প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২১ ৩:২০ পিএম

সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আগামী ১৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থাটি।

বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিলেও সিইবিআর ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, বাংলাদেশ ২০২২ সালে ১১৯টি দেশের তালিকায় ৪১তম স্থানে উঠে আসবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০০৬ সালে ৫৮তম, ২০১১ সালে ৫৯তম এবং ২০১৬ সালে ৪৬তম অবস্থানে ছিল। অর্থনৈতিক উন্নতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে ৩৪তম, ২০৩১ সালে ২৯তম এবং ২০৩৬ সালে ২৪তম স্থানে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “২০২১ সালের হিসেবে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় জিডিপির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৫ হাজার ৭৩৩ ডলার। ফলে বাংলাদেশকে বর্তমানে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেশ কয়েকটি কারণে গত এক দশকে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে।

সিইবিআর মনে করে, “বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি এবং পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এসেছে।”

এছাড়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ শিল্পে বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আনতে সক্ষম করেছে।

অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের সঙ্গে বাণিজ্যের পথ আরও সম্প্রসারিত হওয়ায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে দেশটি।

“বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২০ সালে ৩.৫% প্রসারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় এটি একটি বিরল অর্জন। এর কারণ ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের তুলনামূলক কম সংক্রমণ হতে পারে, যা অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম করেছে,” প্রতিবেদনে বলা হয়।

সিইবিআর-এর মতে, “শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানিতে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতি বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।”

তবে, করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের সংক্রমণের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ প্রভাব পড়েছে বলে সিইবিআর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি ৩২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩৬ সালের মধ্যে ৮৮৪ বিলিয়ন ডলার হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, শীর্ষস্থানে থাকা ভারত ২০৩১ সালের মধ্যে তৃতীয় স্থানে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তামানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান (৪৬তম), শ্রীলঙ্কা (৬৯তম), নেপাল (৯৯তম), মালদ্বীপ (১৫৪তম) এবং ভুটান (১৬৪তম)।

এছাড়া, বিশ্ব অর্থনীতিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চীন দ্বিতীয় এবং জাপান তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির মধ্যে আগামী দশকের মধ্যে চীন শীর্ষ স্থানে থাকবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...