

বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করে ব্যবসায়ীরা। এই কাচাঁমালগুলো প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির জন্য পণ্য তৈরি করা হয় সাধারণত। বন্ড সুবিধার অবৈধ ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। বন্ড সুবিধা গ্রহণ করে আমদানি করা কাচাঁমাল খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেন। এতে রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
২০২২-২৩ অর্থবছরে কাস্টমস হাউস ও কমিশনারেট সমূহের প্রধান পাঁচটি মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করে খোলা বাজারে বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়। এই মামলাগুলো গত সাড়ে তিন বছরেরও নিষ্পন্ন করতে পারেনি। কোন ধরনের পণ্য উদ্ধারও করতে পারেনি। মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন। এনবিআর থেকে প্রকাশিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
গাজীপুর সদর ভবানীপুরে অবস্থিত সোয়ান নীট কম্পোজিট লিমিটেড (নিবন্ধন বা বিআইএন নং ০০০২৫৯১২৪০১০৩) বন্ড সুবিধায় পন্য আমদানি করে রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার না করে খোলা বাজারে বিক্রি করেছিল। এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি ও রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রতিষ্ঠানটি ডিসেম্বর ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত অর্থাৎ এক বছরে ২৩ টি বি/ই এর মাধ্যমে বন্ড সুবিধা নিয়ে অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি দেয়। পণ্যের বাজার মূল্য ৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অবৈধভাবে বিক্রি করা এসব পণ্য আটক করা যায়নি। এই সংশ্লিষ্ট মামলাটি গত তিন বছরেও এখনো নিষ্পন্ন হয়নি।
গাজীপুর সদর ভবানীপুরে অবস্থিত বিজি কালেকশন লিমিটেড (বন্ড লাইসেন্স নং ৯৮৩ /কাস এসবিডব্লিউ/২০০৮) বন্ড সুবিধায় পন্য আমদানি করে রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার না করে খোলা বাজারে বিক্রি করেছিল। এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি ও রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রতিষ্ঠানটি ডিসেম্বর মাসে মোট ০৬ টি বি/ ই এর মাধ্যমে বন্ড সুবিধা নিয়ে অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি দেয়। পণ্যের বাজার মূল্য ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অবৈধভাবে বিক্রি করা এসব পণ্য আটক করা যায়নি। এই সংশ্লিষ্ট মামলাটি গত তিন বছরেও এখনো নিষ্পন্ন হয়নি। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।
গাজীপুর সদরে অবস্থিত সোয়ান নীট কম্পোজিট লিমিটেড (বি/ ই নং সি ১২০৬৫০৬) আমদানি রাজস্ব ফাঁকি দিতে অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল। পণ্যের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৬০ কেজি পিগমেন্ট। ২০১৮ সালে অপকৌশল ও রাজস্ব ফাঁকি দেয়। পণ্যের বাজার মূল্য ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অবৈধভাবে বিক্রি করা এসব পণ্য আটক করা যায়নি। এই সংশ্লিষ্ট মামলাটি গত ৭ বছরেও এখনো নিষ্পন্ন হয়নি। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।
পিয়াংকা ফ্যাশন লিমিটেড (বি/ ই সি ৯৬৬৩০৫) বন্ড সুবিধায় ভেলভেট ফেব্রিক্স আমদানি করে রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার না করে খোলা বাজারে বিক্রি করেছিল। এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি ও রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়।পণ্যের পরিমাণ ৬০ হাজার ৬৯০ কেজি। পণ্যের মূল্য ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা লাখ টাকা। অবৈধভাবে বিক্রি করা এসব পণ্য আটক করা যায়নি। এই সংশ্লিষ্ট মামলাটি গত তিন বছরেও এখনো নিষ্পন্ন হয়নি।
ঢাকার সাভারে অবস্থিত পিয়াংকা ফ্যাশন লিমিটেড (বন্ড লাইসেন্স নং ৫০৭/কাস-পিবিডব্লিউ/২০০০৯) বন্ড সুবিধায় পলিস্টার ইয়ার্ন ও সিলিকন ওয়েল বন্ড রেজিস্টারে এন্ট্রী না করে খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেয়। এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি ও রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পণ্যের পরিমাণ ১০ লাখ ২০ হাজার ৭৫৫ কেজি। বাজার মূল্য ১ কোটি ৮১ লাখ। অবৈধভাবে বিক্রি করা এসব পণ্য আটক করা যায়নি। এই সংশ্লিষ্ট মামলাটি গত তিন বছরেও এখনো নিষ্পন্ন হয়নি।
এদিকে বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির নামে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ককর ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা উত্তরের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। গতকাল শনিবার ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের অভিযানে মেসার্স নেত্রকোনা অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের প্রায় ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে।
বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির নামে তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা শুল্ককর ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা উত্তরের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি হলো গাজীপুরের শ্রীপুরের কেওয়া পূর্বখন্ড কেওয়া বাজার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স নেত্রকোনা অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড।
সাম্প্রতিক ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় ৬৬০ মেট্রিক টন কাঁচামাল আমদানির প্রমাণ পাওয়া যায়। যেখানে পণ্য তৈরি না করে অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঢাকা (উত্তর) বন্ড কমিশনারেট অফিস সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরের কেওয়া পূর্বখ- কেওয়া বাজারে অবস্থিত মেসার্স নেত্রকোনা অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধা বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণ করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে বলে তথ্য পায় বন্ড কর্মকর্তারা। এরই ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বন্ড ঢাকা উত্তর কমিশনারেটের একটি প্রিভেন্টিভ টিম প্রতিষ্ঠানটির বন্ডেড ওয়্যারহাউজে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে দেখা যায়, গার্মেন্টস ও তৈরি পোশাক (নীট) কারখানাটির সর্বশেষ ইউটিলাইজেশন পারমিট (ইউপি) ইস্যু হয়েছিল চলতি বছরের ২০ জুলাই। যার আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল শুধু রপ্তানিমুখী পণ্যে ব্যবহারের অনুমতি ছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি এসব কাঁচামালের বড় একটি অংশ উৎপাদনে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে রাজস্ব ফাঁকি অনেক হয়। সরকার রপ্তানি বাড়াতে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। এরমধ্যে অন্যতম সুবিধা বন্ড। এই সুবিধাকে অবৈধ ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকি দেয় কিছু ব্যবসায়ী। এর ফলে রপ্তানি মান খুন্ন হয়। রাজস্ব ফাঁকিও বাড়ে। এর অন্যতম কারণ মামলা হলেও তাড়াতাড়ি নিষ্পন্ন হয় না। এছাড়া তদন্ত করেও মালামাল উদ্ধার করতে পারছে না।
এম জি
- ১সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
- ২সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন
- ৩মার্জিন বিধিমালার সংশোধনী গেজেট প্রকাশ
- ৪লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি
- ৫ন্যাশনাল হাউজিংয়ের কর্পোরেট পরিচালকের শেয়ার বিক্রয়ের ঘোষণা
- ৬বেরোবিতে শিক্ষার্থীদের থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা অতিরিক্ত ফি আদায়
- ৭দুদক কমিশনার হলেন সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া
- ৮কালকিনিতে তিন ব্যবসায়ীকে ৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা
- ৯কয়রায় নিজ বাড়ি থেকেই ইয়াবাসহ আটক ২
- ১০ন্যানোপ্রযুক্তি নিয়ে বাংলা ভাষায় বই প্রকাশ যবিপ্রবি অধ্যাপকের
- ১ছাত্রদলের শীর্ষ পদে সর্বোচ্চ আলোচনায় জবির জিয়াউদ্দিন বাসিত
- ২ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ন্যাশনাল ব্যাংকের ‘সিএএসএ’ ক্যাম্পেইন
- ৩এসএসসিতে ১২ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন, আরও বাড়তে পারে
- ৪চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে বন্যার শঙ্কা
- ৫উপসচিব হলেন ২৭৭ কর্মকর্তা
- ৬বাংলাদেশ-কানাডা প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে আলোচনা
- ৭অভিযানে জব্দ দুই কোটির মালামাল এজাহারে হয়ে গেল ৩ লাখ টাকা
- ৮দর বৃদ্ধির শীর্ষে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স
- ৯ব্লক মার্কেটে লেনদেন ২৫ কোটি টাকার
- ১০চাঁদপুরে অচেতন করে স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২





পাঠকের মতামত