রাশেদ রুবেল
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ ৪:৩১ পিএম , আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ ৪:৩৩ পিএম

বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। দেশের দুই কোটিরও বেশি নাগরিক উন্নত জীবন এবং নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য প্রবাস জীবন বেছে নিয়েছেন। দেশে থাকা পরিবার পরিজনের জন্য প্রতিনিয়ত রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সেই রেমিট্যান্স দেশের সরকারের জন্য নিয়ে এসেছে আশীর্বাদ হিসেবে অর্থনীতির ভীত। তা দিয়ে সরকার বৈদেশিক ধার-দেনা পরিশোধ করছে। এভাবে প্রবাসী আয় হয়ে উঠেছে দেশের জাতীয় সম্পদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের প্রবাসীদের অবস্থান সবচেয়ে বেশি রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, ডুবাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্যসহ শতাধিক দেশ। এসব দেশের কয়েক কোটি প্রবাসীদের সেবায় যে দূতাবাস রয়েছে তাদের সেবায় সন্তুষ্ট নন প্রবাসীগন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের তুলনায় দূতাবাসগুলো যে সেবা প্রদান করে তার সূচকে বাংলাদেশ অনেক নিচে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে অনেকগুলো বাধা রয়েছে বাংলাদেশের জন্য। তার মধ্যে অন্যতম প্রশিক্ষন ব্যবস্থা অপ্রতুল, মানবপাচারকারী দালালের দৌড়াত্ম, জনশক্তি রপ্তানি ব্যুরোর অসহোযোগিতা। তারপরও বাংলাদেশ রেমিট্যান্স এর দিকে দিয়ে বিশ্বের সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।

প্রবাসী আয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে ২০২৫ এর জুলাই মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠানোয় শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। পরের অবস্থান রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য। জুলাইয়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। তারমধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৪২ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য (ইউকে), মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ওমান, কুয়েত, কাতার ও সিঙ্গাপুর।
প্রতিবেদনে জানা যায়, তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। এ ছাড়াও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২২ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার, ইতালি থেকে ১৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার, ওমান থেকে ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার, কুয়েত থেকে ১৩ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলার, কাতার থেকে ১০ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলার ও সিঙ্গাপুর থেকে আট কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

এদিকে, আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশের হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব কমেছে । সেই কারণে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যন্স প্রবাহ ছিলো মাত্র ২৩.৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২৩ এর তুলনায় ২৬.৮০ শতাংশ বেশি। তার মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে ৩.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে প্রবাসী আয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পাওয়া ২.৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১২৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

এছাড়া, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ৬৪৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ০২ শতাংশ।

এর আগে গত আগস্টে দেশে এসেছে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে প্রবাসীরা প্রায় ২.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্স প্রবাহের শীর্ষে রয়েছে সৌদ আরব। হিসেবে দেখা যায় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে ২.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বর মাসে ৮০.২৮ শতাংশ বেড়ে হয় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ধারাবাহিকতায় অক্টোবরে ২.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, নভেম্বরে ২.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ডিসেম্বরে ২.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জানুয়ারিতে ২.১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মার্চে ৩.২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এপ্রিলে ২.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মে মাসে ২.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জুন মাসে ২.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জুলাই মাসে ২.৮০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে।

তবে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারী ব্যংকগুলো প্রবাসীদের জন্য সচেষ্ট হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ব্যাংকগুলোর পক্ষে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ প্রোডাক্ট অফার করছে। কেউ ডিপোজিট এর উপর বাড়তি ইনটারেস্ট, আবার কেউ ফিক্সট ডিপোজিট ও ডিপিএস এর উপর বাড়তি ইন্টারেস্ট দিচ্ছেন। এভাইে সবাই প্রবাসীদের আকৃষ্ট করছেন। প্রতি বছরই নতুন নতুন পণ্য সংযোজন করেছে। সবার আগে এবং সবচেয়ে দ্রুত সেবা কিভাবে দেয়া যায় প্রবাসীদের তা নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ইসলামী ব্যাংকে ৪৯৬ কোটি ৬৪ লাখ বা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ২৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক। তারপর, জনতা ব্যাংক ২১৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, কৃষি ব্যাংকে ২১১ কোটি ১২ লাখ ডলার, ব্র্যাক ব্যাংকে ২০৪ কোটি ৫৭ লাখ ডলার, ট্রাস্ট ব্যাংকে ১৮২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, রূপালি ব্যাংকে ১৪৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলার এবং সোনালী ব্যাংকে ১৭০ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তবে ২০২৫ সালে জুলাই মাসে মোট ৬১ টি ব্যাংকের মধ্যে ৭ টি ব্যাংকে এবং ২০২৪-২৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে কোনো প্রবাসী কোন রেমিট্যান্স পাঠায়নি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়।

আরো জানা যায়, প্রায় শতকোটি টাকার রেমিট্যান্স পাঠানোর কোটায় আরো একডজন ব্যাংক রয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৭৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৬৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার, ব্যাংক এশিয়ায় ৭৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, যমুনা ব্যাংক ৪২ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলো হলো, ডাচ বাংলা ব্যাংকে ৪০ কোটি ১৬ লাখ ডলার, সাউথইস্ট ব্যাংকে ৫০ কোটি ৫২ লাখ ডলার, ঢাকা ব্যাংকে ৭৭ কোটি ১৪ লাখ ডলার, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ৭৭ কোটি ১১ লাখ, স্টান্ডার্ড ব্যাংকে ৫০ কোটি ১৩ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ রেমিট্যান্স পাঠায়িছে প্রবাসীরা বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এমনটি জানা যায়।

আরো জানা যায়, দ্যা সিটি ব্যাংকে ৮০ কোটি ২৫ লাখ ডলার, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকে ৫২ কোটি ১৬ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকে ৫৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, এবি ব্যাংকে ৩২ কোটি আট লাখ ডলার, পূবালি ব্যাংকে ৫২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, নাশনাল ক্রেডিট এন্ড কর্মার্স ব্যাংকে ৬৩ কোটি ৬৩ লাখ ডলার এবং ইস্ট্রার্ন ব্যাংকে ৩৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বিভাগ হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্স নিয়ে হালনাগাদ তথ্যে এমনটি জানা যায়। আরো জানা যায়, ঢাকাতে ৫৯ শতাংশ বা ১৫.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসলেও অন্যান্য বিভাগে অনেক কম। দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ শতাংশ বা ৮.১ বিলিয়ন ডলার। তারপর, বরিশাল বিভাগে ২ শতাংশ বা ৮৪ কোটি ডলার, সিলেট বিভাগে ৭ শতাংশ বা ২.৬ বিলিয়ন ডলার, রংপুর বিভাগে ১ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ডলার, রাজশাহী বিভাগে ৩ শতাংশ বা ১ বিলিয়ন এর বেশি ডলার, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ শতাংশ বা ৬০ কোটি ডলার এবং খুলনা বিভাগে ৪ শতাংশ বা ১.৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

জেলা ভিত্তিক রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষে রয়েছে ঢাকা জেলা। ঢাকা জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০.৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তারপর শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা ২ বিলিয়ন ডলার, সিলেট জেলা ১.৩ বিলিয়ন ডলার, রংপুর জেলা ১.১ বিলিয়ন ডলার এবং কুমিল্লা জেলা ১.৬ বিলিয়ন ডলার। এদিকে বরিশাল সদর জেলায় ৩৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যশোর জেলায় ২৩ কোটি ডলার, কুষ্টিয়া জেলায় ২০ কোটি ডলার এসেছে। ময়মনসিংহ জেলায় ৩৭ কোটি ডলার, বগুড়া জেলায় ২০ কোটি ডলার, পাবনা জেলায় ১৭ কোটি ডলার, বগুড়া জেলায় ২০ কোটি ডলার এবং মৌলভিবাজার জেলায় ৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের দক্ষকর্মী ও উচ্চশিক্ষার বিস্তারের মধ্যে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পেছনে বড় বাধা হলো দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারা। আর দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের বড় বাধা হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এ জটিলতা এখন ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। দেশের মানুষ যখন মধ্যপ্রাচ্যে বেশি যাচ্ছে ঠিক তখনই আরবি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। এভাবেই রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি ও জাল ভিসার দালাল চক্র মোকাবেলা করা সম্ভব না হলে রেমিট্যান্স একসময় মুখ থুবরে পরবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স এর প্রভাব ও এর বাধা দূরীকরনে করনীয় নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশে বেড়েছে, আগামীদিনেও আরো বাড়বে। তার জন্য অর্থপাচার রোধে কাজ করতে হবে, স্কিল ওয়ার্কার ডেভেলপ করতে হবে এবং কষ্ট অফ সেন্ডিং কমাতে হবে বা দালাল মুক্ত করতে হবে। তবে আগামী দিনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পলিটিক্যাল ফ্যাইন্যান্সও আসবে রেমিট্যান্স হিসেবে।

রেমিট্যান্স-এর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূখপাত্র আরিফ হোসেন খান দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিনকে জানান, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতে আশীর্বাদ সরূপ। বিগত সরকারের সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই, আগস্টে ২ মাস ও সেপ্টেম্বরের ১০ দিনে ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সেই হিসেবে ও ঈদ হিসেব করলে ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। সকল তফসিলী ব্যাংকের আলাদা রেমিট্যান্স নিয়ে পরিকল্পনা এবং প্রচারণা রয়েছে। আগামী দিনেও রেমিট্যান্স হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এআইর ব্যবহার সম্ভাবনাময়

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ব্লকচেইনের ব্যবহার সম্ভাবনাময় বলে জানিয়েছেন আলোচকরা। শনিবার (১৯ জুলাই) ...

এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ ও ক্রয়ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে টিসিবি

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং সরকারি ...

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানিতে বেপজার অবদান সাড়ে ১৭ শতাংশ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও দেশের সামগ্রিক রপ্তানি হ্রাসের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন ...

ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় যাবে আর্থিক সেবা : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে মানুষের সেবা ...

বাজার মনিটরিং আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার তাগিদ বাণিজ্য সচিবের

বাজার মনিটরিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়, আন্তরিক সহযোগিতা ...