প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১ ৫:৩৩ পিএম , আপডেট: জুলাই ৯, ২০২১ ৬:১৫ পিএম

ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান মিসেস শামীমা নাসরীন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মু. রাসেল দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সূত্রে এ বিষয়টি জানা গেছে।

জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দেশ ত্যাগ করলে সার্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যহত হতে পারে এমন আশঙ্কায় গতকাল ৮ জুলাই তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এরআগে গত বছরের নভেম্বরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে ইভ্যালির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসমূহের পেপার কাটিংসহ একটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয় । এর প্রেক্ষিতে দুদকের মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি টীম অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেন ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে প্রেরিত অভিযোগের বিষয়বস্তু ছিলো ইভ্যালি নামীয় ই কমার্স প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন লোভনীয় অফার প্রদানের মাধ্যমে তার গ্রাহকদের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অগ্রীম আদায় করছে। তবে এ প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য প্রদান করছে না। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে অন্য পণ্য প্রদানের। গ্রাহকের অর্ডারকৃত পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলেও যথাসময়ে গ্রাহকের পণ্যমূল্য ফেরত প্রদান করছে না ।

পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে ইভ্যালির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক এর প্রতিবেদনের আলোকে আরও একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয় । গতকাল উক্ত অভিযোগ পাওয়ার পর কমিশনের অনুমোদনক্রমে পূর্ববর্তী অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।

প্রাপ্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলিত বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত ইভ্যালিকম লিঃ এর চলতি সম্পদ প্রায় ৬৫.১৮ কোটি টাকা। মোট দায় প্রায় ৪০৭,১৮ কোটি টাকা । তন্মধ্যে, গ্রাহকদের নিকট হতে অগ্রীম হিসেবে গৃহীত দায় প্রায় ২১৪ কোটি টাকা এবং ইভ্যালির মার্চেন্টদের নিকট দায় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা । ফলে স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির নিকট ৪০৪ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির নিকট চলতি সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫,১৮ কোটি টাকা। যা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার চলতি দায়ের বিপরীতে মাত্র ১৬.১৪ % গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে ।

তাছাড়া গ্রাহক ও মার্চেন্টদের নিকট হতে গৃহীত প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকার কোন হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । ফলে উক্ত সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ অথবা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভবনা রয়েছে মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয়েছে । উক্ত অভিযোগের বিষয়বস্তু আমলে নিয়ে কমিশনের নির্দেশক্রমে দুদকের অনুসন্ধান টীম অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহ করে ।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...

এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসককে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের শুভেচ্ছা

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর নবনিযুক্ত প্রশাসক ...