প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৫ ১:৩৯ পিএম

রিভার্স রেপো নামে পরিচিত, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিসূচক সুদের হার কমিয়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নীতি সুদহার বা ওভারনাইট রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের এক সার্কুলারে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, মুদ্রানীতি কাঠামোর সুদহারের করিডোরের আওতায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার (কলমানি মার্কেট) কার্যক্রম আরো গতিশীলকরণ এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার লক্ষ্যে নীতি সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮.৫০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৮ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করা হলো।

এছাড়া, নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) বিদ্যমান ১১.৫ শতাংশ এবং ওভারনাইট রেপো বা নীতি সুদহার বিদ্যমান ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। আজ ১৬ জুলাই থেকে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলো কল মানি মার্কেটে অন্য ব্যাংককে টাকা ধার না দিয়ে—সুদহার কম হওয়া সত্ত্বেও স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) এর অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা জমা রাখার প্রবণতা বাড়িয়েছে। ব্যাংকগুলো যেন কলমানি মার্কেটে আরো সক্রিয় হয়, সেজন্য সুদহার কমানো হয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কলমানি মার্কেটে টাকা ধার নেওয়ার জন্য অনেক ব্যাংকই আগ্রহ দেখায়। বিশেষ করে, দুর্বল ব্যাংকগুলো টাকা ধার নিতে চায়। তবে এসব ব্যাংককে টাকা ধার দেওয়া হলে—সময়মতো টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর আগেও এসব ব্যাংককে টাকা ধার দেওয়ার পর, সময়মতো টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি। এসব কারণে ব্যাংকগুলো কলমানিতে টাকা ধার দেওয়ার বদলে কম সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা জমা করতে বেশি আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বাজারে তারল্য বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, যা বিনিয়োগ ও ভোক্তাখাতে ঋণ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে এই ধরনের সুদের হার হ্রাস আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলে দেবে।

এদিকে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতির বর্তমান গতি, স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবার কিছুটা শিথিল বা বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতির আভাস মিলছে।

বিনিয়োগে গতি চান ব্যবসায়ীরা

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে ব্যবসায়ী নেতারা সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণার দাবি তুলেছেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সামনের মুদ্রানীতিটা কিছুটা হলেও আমাদের ব্যবসায়ী-বান্ধব, ক্রেডিট ফ্লো বাড়ানোর জন্য যা ঘোষণা দেওয়া হোক। সুদের হার যেন কিছুটা হলেও কমানো হয়— এটা এখন জরুরি।

বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি শিগগির

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সংকোচনমূলক নীতি যদি দীর্ঘদিন চালিয়ে যাই, তাহলে সেটা বিনিয়োগবান্ধব হবে না। আমরা ইতোমধ্যে তিনটি মূল লক্ষ্য্যের মধ্যে দুটি অর্জন করেছি। মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি না কমলেও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই এবারের মুদ্রানীতিতে কিছুটা ভিন্ন রূপ দেখা যেতে পারে।

পূর্ববর্তী মুদ্রানীতির চিত্র

২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন মেয়াদে ঘোষিত পূর্ববর্তী মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখেছিল। তখন বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯.৮ শতাংশ, যা জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদেও অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪.২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সংকোচন নয়, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির মিশ্রণ খুঁজছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ খরার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য রেখে নতুন অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতি প্রণয়ন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হারের এই হ্রাস বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহে ইতিবাচক বার্তা দেবে। তবে ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির সফলতা নির্ভর করবে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা ও বাস্তবায়নের ওপর।

এম জি

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এফবিসিসিআই’র রিপোর্ট গত বছরের তুলনায় এবার খাদ্যপণ্যের দামে বাড়তি চাপ

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি আর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে টালমাটাল দেশের নিত্যপণ্যের বাজার। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার রেশ ধরে ...

আইপিও তহবিলে অনিয়ম একমি পেস্টিসাইডসের, ব্যবসায় লোকসান হলেও লাগামহীন শেয়ারদর

আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, প্রসপেক্টাসে ঘোষিত সমসূচি না মানা, তহবিল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা ...

বিএসইসির নির্দেশনা উপেক্ষিত অদাবিকৃত লভ্যাংশ নিয়ে কোম্পানিগুলোর গড়িমসি

অদাবিকৃত লভ্যাংশ বিতরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশনা মানছে না পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো। কোম্পানিগুলো অদাবিকৃত লভ্যাংশ ...