বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬ ৫:৩২ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নিরাপদ সবজি উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের এমএস শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ‘ডেভেলপমেন্ট অব কমার্শিয়াল বায়োপেস্টিসাইড বেইজড অন নেটিভ এনটোমোপ্যাথোজেনিক ফাঙ্গাই (ইপিএফ) ফর সেইফ ভেজিটেবল প্রোডাকশন থ্রু একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রকল্পটি হিট-এটিএফ এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা রানী দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের সাব-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (এসপিএম) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার।

অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কৃষিতে রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গবেষণা ও শিল্পখাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন বলেন, কৃষির উন্নয়নে উদ্ভাবনী গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার ফলাফল তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা কৃষকের কাছে সহজলভ্য, নির্ভুল ও ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হিসেবে পৌঁছাতে পারে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার মানোন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষিখাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি প্রকল্প। আমি সবসময় দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে থাকি। কারণ দেশীয় পণ্য হারিয়ে গেলে আমরা বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ব। তাই দেশীয় কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়নে আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে। দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে জৈব বালাইনাশক উৎপাদনে গবেষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে যদি এমন কোনো কার্যকর জৈব বালাইনাশক উদ্ভাবন করা যায়, যা রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরব বয়ে আনবে এবং দেশের কৃষিখাতও উপকৃত হবে। আমি এ প্রকল্পের সার্বিক সফলতা কামনা করছি।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ রাবি ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ছুরি ও অস্ত্রের ...

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ...

জুলাই নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইবিতে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ...

ইবিতে জুলাইয়ের সম্মুখসারীর নেতাদের আগমন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ...

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

শেরপুরে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ...

 যুক্তরাষ্ট্রের সিএইএস এর সাথে যবিপ্রবির এনএএমই ল্যাবের সমঝোতা

ন্যানোপ্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি উদ্ভাবন ও গবেষণায় যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য কানেকটিকাট এগ্রিকালচারাল এক্সপেরিমেন্ট ...