বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১০:০৪ এএম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘সেন্টার ফর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন (CDT) ফি’ নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় সাত লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দলের প্রতিবেদনে এ অর্থ আদায়কে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘সেন্টার ফর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ফি’ বাবদ ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ খাতে মোট ৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা আদায়ের বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দপ্তর, সেন্টার বা বিভাগের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় এবং সেই অর্থ ব্যয়ের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করেছে ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দল।

ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল ২০২৫ সালের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ওই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক খাত পর্যালোচনা করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভর্তি ফির বাইরে ‘সেন্টার ফর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ফি’ নামে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি কাঠামোর বাইরে এ ধরনের অর্থ আদায় বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের এক শিক্ষার্থী আহমেদুল হক আলবির বলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে CDT-এর সেবা বাবদ যে অর্থ নেওয়া হচ্ছে, তা ইউজিসির বিধিবিধান অনুযায়ী নিয়মবহির্ভূত। নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করছে। অথচ অর্থ নেওয়া হলেও CDT-এর সেবার মান সন্তোষজনক নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এই অনিয়মের অবসান চাই। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় বন্ধ করে যথাযথ ও মানসম্মত ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

নিয়মের ব্যত্যয় করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ইউজিসি এর আগেও এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আমাদের ভর্তি কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরা এটা আর নেওয়া হবে।

আদায় করা প্রায় সাত লাখ টাকা কোথায় ও কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে অর্থ নেওয়া হয়েছে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের ফি আদায়ের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসির বিধিবিধান ও অনুমোদিত ফি কাঠামো অনুসরণ করতে হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে আদায় করা অর্থের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ফি আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাকৃবিতে ডাইরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু, নেতৃত্বে লিপি-মনির

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কর্মকর্তাদের নতুন সংগঠন বিএইউ ডাইরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রথম আহ্বায়ক কমিটি গঠন ...

বাকৃবির অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায় আসছে অটোমেশন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া ...

ঢাকা কলেজস্থ সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রকল্যাণের ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ঢাকা কলেজস্থ সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ ‘যমুনা’র উদ্যোগে জার্সি উন্মোচন, ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ...

একাডেমিক মাইগ্রেশন ইস্যু ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ২৯ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ২৬ শতাংশ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে একাডেমিক মাইগ্রেশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত গ্রহণের ভোটে ২৯ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৩০০ ...

নীতিমালা উপেক্ষা করে ইবিতে সভাপতি নিয়োগ, তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে ...

খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে ইবিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সবুজ ও নির্মল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ  কর্মসূচি করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা ...