
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের মুনাফা কমেছে। ঋণের বিপরীতে উচ্চ প্রভিশন রাখা এবং পরিচালন মুনাফার ওপর করের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মুনাফা কমেছে ব্যাংকটির। ফলে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ার প্রতি মুনাফায় (ইপিএস) বড় ধাক্কা খেয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকটি। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ আগের বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় তাদের ট্যাক্সের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়ার ঋণের বিপরীতের প্রভিশন রাখার পরিমাণও গত বছরের চেয়ে প্রায় দিগুণ বেড়ে যাওয়ায় তাদের নিট মুনাফা কমেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি ব্যাংক এশিয়ার প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) পরিচালন আয় হয় ৬৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে বেশি। গত ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির পরিচালন আয় এসেছিল ৪৭৫ কোটি ২ লাখ টাকা। এ হিসেবে চলতি প্রান্তিকে ব্যাংকটির পরিচালন আয় বেড়েছে ১৫৯ কোটি টাকা বা ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয় হয়েছে ২৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ২২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসেবে চলতি প্রান্তিকে ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ব্যয় বেশি হওয়ার মধ্যে প্রধান কারণ হচ্ছে ব্যাংকটির এ প্রান্তিকে স্যালারি এবং ভাতা ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে। আগের বছরের প্রান্তিকে যেখানে এই বাবদ ব্যয় হয়েছিল ১২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, সেখানে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৪৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। এ হিসেবে চলতি প্রান্তিকে স্যালারি এবং ভাতা ব্যয় বেড়েছে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত প্রান্তিকে ব্যাংকটির প্রভিশন রাখার আগে মুনাফা হয় ৩৯২ কোটি ২২ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ২৪৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখে ১৯২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যা গত হিসাব বছরের প্রান্তিকে ছিল ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা। এ হিসেবে আলোচিত প্রান্তিকে ব্যাংকটির প্রভিশন বেশি রাখতে হয়েছে ১৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ৩২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে তুলনায় চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রভিশন বেশি রাখতে গিয়ে মুনাফায় ধাক্কা খায় ব্যাংকটি।
প্রভিশন কেন রাখতে হয়
প্রভিশন হলো ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করা। আমানতকারীদের অর্থ যথাসময়ে ফেরত দেয়ার সক্ষমতা রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক কোম্পানি আইনেও নানা বিধি-বিধান আরোপ করা হয়েছে। যেমন- বিনিয়োগকৃত অর্থ কোন কারণে খেলাপি হয়ে গেলে খেলাপি ঋণের ধরণ অনুযায়ী দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রভিশন হিসেবে ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। যার ফলে ব্যাংক সব ধরণের ঝুঁকিমুক্ত থাকে।
তথ্য অুনযায়ী, আলোচিত প্রান্তিকে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। চলতি প্রান্তিকে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয় ৭৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছিল ১৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এ হিসেবে আলোচিত প্রান্তিকে ব্যাংকটির নিট মুনাফা কমেছে ৫৫ কোটি ৩ লাখ টাকা বা ৪১ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর শেয়ার প্রতি মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭ পয়সায়। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি মুনাফা ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা।
জানা যায়, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির এনওসিএফপিএস হয়েছে ১৭ দশমিক ৪৪ টাকা। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ১৩ দশমিক ৭৭ টাকা। বছরের ব্যবধানে এনওসিএফপিএস বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৭ টাকা। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি এনএভি হয়েছে ২৫ দশমিক ৮৫ টাকা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৩ দশমিক ৯৮ টাকা। বছরের ব্যবধানে এনএভি বেড়েছে ১ দশমিক ৮৭ টাকা।
ব্যাংক এশিয়ার কোম্পানি সচিব এসএম আনিুসজ্জামান বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, ‘লোনের বিপরীতে আমাদের প্রভিশন বেড়েছে। এছাড়া আমাদের পরিচালন আয় গত প্রান্তিকের তুলনায় বাড়ার ফলে আমাদের ট্যাক্স বেড়ে গেছে। ফলে আমাদের মুনাফা কমে গেছে।’
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ হিসাব বছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৯৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। যা ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। ব্যাংকটি ২০২৩ হিসাব বছরে মোট ঋণ বিতরণ করেছে ২৮ হাজার ৯৬০ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
২০০৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। কোম্পানির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ৫৯ লাখ ৬ হাজার ৮৬০টি। যারমধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে রয়েছে ৫৩ দশমিক ২২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৩৬ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
ব্যাংকটি ২০২৩ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি ২০২২ সালে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। ২০২৩ সাল শেষে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা। যা গত ২০২২ সাল শেষে শেয়ার প্রতি মুনাফা ছিল ২ টাকা ৬২ পয়সা। এ হিসেবে বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি মুনাফা কমেছে ৮৩ পয়সা। এ সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ২২ পয়সা, শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহ লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৬৯ পয়সা।
এএ
- ১প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ
- ২কলকাতায় আবাসিক হোটেলে আগুন, কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন নিহত
- ৩বাণিজ্য প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশের পর মানিকগঞ্জে ভেজাল ছানা-ঘির কারখানা সিলগালা, জরিমানা ৫০ হাজার
- ৪ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটায় ফেরদৌস স্টিলকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা
- ৫বিদ্যুৎ সংকটে বর্তমান সরকারের ন্যূনতম দায় নেই: তথ্য উপদেষ্টা
- ৬জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা তুলে নিতে অন্তঃসত্ত্বাকে হত্যার হুমকি
- ৭সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কারামুক্ত
- ৮ফুলবাড়িয়ায় ইকো পার্ক স্থাপনের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
- ৯১৮ কোটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব : দুদক চেয়ারম্যান
- ১০গণমাধ্যম বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে : তথ্যমন্ত্রী
- ১ঢাকা কলেজস্থ সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রকল্যাণের ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
- ২প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির নবনিযুক্ত স্থায়ী কমিটির ৪ সদস্যের সাক্ষাৎ
- ৩পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
- ৪চরফ্যাশনে শিক্ষকসংকটে টি বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত
- ৫চাঁদপুরে ইলিশ আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দামে কিছুটা স্বস্তি
- ৬রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই
- ৭জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে বাংলাদেশ-কাতার
- ৮রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে কাজ করছে সরকার
- ৯বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত
- ১০প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আপডেট নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী





পাঠকের মতামত