জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬ ৩:০৪ পিএম

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের মজমপুর গেট এলাকায় নিহতের স্বজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার বড় মেয়ে তাইবা। তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষক রুনা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে খুন হন শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা।

সে সময় ওই কক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমান বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে রয়েছেন। তবে মামলার অন্য তিন আসামি সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ সময় তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছেন নিহতের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিক্ষোভের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি চলাকালে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকে যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন, ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন থাকলেও সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের ফটকে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

ইএটি

শেয়ার

পাঠকের মতামত

যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক পদে নতুন মুখ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (যবিপ্রবিসাস) ষষ্ঠ কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রচার, ...

বাকৃবিতে দুগ্ধ ও গরুর মাংস উৎপাদন ব্যবস্থা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মশালা শুরু

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দুগ্ধ ও গরুর মাংস উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সঠিক পুষ্টি, ফিড ব্যালেন্সিং, ...

অপতথ্য প্রচারের অভিযোগে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত

অপতথ্য প্রচার, নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিকভাবে হেনস্তা এবং উসকানিমূলক তথ্য প্রকাশের অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ...

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার এক বছর, বিচার চেয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার চেয়ে ...