প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৫ ৪:০২ পিএম

প্রায় দুই মাস ধরে ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া গড়াই নদীতে একাধিক কুমিরের দেখা মেলায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তবে এর মধ্যে একটি বিশাল আকৃতির কুমির লোকালয় থেকে ধরা পড়েছে।

বুধবার (১২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের গড়াই নদী পাড়ের সুবিদ্দা গোবিন্দপুর গ্রামের একটি বাড়িতে কুমিরটি উঠে যাচ্ছিল।

এ সময় গ্রামবাসী দেখতে পেয়ে মাছ ধরা জাল দিয়ে কুমিরটিকে ঘেরাও করে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে ওই এলাকাসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ কুমিরটি দেখার জন্য ভিড় করে। এছাড়া ভ্যানে করে নিয়ে এলাকায় আনন্দ মিছিল করে এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কুমিরটি গড়াই নদী থেকে প্রায় ৪’শ ফুট উপরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খিলাফত মিয়ার বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। সে সময় পাতার উপর দিয়ে যাওয়ার অবস্থায় খড়-মড় আওয়াজ শুনে এলাকাবাসী কুমিরটিকে দেখতে পায়। এরপর মাছ ধরা জাল দিয়ে কুমিরটিকে ঘেরাও করে ধরে ফেলে তারা। পরে কুমিরটিকে মজবুত করে বেঁধে এলাকায় আনন্দ মিছিল করে এলাকাবাসী এবং এটি দেখার জন্য কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমায়।

শৈলকুপা বন বিভাগের কর্মকর্তা মোকলেসুর রহমান জানান, কুমিরটি এলাকাবাসী ধরে প্রথমে খুলুমবাড়িয়া স্কুল মাঠে রাখে। তারপর ভ্যানে করে শৈলকুপা থানায় আনা হয়। বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে খুলনা বিভাগীয় বন অধিদপ্তরের জুনিয়র ওয়ারলেস অফিসার শাহিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম এসে কুমিরটি জীবিত অবস্থায় নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, এটি একটি মা কুমির এবং ধারণা করা হচ্ছে, তার পেটে ডিম রয়েছে। ডিম পাড়ার জন্যই হয়তো এটি ডাঙায় উঠে এসেছিল।

শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান জানান, কুমির আটকের খবর পেয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও কুমিরটিকে জনতার হাত থেকে জীবিত উদ্ধার করতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। কুমিরটি দেখতে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো এসেছিল। পরে কুমিরটির নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতেই বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসে কুমিরটি জীবিত অবস্থায় নিয়ে গেছে।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাস জানান, কুমির আটকের পর খুলনা বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে রাতেই তারা কুমিরটি নিয়ে গেছেন।

জানা গেছে, গড়াই নদীর ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের খুলুমবাড়িয়া ও রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের কেওয়াগ্রাম ঘাট অংশে প্রায় দুই মাস ধরে চারটি কুমিরের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। যার ফলে স্থানীয় জেলে ও নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নদীতে গোসল বা অন্যান্য কাজ করতে কেউ সাহস পাচ্ছেন না। কারণ কুমিরের উপস্থিতি দেখে সবাই ভীত। স্থানীয়রা জানান, গড়াই নদীতে একটি বড় আকারের কুমির ও তার সঙ্গে তিনটি বাচ্চা কুমিরের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বড় কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭-৮ হাত। এর মধ্যে বুধবার রাতে বড় কুমিরটি ধরা পড়েছে। তবে এতেও নদীপাড়ের মানুষ ও জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে আছেন। কুমিরের উপস্থিতিতে গোসল, মাছ ধরা বা নদীতে কোনো কাজ করা যেন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এম জি

শেয়ার

পাঠকের মতামত

খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হলে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন খানজাহান আলী (রহ.) বিমানবন্দর প্রকল্প আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রায় তিন দশক ...

কয়রায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সদস্য মনোনয়নে বিতর্ক

খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্যাটাগরির সদস্য ...