ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৩:৪৫ পিএম , আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৩:৪৬ পিএম

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স পিএলসি ‘ইনস্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ (আইআইসি) ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এসএমই ফাউন্ডেশন (এসএমইএফ) ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা অনুদান লাভ করেছে।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত হলে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের অপ্রতুল বীমা সুরক্ষার চাহিদা পূরণে উদ্ভাবনী, প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমা সমাধান তৈরির লক্ষ্যে এ চ্যালেঞ্জের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় কারিগরি দক্ষতা, উদ্ভাবন, আর্থিক সম্ভাবনা ও সামাজিক প্রভাবসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়নের পর পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের প্রস্তাবটি চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হয়।

পাইওনিয়ারের প্রস্তাবিত সমাধানের মধ্যে রয়েছে ক্লাইমেট অ্যান্ড অল রিস্ক বিজনেস কন্টিনিউটি প্রোটেকশন, ফায়ার প্রোটেকশন এবং হাসপিটালাইজেশন ক্যাশের মাধ্যমে হেলথ প্রোটেকশন। এর মাধ্যমে কোনো দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য বীমাকৃত ক্ষতির পর উদ্যোক্তারা দ্রুত আর্থিক সহায়তা পেয়ে ব্যবসা পুনরায় চালু করতে পারবেন। একই সঙ্গে ঋণের দায় পরিশোধের ধারাবাহিকতাও বজায় থাকবে। এতে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণঝুঁকিও কমবে।

এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স পিএলসি। কনসোর্টিয়ামের কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে লন্ডনভিত্তিক জলবায়ু-ঝুঁকি ও ইনক্লুসিভ ইনস্যুরেন্স পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কে এম দাস্তুর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (কেএমডি)। পাশাপাশি চারটি মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেবে। সফটোগ্রাফ লিমিটেড তৈরি করছে এআই-নির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি, নিবন্ধন, পলিসি ব্যবস্থাপনা ও দাবি নিষ্পত্তির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স পিএলসির সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি ব্যবসাকে বীমা সুরক্ষা দেওয়া নয়; বরং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শ্রেণির নিম্ন-মধ্যম ও মধ্যম আয়ের ব্যবসায়ী, স্বনিযুক্ত ব্যক্তি এবং ছোট ব্যবসা পরিচালনাকারী উদ্যোক্তার ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখা এবং তার ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা। এই কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে আমরা দ্রুত পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করতে চাই, যাতে অর্থায়ন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং সিএমএসএমই খাতের প্রবৃদ্ধি আরও স্থিতিশীল ও সহনশীল হয়ে ওঠে।

তিনি এ স্বীকৃতির জন্য ইউএনডিপি, এসএমই ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান বলেন, এ অর্জন পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমা, জলবায়ু-ঝুঁকি সুরক্ষা ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশন, ইউএনডিপি, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা ও পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক-ইনস্যুরটেক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের এ অর্জন দেশের সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সহজলভ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর বীমা সুরক্ষা তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত