প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৫ ৪:০৩ পিএম

চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রথম সাত মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ হাজার ৪৯ কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে। ওই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এই ব্যয় চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মোট বরাদ্দের মাত্র ২৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময় ৮৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা খরচ হয়। যা ছিলো মোট বরাদ্দের ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে এডিপি বাস্তবায়নের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইএমইডি।

জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের দিক থেকে এবারই গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম টাকা খরচ হয়েছে।

এর আগে জুলাই-ফেব্রুয়ারি হিসাবে কোভিডের বছরে (২০২০-২১ অর্থবছর) ৭২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। পরের দুই বছরের প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ হাজার কোটি টাকা করে খরচ হয়েছিল।

আইএমইডির সদ্য অবসরে যাওয়া সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের দীর্ঘ দিনের প্র্যাকটিস এডিপি বাস্তবায়ন প্রথম দিকে কম হবে। দ্বিতীয়ার্ধে বেশি বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সময়ের সাথে অর্থ বছরের শেষের দিকে বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসের পর থেকে বাস্তবায়নের গতি বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, আইএমইডি প্রতিবছর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। সেই প্রতিবেদনে বাস্তবায়ন কম বা অর্থ বছরের শেষের দিকে গিয়ে তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়নের কারণগুলো চিহ্নিত করে তুলে ধরা হয়। কিন্তু সরকার সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় না। তাই বছরের পর বছর এডিপি বাস্তবায়ন পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয় না।

আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে চলমান প্রকল্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ দিতে না পারায় এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন; ক্ষমতার পটপরিবর্তন এবং ঠিকাদার ও প্রকল্প পরিচালকদের খুঁজে না পাওয়া—সবকিছুর প্রভাব পড়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।

গত বছরের মে মাসে শেখ হাসিনার সরকার ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছিল। বাজেট দেওয়ার পর অভ্যুত্থানে পতনের আগে এক মাস হাতে পেয়েছিল ওই সরকার।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকার অর্থ বছরের শেষ ভাগে এসে এডিপি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ কমানোয় সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারি অর্থায়ন অংশে বাস্তবায়ন হার সবচেয়ে কম। এক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়েছে ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ বা ৩৪ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। এটি প্রথম আট মাসের গড় বাস্তবায়নের চেয়ে কম।

বৈদেশিক সহায়তা অংশে বাস্তবায়িত হয়েছে ২৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ বা ২৭ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। আর সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন অংশে বাস্তবায়িত হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩১ শতাংশ বা পাঁচ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

৭ মন্ত্রণালয়/বিভাগের বাস্তবায়ন ১০ শতাংশের কম

মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বাস্তবায়ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে সাত মন্ত্রণালয় ও বিভাগ উন্নয়ন কাজে ব্যয় করতে পেরেছে বরাদ্দের ১০ শতাংশের কম অর্থ।

বাস্তবায়নে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। ৪ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভাগটি ব্যয় করেছে ২০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ।

বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বরাদ্দের বিপরীতে আট মাসে তারা ব্যয় করেছে ২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জন্য ৭৫৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ ছিল, বিভাগটি ব্যয় করেছে মাত্র ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ভূমি মন্ত্রণালয় ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে।

বাস্তবায়নে এগিয়ে থাকা মন্ত্রণালয়/বিভাগ

বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জ্বালানি ও খনি সম্পদ বিভাগ। বিভাগটির জন্য ৪ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ। প্রথম আট মাসে তারা ৩ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৮৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ব্যয় করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রথম আট মাসে ব্যয় করেছে বরাদ্দের ৭৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাস্তবায়নের হার ৭২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বাস্তবায়ন পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের বাস্তবায়ন হার ৪৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

বেশি বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন ২৬ শতাংশ

বেশ বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ৪২ শতাংশ ব্যয় করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৩৭ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ব্যয় করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাদ্দের প্রায় ৩৫ শতাংশ, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রায় ৩০ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৭ শতাংশ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২৪ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ২২ শতাংশ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ ১৯ শতাংশ এবং সেতু বিভাগ প্রায় ১৯ শতাংশ ব্যয় করেছে।

এম জি

শেয়ার

পাঠকের মতামত

রপ্তানি খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের রপ্তানি খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সোমবার ...

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ...

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণায় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক পাচ্ছে বাংলাদেশ

নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে ...

বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবানের ওপর: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের ...

অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ...