বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৫ ৫:০৪ পিএম

রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে গঠিত হচ্ছে নতুন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়- “ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়”। এই সাত কলেজ হলো: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

দীর্ঘদিন ধরে এই সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালীন শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যায় পড়েন: দীর্ঘ সেশন জট, রেজাল্ট প্রকাশে বিলম্ব, গনহারে ফেইল, ক্লাস না হওয়া, শিক্ষক সংকট, পরিচয় হীনতা ইত্যাদি। এই ভোগান্তির সমাধান চেয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কোনো আশানূরুপ ফলাফল না পেয়ে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দাবি উঠে রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করতে হবে— যা হবে প্রশাসন ও একাডেমিক দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও শিক্ষাবিদদের আলোচনায় গঠিত হয় “ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়” গঠনের প্রস্তাব।

সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার ইউজিসিকে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫’ চূড়ান্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে এখানেই উঠেছে বিতর্ক- চলমান ব্যাচের শিক্ষার্থীরা কি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পড়বেন? নাকি তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই তাদের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করবেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে, নীতিগতভাবে হয়তো চলমান ব্যাচকে ঢাবির অধীনেই রাখা হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই তাদের একাডেমিক জীবন শেষ করতে চান এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেই সার্টিফিকেট পেতে চান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা জানিয়েছে।

চলুন দেখি অতীত বাস্তবতা কি বলে

১. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়(জাককানইবি)
স্থান: ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
শুরুর ধরণ: প্রথমে এটি কলেজের মতো শুরু হয়েছিল, পরে ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
বাস্তবতা: তখনকার চলমান পরিক্ষার্থীদের জাককানইবি -এর অধীনে আনা হয়।
কারণ: নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে তাদের অন্তর্ভুক্তির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।

২. চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়
আদি রূপ: এটি মূলত ছিল “ফ্যাকাল্টি অব ভেটেরিনারি সাইন্স চিটাগাং”, চট্টগ্রাম কৃষি কলেজের অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর: ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হয়।
বাস্তবতা: চলমান ছাত্রদেরই প্রথম ব্যাচ হিসাবে সিভিএসইউ-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ফলাফল: সনদ, গবেষণা, ক্লাস—সবকিছু নতুন প্রতিষ্ঠানের অধীনে হয়।

৩. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পূর্ব রূপ: পাবনা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের একটি অংশ, পরে ২০০৮ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়।
বাস্তবতা: চলমান ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেয়া হয়।
কারণ: নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষক, কোর্স, সনদ—সবকিছু ঢেলে সাজানো হয় এবং চলমান ছাত্ররাই প্রথম লাভবান হয়।

৪. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর(বেরোবি)
পূর্ব অবস্থা: বিভিন্ন কলেজ ও কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থী ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর: ২০০৮ সালে পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হয়।
বাস্তবতা: চলমান ছাত্রদের বেরোবি-এর অধীনে আনা হয়।
উদ্দেশ্য: সঠিক একাডেমিক পরিচয়, নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন এবং স্বতন্ত্র সনদ নিশ্চিত করা।

৫. হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পূর্ব রূপ: দিনাজপুর কৃষি কলেজ
বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর: ১৯৯৯ সালে
বাস্তবতা: কলেজের চলমান ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হয়।
কারণ: একই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় আলাদা করে রাখার যৌক্তিকতা ছিল না।

৬. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)
পূর্ব নাম: জগন্নাথ কলেজ
বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর: ২০০৫ সাল
বাস্তবতা: কলেজের চলমান ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হয়।

সুতরাং বাস্তবতা বলছে: দেশের প্রায় সব নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় চলমান শিক্ষার্থীদেরই নতুন প্রতিষ্ঠানের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও যদি সেই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়, তাহলে এই সাত কলেজের চলমান শিক্ষার্থীরাও এর অধীনে পড়বেন এবং এটাই হবে যৌক্তিক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।

ইউশাহ বিন আলম
ডিপার্টমেন্ট: গণিত
সেশন: ২১-২২
কবি নজরুল সরকারি কলেজ

 

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি: সুযোগের বাজারে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ, কী হতে পারে উত্তরণের পথ?

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে, যখন দুই ...

বাণিজ্য ঘাটতির বাড়ন্ত চাপ: কাঠামোগত সংস্কারই টেকসই অর্থনীতির একমাত্র পথ

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দেড় দশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোচিত প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। মাথাপিছু আয় ...