জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬ ৮:১২ পিএম

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা। ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৯০ দিন বনের ভেতরে সব ধরনের মাছ ও কাঁকড়া ধরা, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। বনজ সম্পদ, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ।

​তবে পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগকে ইতিবাচক মনে করা হলেও, চরম দুশ্চিন্তা ও সংকটে পড়েছেন সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী। বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে দিন কাটবে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

​বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া, বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে অধিকাংশ প্রজাতি ডিম ছাড়ে। পাশাপাশি মানুষের আনাগোনা না থাকায় বনের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন গাছপালা গজানোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় না।

​পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, প্রকৃতি সুস্থ থাকলেই সুন্দরবন টিকবে, আর সুন্দরবন বাঁচলে রক্ষা পাবে উপকূলের লাখো মানুষের জীবন।

​নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্ত সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য আশীর্বাদ হলেও উপকূলের সাধারণ মানুষের জন্য বয়ে এনেছে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন।

​স্থানীয় বনজীবীদের অভিযোগ, প্রতি বছর এই তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশাধিকার না থাকায় তাদের উপার্জনের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে। ফলে প্রতি বছরই তাদের দেনার বোঝা ভারী হচ্ছে। মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়বে। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় মহাজনি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। বিগত বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে পাওয়া সরকারি সাহায্য পর্যাপ্ত ছিল না। নিষেধাজ্ঞার দিনগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া হোক।

​উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, সুন্দরবন রক্ষা করার পাশাপাশি সরকার যদি এই তিন মাস বনজীবীদের জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বা কার্যকর বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, তবেই এই নিষেধাজ্ঞার সুফল পুরোপুরি মিলবে।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হলে কোনোভাবেই নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় বলে ...

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ...

ফটিকছড়িতে চলছে দ্বিতীয় দিনের হরতাল,মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও টানা ...