প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২১ ৫:০০ পিএম

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ ভিন্ন ভিন্ন একাধিক প্রতিষ্ঠান রেস্তোরাঁয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকে। তাই মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

শনিবার ( ২০ নভেম্বর ) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে সমিতিরি পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। মূল প্রবন্ধে ভিন্ন ভিন্ন নয়টি দাবি তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করেছেন। তার পরেও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ের অভাবে নিরাপদ খাদ্য বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সারা দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রেস্তোরাঁ খাতের সাথে জড়িত। সরকারি ভাবে এই খাতকে শিল্পের মর্যাদা না দেওয়ায় অবহেলিত এই খাত। এই খাতকে শিল্পে মর্যাদা দেওয়ার কথা জানান তারা।

আরও বলা হয়, রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রদানে ওয়ান স্টপ পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এ বিষয়ে অবিলম্বে টাস্কফোর্স গঠন করে একটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়ে আসতে হবে। কেননা কোন রেস্তোরাঁকে অনুমোদন পেতে এবং তা নবায়ন করতে ভিন্ন ১১ টি প্রতিষ্ঠানের শরনাপন্ন হতে হয়। যেখানে ছোট ছোট উদ্যোগক্তাদের শিকার হতে হয় হয়রানীর। নবায়নের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে তিন বছর করার দাবি করা হয়।

প্রবন্ধে বলা হয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ ভিন্ন ভিন্ন একাধিক প্রতিষ্ঠান রেস্তোরাঁয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকে। তাই মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দ, লোকাল কাউন্সিলর, সাংবাদিদের অর্ন্তভূক্ত করতে হবে যাতে করে নিরপেক্ষ ভাবে মোবইল কোর্ট পরিচারিত হয়।

এছাড়াও এতে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সমূহ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেস্তোরাঁ মালিকগণ। অনলাইন ডেলিভারী, টেকওয়ে ও পার্সেল সেবা দিয়ে থাকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ। যেখানে ১০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার নীতিমালা ছিল সেখানে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৪০ শতাংশ । তা অতিদ্রুত নিয়ন্ত্রণ জরুরী। কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়াতে অনেক অঞ্চলের রেস্তোরাঁর টাকা আটকে গিয়েছে বলে জানান তারা।

সম্মেলনে রেস্তোরাঁ সমূহে দামের বৈষম্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক জিজ্ঞাসার জবাবে বলা হয়, সেবার মানের উপরে দাম নির্ভর করে থাকে। অনেক রেস্তোরাঁর খাবার খরচ ছাড়াও আনুষাঙ্গিক অনেক বাড়তি খরচ থাকা। উন্নত খাদ্য উপাদান ব্যবহার, দক্ষ জনবল নিয়োগসহ বাড়তি সুবিধা প্রদান করে থাকে। যার ধরুণ দামের এমন বৈষম্য হয়ে থাকে।

এছাড়াও সম্মেলনে কর্মীদের বেতন কাঠামো এবং সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলা হয়, কর্মীরা দৈনিক পরিশ্রমিকে কাজ করতে আগ্রহী। তাছাড়া তাদের চাহিদার আলোকেই তাদের সুবিধা দেওয়া হয় বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মোঃ ওসমান গণি, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খন্দকার রুহুল আমিন এবং সমিতির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...