জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬ ৮:২৭ পিএম

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা এবং দাফনের স্থান নিয়ে তার চার স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় মরদেহ দাফন করতে হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রসুলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল জলিল পণ্ডিত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পূর্বের চার স্ত্রীর ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে এসে ওয়ারিশ সূত্রে সম্পত্তির হিসাব ও অংশ দাবি করেন।

এ সময় জলিল পণ্ডিতের ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবার কোনো সম্পত্তি নেই এবং অন্য কেউ কোনো অংশ পাবে না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

এরই মধ্যে জলিল পণ্ডিতের ছোট ঘরের প্রাক্তন জামাতা খোকন অভিযোগ করেন, তার উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুর এবং স্ত্রী স্মৃতির কাছে গচ্ছিত ছিল। সেই অর্থ দিয়ে দুটি বসতঘর ও জমি কেনা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালে তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার পরও তার সম্পদ ফেরত দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় নিজের সম্পত্তি বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মরদেহ দাফন করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

কিন্তু দাফনের সময় আবারও বিরোধ দেখা দেয়। বড় তিন স্ত্রীর সন্তানদের দাবি, তাদের বাবা জীবিত অবস্থায় বাড়ির সামনে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে ছোট ঘরের মেয়ে স্মৃতি মরদেহ বাড়ির বাইরে অন্য কোনো কবরস্থানে দাফনের পক্ষে অবস্থান নেন।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বেঁধে গেলে খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশি পাহারায় বসতঘরের সামনেই মরদেহ দাফন করা হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

মোড়লগঞ্জ-শরণখোলা-খুলনা রুটে বিআরটিসির নৈরাজ্য অনিয়মে অতিষ্ঠ যাত্রীরা

বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ-শরণখোলা-খুলনা রুটে চলাচলকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বাস সেবাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে ...