতি থেকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সচেতনতামূলক প্রচারণাসহ সরকারি আইন কার্যকর করে সিগারেট বন্ধ করে দিতে পারে।”
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, দোকানের বিষয়ে এস্টেট অফিস ডিল করে থাকেন। তারপরও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো।
ক্যাম্পাসের দোকানে প্রকাশ্যে সিগারেট বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস প্রধান উপ-রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আমরা তো মন থেকে চাই ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ধূমপান দ্রুত বন্ধ হোক। অফিস কিংবা বা বাহিরে গোপনে বিক্রি হয় এবং উভয় সেবন করে। আমরা শুধু নির্দেশনা দিলে হবে না, বরং শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হতে হবে। যেহেতু সরকারিভাবে নিষিদ্ধ, সুতরাং আমাদের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা দিব যাতে ক্যাম্পাসে সিগারেট বিক্রি না করে।”
এদিকে গতবছর ৩০ ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থানের সীমানার মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করবেন না বা করাবেন না। এমন অপরাধে ৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানাসহ পেতে হবে শাস্তি। এছাড়া সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে জরিমানা ২০০০ টাকা।
টিআর
- ১শিক্ষকদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
- ২সংবিধান রক্ষা করেছি, নতুন সরকার দেশ চালাচ্ছে, এসব আমারই কৃতিত্ব
- ৩শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় মদসহ ২ চোরাকারবারি আটক
- ৪২০২৭ সালে ৩১ কোটি মানসম্পন্ন বই বিতরণ করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
- ৫কয়রায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সদস্য মনোনয়নে বিতর্ক
- ৬ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে : তথ্যমন্ত্রী
- ৭আত্মঘাতী বোমা হামলায় পাকিস্তানের ১২ সেনাসহ ১৫ জন নিহত
- ৮মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ
- ৯কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
- ১০মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ বস্তু, নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ
- ১মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ বস্তু, নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ
- ২যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণায় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক পাচ্ছে বাংলাদেশ
- ৩শেরপুরে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ
- ৪পাটশিল্পের স্বর্ণযুগ ফেরাতে যবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থীর এআই অ্যাপ ‘ম্যাটেরিও’
- ৫বৃষ্টিমুখর পরিবেশে ঢাকার বায়ুর মান ‘ভালো’
- ৬বাংলাদেশ-ভারতের পণ্য আমদানিতে মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ
- ৭কয়রায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের স্মরণে ছাত্রশিবিরের দোয়া অনুষ্ঠান
- ৮লক্ষ্মীপুরে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার
- ৯রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন আজ
- ১০চাঁদপুরে বিজয়ী’র উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প





পাঠকের মতামত