
কমল তালুকদার, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার পাথরঘাটায় উচ্চ ফলনশীল বিআর-২২ ধানের বীজ কিনে চরম প্রতারণার শিকার হয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী কৃষকরা পাথরঘাটা শহরে বিক্ষোভ করেছে। এসময় কৃষকদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেতাকর্মীরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাথরঘাটা শহরের একটি ধানবীজের দোকান থেকে উচ্চ ফলনশীল বিআর-২২ ধানের বীজ কিনেন পাথরঘাটা সদর ও চরদুয়ানী ইউনিয়নসহ আশেপাশের অনেক কৃষক।
নিয়ম অনুযায়ী ধান চাষ করেন কৃষকরা। চাষের ২/৩ সপ্তাহ যেতে না যেতেই ওই ধানের বীজ থেকে কচি ধানের শীষ ফুলে বের হতে শুরু করে। যা দেখে কৃষকদের চোখ তো চরকগাছে উঠে। রীতিমতো এলাকায় সোরগোল পরে যায়। দলেদলে লোকজন এই আজগুবি কথার সত্যতা চোখে দেখতে ছুটে আসতে থাকেন বিআর-২২ ধান ক্ষেতের দিকে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী কৃষকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন। আরম্ভ হয় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীদের প্রতিবাদ। সকলের প্রশ্ন। কে বিক্রি করল এই নকল এবং দুই নম্বর ভেজাল ধানের বীজ?
অবশেষে কৃষকরাই জানান, পাথরঘাটার ধান বীজ দোকানদার নাসির সরদারের দোকান থেকে ওই বিআর- ২২ ধান ক্রয় করেন তারা। এদিকে বয়স হওয়ার আগেই বীজ থেকে ধানের শীষ বেরিয়ে আসায় সকল কৃষকরা ওই বীজতলা তুলে ক্ষেতের পাশে স্তূপ করে রেখেছে। তারা সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে কান্নায় ভেসে যান।
কৃষকরা কান্নারত কণ্ঠে বলেন, ওই দোকানদার দুই নাম্বার ধান বীজ আমাদেরকে দিয়ে চাষ করিয়েছে। আজ আমরা সর্বসন্ত হয়ে গেছি।
এলাকার মানুষ বলছেন, কৃষক পরিবারগুলোকে চরম বিপাকে ফেলেছেন নাসির সর্দার নামক ধান বীজ বিক্রেতা। কৃষকদের চিৎকার “এখন আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কি খাব?” ‘কোথায় যাব?” কারণ রোপাআমন ধান চাষের মৌসুম শেষ। এখন আর আমনের বীজ পাওয়ার কোনো সূযোগ নেই।
ভুক্তভোগী এক কৃষক বলেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের ৩০ কুঁড়া আবাদি জমির আংশিক রোপা আমন ধানের চাষাবাদ করা গেলেও বাকি জমিতে কোনোকিছুই আর চাষ করা যাবে না। এখন আমরা নাসির সরদারের দোকানের সামনে গিয়ে স্বপরিবারে আত্মহত্যা করবো! এছাড়া আর কোন উপায় নাই।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমির হোসেন বলেন, ‘আমরা যে আমন ধান চাষ করবো; সে রকম কোন অবস্থায়ও আমরা আর নেই।” কোথাও আমনের বীজ পাচ্ছি না। আমন চাষের মৌসুম শেষ। উচ্চ ফলনশীল আবাদ করে; ভুক্তভোগী সকল কৃষক-ই এখন পড়েছেন চরম বিপাকে।
বরগুনা, জেলার পাথরঘাটা উপজেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের ভেজাল বীজের কারণে একদিকে কৃষকের মূলধন নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ধানের ফলনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কয়েক শতাধিক কৃষকের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শতাধিক মেট্রিকটন ধান নষ্ট হয়েছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।
কৃষকরা জানান, প্রতি কেজি বীজ কিনতে গড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ এসব বীজ অঙ্কুরোদ্গমের আগেই অস্বাভাবিকভাবে শীষ বের হয়ে যাচ্ছে । জানা গেছে গত মৌসুমে সাউথ এশিয়ান সীডস এর ২২ নাম্বার বীজে বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছরও কৃষকেরা আশায় বুক বেঁধে স্থানীয় ডিলার নাসির উদ্দিন সরদারের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করেছিলেন। যে বীজ থেকে তিন মাস পর ফলন আসার কথা ছিল। কিন্তু ১৫-২০ দিন পর বীজতলা থেকে চারা তুলতে গিয়ে দেখা যায় গাছে অকালেই শীষ এসেছে । ফলে মাঠে রোপণের আগেই পুরো বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জমি খালি পড়ে রয়েছে এবং কৃষকদের আর নতুন করে বীজতলা তৈরির সুযোগ নেই ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ডিলার অরিজিনাল কোম্পানির বস্তায় নিম্নমানের বীজ ভরে বাজারজাত করেছেন। তবে ডিলার পয়েন্টের মালিক নাসির উদ্দিন সরদার দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে ব্যবসা করছেন। এবছর সাউথ এশিয়ান সীডস থেকে ২৫ মেট্রিকটন বীজ কিনেছেন তিনি , এর মধ্যে মাত্র ১ মেট্রিকটনে সমস্যা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে দাবী করছেন।
প্রবীন কৃষক আব্দুস সোবহান বলেন, আমি এখন আর মাঠে কাজ করতে পারি না আমার জমিটুকুই আমার শেষ সম্বল তাই এই জমিতেই চাষ করে সংসারের খরচ জোগাই, বাকি ধান বাজারে বিক্রি করে আগামী বৎসরের জন্য বীজ কেনার কাজে লাগাই “আমার ৩০০ শতাংশ জমির জন্য আমি বাজারের ডিলার নাসির সরদার এর কাছে থেকে উচ্চ ফলনশীল ধানের কথা বলে বিআর -২২ বীজ ধান আমাদের দেয়। তখন আমি ২৫ কেজি বীজ কিনেছি। কিন্তু এখন দেখি অর্ধেকেরও বেশি বীজে আগেই শীষ বের হয়ে গেছে। পুরো জমি রোপণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শুভ্রদেব দাস জানান , কৃষকদের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। তাদের এ ক্ষতি অপূরণীয়। সংশ্লিষ্ট ডিলার কে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ না পেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতি পূরণের জন্য উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। বাজারে কিছু ডিলার ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রি করছে । এতে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছেন।
বিষয়টি প্রসঙ্গে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান দৈনিক বানিজ্য প্রতিদিন-কে বলেন” আমি কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি এটা আমাদের সরকারি প্রণোদনার মধ্যে নেই। কৃষকরা বাইরে থেকে বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এখানে যদি ডিলার তাদের সাথে প্রতারণা করে থাকে; তাহলে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা প্রমাণিত হলে আমরা ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিএইচ
- ১দেড় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে
- ২ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৪৫০
- ৩মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
- ৪অদম্য তরুণ ইসমাইল ইকনের পাশে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
- ৫ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- ৬থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরছেন স্পিকার
- ৭বগুড়ায় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে আইনের খসড়া অনুমোদন
- ৮প্রিমিয়ার ব্যাংক ও বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- ৯ধর্ম-জাতিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে সুযোগ কম দেওয়া যাবে না
- ১০প্রাইম ব্যাংক ও ডিএইচএস অটোসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর
- ১চকরিয়ায় ২০ প্যাকেট ইয়াবাসহ মাদককারবারী আটক
- ২কেশবপুরে তিনদিনব্যাপী ফল মেলা’র উদ্বোধন
- ৩চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসিকে ছাত্রদলের শুভেচ্ছা
- ৪আকস্মিক বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন মূহুর্তেই তছনছ
- ৫চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ
- ৬বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
- ৭তিন কেজি গাঁজাসহ কারবারি ডিবির জালে
- ৮ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের বোর্ড সভা ২৯ জুলাই
- ৯মেরিকোর বোর্ড সভা ২৯ জুলাই
- ১০চাঁদপুরে মসজিদের সম্পত্তি ভোগ করার অভিযোগ, মুসল্লিদের বিক্ষোভ





পাঠকের মতামত