প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৪ ৬:৩৮ পিএম

চলতি বাজেটে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্ল্যান্ট, ইকুইপমেন্ট ও ইরেকশন ম্যাটেরিয়াল আমদানিতে শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এতে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পণ্যের উৎপাদন খরচে। বিশেষ করে কৃষিতে উৎপাদন খরচ বাড়বে।

এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (৬ জুন) ঘোষিত বাজেটে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি এবং জ্বালানি খাতে ১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সংসার চালাতে মানুষ দিশেহারা। সংসারের বোঝা বইতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকারের কাছে মানুষের একমাত্র চাওয়া দ্রব্যমূল্যের দাম যেন কম হয়। স্বল্প আয়ে কীভাবে সংসার ব্যয় মেটানো যায় তা নিয়ে চিন্তায় মানুষ। এর উপরে যদি বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ে তাতে কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। শুধু তাই না ব্যক্তি পর্যায়ে সংসারের খরচ বাড়তে পারে বেশ।

বিগত ১৫ বছরে গ্রাহক পর্যায়ে ১৪ বার বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। পাইকারি পর্যায়ে বেড়েছে ১২ বার। ২০২৩ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে তিনবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। যার প্রভাব এখনও রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে সবকিছুর ওপর।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এর তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ১৬ লাখ সেচযন্ত্র আছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ ডিজেলচালিত, বাকি বিদ্যুৎচালিত। অন্য একটি হিসেবে বোরো মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ব্যবহার হয়। আর বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রের সংখ্যা প্রায় চার লাখ ৩৩ হাজার। এই বিপুল পরিমাণ সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিতে কৃষকের ব্যয় বাড়বে।

রাজশাহী মহানগরীর মোহনপুর উপজেলার কৃষক মাসুদ রানা জানান, এমতিতেই কৃষি কাজে ব্যয় বেড়েছে। শ্রমিক থেকে শুরু করে সবকিছুতেই দ্বিগুণ বেড়েছে খরচ। তার উপরে যদি বিদ্যুতের দাম বাড়ে তাহলে খরচ আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, ফসল উৎপাদন করতে যেভাবে ব্যয় বেড়েছে কিন্তু সেভাবে ফসল উৎপাদন করে লাভ করা যাচ্ছে না। এদিকে ব্যয় বাড়তেই আছে অন্যদিকে ফসল উৎপাদন করে তেমন লাভ হচ্ছে না। এর উপরে যদি বাজেটের পর আবার যদি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পায় তাহলে তো সমস্যায় পড়তে হবে।

নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার শুড়িপুকুর গ্রামের কৃষক মানিক মণ্ডল জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টি কমেছে। তাই বৃষ্টির পানির দিকে তাকিয়ে থেকে আবাদ ঘরে উঠানো যায় না। সেচের উপরেই নির্ভর করতে হয়। চলতি বোর মৌসুমে প্রতি বিঘা জমি সেচ দিতে খরচ হয়েছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। আগের মৌসুমে সে খরচ হয়েছিল এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা। কৃষক মানিক মণ্ডল জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় এমনিতেই বেড়েছে সেচ খরচ। তার উপরে যদি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পায় তাহলে ধান চাষে ব্যয় আরো বেড়ে যাবে।

এআরএস

শেয়ার

পাঠকের মতামত

জামায়াতের এমপি মোমিনের ইমামতিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতি

পাবনার সাঁথিয়ার একটি মসজিদে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতীতে জুম্মার ...

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণায় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক পাচ্ছে বাংলাদেশ

নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে ...

উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর খাবার নিয়ে নানা অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতীতে অবস্থিত উল্লাপাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার ও ...

বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবানের ওপর: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের ...

অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ...