প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২২ ৭:৩০ পিএম

ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় এই পল্লিতে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ দুধ কম দামে বিক্রি করতে হতো খামারিদের। পদ্মা সেতু তাদের ভাগ্য রাতারাতি বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর জ্বলন্ত প্রমাণ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জিয়ালা ঘোষ গ্রমে।

ওই গ্রামে ১৩ হাজারের বেশি গাভী রয়েছে; যেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। সারাদেশে দুগ্ধপল্লি হিসেবে পরিচিতি লাভ করা এই এলাকাটির বেশ কয়েকজন খামারি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।

কিন্তু ইতোপূর্বে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ভাল না হওয়ায় দুগ্ধপল্লিতে উৎপাদিত দুধ সারাদেশে সরবরাহ বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। করোনার সময়ও তাদের বিপুল অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে।

খামারিরা দাবি করেছেন, করোনার সময় এই পল্লিতে গড়ে প্রতিদিন ৩০ লাখ টাকার দুধ নষ্ট হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সব ক্ষতি পুষিয়ে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করছেন তারা।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকবার ঢাকায় দুধ সরবরাহ করেছে দুগ্ধপল্লি সমিতি। এতে খরচ বাদ দিয়েও তারা আশানুরূপ লাভ পেয়েছে বলে জানা গেছে।

দুগ্ধ পল্লির খামারি দিবস ঘোষ বলেন, ‘আমাদের এই পল্লিতে রোজ ৫০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। যেটি বাংলাদেশে আর কোথাও হয় না। আগে আমাদের উৎপাদিত দুধ স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন কোম্পানিকে দিতে বাধ্য হতাম। কারণ পাশ্ববর্তী খুলনা ছাড়া সরাসরি দুধ বিক্রি করতে আমাদের আর কোনো সুযোগ ছিল না। তবে এখন সরাসরি ঢাকায় দুধ নিয়ে যাওয়ার উন্নত মাধ্যম তৈরি হয়েছে। যা আমাদের দিন বদলে বড় ভূমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে দুগ্ধ পল্লি সমিতির সভাপতি প্রশান্ত ঘোষ বলেন, ‘এই পল্লিতে রোজ প্রায় ২ কোটি টাকার দুধ উৎপাদন হয়। আগে যা বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হতো। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় আমরা সরাসরি ঢাকায় দুধ সরবরাহ করতে পারতাম না। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দুগ্ধ পল্লি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। গত কয়েকদিনে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকায় একাধিকবার দুধ পাঠানো হয়েছে।’

প্রশান্ত জানান, এর আগে পল্লিতে উৎপাদিত দুধের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার মিল্কভিটা এবং ৮০০ লিটার আকিজ কোম্পানি সংগ্রহ করতো। বাকি দুধ সাতক্ষীরা খুলনাসহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলোর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও অন্যান্য বেসরকারি ফার্মে কম দামে দেয়া হতো।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুর রউফ বলেন, ‘দুগ্ধ পল্লিটি দেশের একটি বড় সম্পদ। বাংলাদেশ সরকার চেষ্টা করেছে তাদেরকে যথাযথ সুযোগ সুবিধা দেয়ার। তবে পদ্মা সেতুর প্রভাবে তাদের ভাগ্য এখন বদলে গেছে। অল্প সময়ে সরাসরি ঢাকায় দুধ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাদের লাভটাও হবে বেশি।’

 

বিপি/ আইএইচ

 

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...