এসআর শফিক স্বপন, মাদারীপুর
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬ ৪:১৭ পিএম

লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুরের এক তরুণের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং বিদেশে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি কথিত মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, প্রতারণার শিকার হয়ে তারা সর্বস্ব হারিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগী মো. তাহসান মোল্লা (পিতা: মৃত জালাল মোল্লা, মাতা: মনিরা বেগম) মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মধ্য ব্রাক্ষন্দী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি দেশে ফিরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর তাহসান বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা হন এবং তিন দিন পর বেনগাজিতে পৌঁছান। সেখানে দীর্ঘদিন আটক রেখে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে তিনি গত ৭ জুলাই মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, সদর উপজেলার সিদ্দিখোলা এলাকার বাসিন্দা রুবিনা ও একই এলাকার লাইসু নামে দুই নারী লিবিয়া হয়ে তিন মাসের মধ্যে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেন। পরিবারের দাবি, ইউরোপে স্বামী এবং ইতালিতে সন্তান থাকার কথা বলে তারা বিশ্বাস অর্জন করেন। পরে বিদেশে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ার কথা বলে ধাপে ধাপে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়।

তাহসান মোল্লার অভিযোগ, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো। ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

তিনি বলেন, “প্রথমে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে আমাকে জিম্মি করে আরও ১৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে আমাদের পরিবার প্রায় ৪০ লাখ টাকা দিয়েছে। এখন আমরা নিঃস্ব।”

তাহসানের বড় বোন মোছাম্মৎ সুফিয়া আক্তার বলেন, “পরিবারের জমিজমা ও মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করে ৪০ লাখ টাকা জোগাড় করেছি। এখন আমাদের আর কিছুই নেই। আমরা এই প্রতারণার বিচার চাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করব।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রুবিনার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, “মানব পাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তাই মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি। তাদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে অনেক তরুণ প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।

তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

বিএ্িচি

শেয়ার

পাঠকের মতামত

কয়রা প্রেসক্লাব সংবাদিকদের সাথে নবাগত অফিসার ইনচার্জের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

খুলনার কয়রা উপজেলার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাশেদুল আলমের কয়রা প্রেসক্লাব সদস্যদের সাথে মতবিনিময় ...