জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৩:৩৬ পিএম

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বড়িয়া-ভাদালিয়াপাড়া ‘মসলা গ্রামে’ মসলা চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও মসলা গাছ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালি খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় কৃষক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার মসলা গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মসলা গাছ রোপণ করেন। এ সময় তিনি কৃষকদের কাছ থেকে মসলা চাষের সম্ভাবনা, উৎপাদন ব্যয়, বাজারজাতকরণ, কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা ও চাষিদের নানা সমস্যার কথা শোনেন।

প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, দেশের মসলার চাহিদার একটি বড় অংশ এখনো আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে স্থানীয়ভাবে মসলার উৎপাদন বাড়াতে পারলে একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষকদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি, পুকুরপাড় ও রাস্তার পাশের জায়গা কাজে লাগিয়ে মসলা চাষ সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত মসলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত জাতের বীজ ও চারা সরবরাহ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা করা গেলে এ অঞ্চলে মসলা চাষ আরও জনপ্রিয় হবে। পাশাপাশি মসলা চাষিদের নিয়ে সমবায়ভিত্তিক বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রণোদনায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড়িয়া-ভাদালিয়াপাড়া গ্রামকে মডেল মসলা গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের’ আওতায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এখানে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়।

গ্রামের বিভিন্ন সড়কের পাশে খাঁচা পদ্ধতিতে দারুচিনি, তেজপাতাসহ বিভিন্ন মসলার প্রায় ৬ হাজার চারা লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির উঠান, আঙিনা, পুকুরপাড় ও পতিত জমিতে জিও ব্যাগে আদা ও হলুদ চাষ করা হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম, গোলমরিচ, জিরা, চুইঝালসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এখানে ১৩ থেকে ১৪ ধরনের মসলা চাষের তথ্য পাওয়া যায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মসলা গ্রাম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে শতাধিক কৃষক পরিবার যুক্ত হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের মসলা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। উৎপাদনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষকরা মসলার বীজ ও চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।

কৃষকদের মতে, মসলা চাষে ঝুঁকি তুলনামূলক কমিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে অল্প জায়গাতেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তাই সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি উৎপাদিত মসলা সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বড়িয়া-ভাদালিয়াপাড়ার মসলা গ্রামকে শুধু একটি কৃষি প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং দেশের মসলা উৎপাদনের একটি সফল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের পাশে থেকে মসলা চাষ সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

মাদারীপুরের কালকিনিতে মহিলা মাদ্রাসার পাশে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ৫

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদ্রাসার পাশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ...

সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনা জেলা প্রশাসন আর বিএসবিআরএ তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৯ সদস্যের তদন্ত ...

মতলবের অ্যামাচার বক্সার জিদান করছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব

‎বর্তমানে বাংলাদেশে যে কজন তরুণ উদীয়মান পেশাদার অ্যামাচার বক্সার আছে তাদের মধ্যে জিদান অন্যতম। সে ...